দেহে প্রবিষ্ট অ্যান্টিজেনকে প্রতিহত করার জন্য দেহে যে প্রোটিন তৈরি হয় তাই হলো অ্যান্টিবডি।
রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা জীবাণুর নির্যাস বা জীবাণু সৃষ্ট পদার্থ কিংবা সংশ্লেষিত বিকল্প পদার্থ থেকে উৎপন্ন যে বস্তু অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্নে উদ্দীপনা জোগায় এবং এক বা একাধিক রোগের বিরুদ্ধে দেহকে অনাক্রম্য করে তোলে তাকে ভ্যাক্সিন বলে। আর দেহে এ ভ্যাক্সিন প্রয়োগই হলো টিকা দেওয়া। মানুষের অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দেহাভ্যন্তরে সচল করতে টিকা ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে C দ্বারা ব্যাকটেরিয়া এবং A দ্বারা ত্বককে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেহের অন্যতম নন-স্পেসিফিক বহিঃস্থ প্রতিবন্ধক হলো ত্বক। ত্বকের বাইরের এপিডার্মিস স্তরটি জীবাণু বিরোধী যা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু প্রবেশে ভৌত প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। পানি ও পানিতে দ্রবীভূত যৌগের প্রতি অভেদ্যতা ত্বকের এ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অধিকন্তু আমাদের ত্বকের আলোকের প্রতি অপেক্ষাকৃত কম সংবেদনশীলতা আমাদের সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব হতে রক্ষা করে। ত্বক কোষের শুষ্কতা রোধ করে কোষের ভেতরের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের কিছু কোষ জীবাণু ধ্বংসের কাজ করে থাকে। এসব কোষের মধ্যে রয়েছে কেরাটিনোসাইট, ড্রেনড্রাইটিক কোষ, T-লিম্ফোসাইট, লিম্ফোটিক এন্ডোথেলিয়াম কোষ, গ্রানুলোসাইট, ম্যাক্রোফেজ ও মাস্ট কোষ।
উপর্যুক্ত কার্যকারিতার মানবত্বকে কতকগুলো ভাইরাস ছড়া এমন কোনো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নেই যা অক্ষত ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। কাজেই ব্যাকটেরিয়া বা C এর মতো জীবাণু ধ্বংসে ভৌতভাবে - A বা ত্বক কার্যকর ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে C বা ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু ধ্বংসে A ও B বা ত্বক ও পরিপাক তন্ত্রে উভয়েরই রাসায়নিক কার্যক্রম বিদ্যমান l
বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদান দেহের প্রতিরক্ষায় নানাভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। ত্বকে নিঃসৃত বা ক্ষরিত বিভিন্ন উপাদান যেমন এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে তেমনি পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রসও গৃহীত খাদ্যের সাথে প্রবেশকৃত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। মানব ত্বকের স্বেদগ্রন্থি ও ঘামগ্রন্থি থেকে যথাক্রমে তেল বা স্বেদ ও ঘাম ক্ষরিত হয়। এতে জীবাণুনাশক থাকে ও তা ত্বককে অ্যাসিডডক (pH ৩.৫-৫.০) করে তোলে। এমন পরিবেশে জীবাণু বাঁচতে বা বংশ বৃদ্ধি করতে পারে না। অন্যদিকে ত্বকে যেসব অক্ষতিকর বা উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলোও যে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য ত্যাগ করে সেসব পদার্থও ত্বকের ওপরের জীবাণু দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া অশ্রু, নালিকা ঝিল্লি ও কানের ভেতরের সেরুমিনাস গ্রন্থি ক্ষরিত সেরুমেন বা কানের মোমও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ রোধ করতে সচেষ্ট থাকে। কিছু ব্যাকটেরিয়া সবসময়ই খাদ্য বাহিত হয়ে দেহে প্রবেশ করে। লালারসের লাইসোজাইম এনজাইম প্রথমেই এদের ধ্বংস করতে তৎপর হয়। পাকস্থলির 'গ্যাস্ট্রিক রসে বিভিন্ন এনজাইম ও বিপুল পরিমাণ HCI থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু অর্থাৎ C কে সহজেই ধ্বংস করতে পারে। ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে ক্ষরিত পিত্তরস অ্যান্টিবডি উৎপন্নের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করে। এছাড়া অন্ত্রে বসবাসকারী কয়েক ধরনের, মিথোজীবী অণুজীব ক্ষরিত অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এবং সমগ্র পৌষ্টিকনালির বিভিন্ন এনজাইম ও মিউকাস ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
