ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নসমূহ যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে।
বিভিন্ন ভর সংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে। আইসোটোপগুলো যেহেতু একই মৌলের পরমাণু। ফলে তাদের প্রোটনসংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে তাদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। যেমন 35CI ও 37CI এর প্রোটন সংখ্যা 17 কিন্তু নিউট্রনসংখ্যা উভয়ক্ষেত্রে যথাক্রমে (35-17) = 18 এবং (37-17) = 20টি। প্রকৃতিতে পর্যাপ্ততার দিক থেকে এই আইসোটোপ দুটি যথাক্রমে 35CI ও 37CI-এর শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে 75% ও 25%।
সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
বিক্রিয়াটির আয়নিক রূপ:
ইলেকট্রন বিক্রিয়া হলো জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। বিক্রিয়াটিতে আয়ন 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে
তে জারিত হয়েছে এবং
আয়ন
কর্তৃক ত্যাগকৃত 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Ag পরমাণুতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ইলেকট্রনের আদান প্রদান ঘটেছে। তাই এটি একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। ধাতব
আয়ন একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Ag ধাতুতে পরিণত হয়েছে তাই
এখানে জারক। যেহেতু ইলেকট্রনের গ্রহণ হলো বিজারণ প্রক্রিয়া তাই এখানে ধাতব আয়নদ্বয়ের মধ্যে
এর বিজারণ ঘটেছে এবং এর বিজারণ বিক্রিয়াটি হলো-
সুতরাং, প্রদত্ত বিক্রিয়ায় সিলভার আয়নটি বিজারিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত A ও B লবণ দুটি হলো যথাক্রমে FeCl2 এবং FeCl3। এই লবণদ্বয়ের পৃথক পৃথকভাবে NaOH(aq) যোগ করা হলে উভয় ক্ষেত্রেই অধঃক্ষেপ পাওয়া যায়। উক্ত লবণদ্বয়ের সাথে পৃথকভাবে সংঘটিত NaOH এর বিক্রিয়াদ্বয় নিম্নরূপ:
একটি নির্দিষ্ট দ্রাবকে দ্রবণীয় দুইটি যৌগকে মিশ্রিত করার পর ঐ দ্রাবকে অদ্রবণীয় বা স্বল্প দ্রবণীয় কোনো যৌগ উৎপন্ন হলে যৌগটি বিক্রিয়ার তলদেশে কঠিন পদার্থ হিসেবে জমা হয়। একে অধঃক্ষেপ বলে ও বিক্রিয়াটিকে অধঃক্ষেপন বিক্রিয়া বলে। এখানে, বিক্রিয়া দুটি হলো অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া। প্রথম বিক্রিয়ায় ফেরাস ক্লোরাইডের ফেরাস আয়ন (Fe2+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH) যুক্ত হয়ে Fe(OH)2 এর সবুজ বর্ণের অধঃক্ষেপ তৈরি করে। একইভাবে দ্বিতীয় বিক্রিয়ায় ফেরিক ক্লোরাইডের ফেরিক আয়ন (Fe3+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH) যুক্ত হয়ে Fe(OH)3 এর লালচে বাদামী অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। সোডিয়াম ক্লোরাইডের Na আয়ন ও CI আয়ন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বরং জলীয় দ্রবণে Na+ আয়ন ও CI- আয়ন হিসেবে থাকে। তাই এদেরকে দর্শক আয়ন বলে এবং এই বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের কোনো স্থানান্তর ঘটেনি।
সুতরাং, উপরের বিক্রিয়াদ্বয় থেকে বুঝা যায়, FeCl2 ও FeCl3 লবণ দুটি ভিন্ন বর্ণবিশিষ্ট হাইড্রোক্সাইডের অধঃক্ষেপ তৈরি করে যেখানে কোনোরূপ ইলেকট্রন বিনিময় হয়নি। তাই সাধারণভাবে এরা অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া।
Related Question
View AllpH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। pH = - log [H+]। কোনো দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে হয়। আমরা জানি, কোনো দ্রবণের pH মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় আবার 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয়। কোনো দ্রবণের pH মান 7 হলে দ্রবণটি প্রশম। চুনের পানি যেহেতু ক্ষারীয় সেহেতু চুনের পানির pH এর মান 7 থেকে বেশি হবে।
উপরের চিত্র অনুযায়ী NH4Cl ও CaO কে একসাথে তাপ দিলে NH3 গ্যাস, CaCl2 ও H2O উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ 'X' গ্যাসটি হলো NH3 গ্যাস। এক্ষেত্রে তীব্র এসিড HCI এবং মৃদু ক্ষার NH3 এর বিক্রিয়া অম্লধর্মী লবণ (NH4Cl) উৎপন্ন হয়।
গ্যাসের জলীয় দ্রবণ হলো NH4OH (aq)।
এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারধর্মী। তাই এটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
ধাতব লবণ যেমন দ্রবণে দ্রবণ যোগ করলে প্রথমে ক্ষারীয় কপার সালফেটের নীল অধঃক্ষেপ পড়ে। পরে অতিরিক্ত দ্রবণ যোগে দ্রবণীয় টেট্রামিন কপার সালফেটের গাঢ় নীল দ্রবণ সৃষ্টি হয়।
(নীল অধঃক্ষেপ)
(গাঢ় নীল দ্রবণ) ট্রেট্টা অ্যামিন কিউপ্রিক সালফেট
CuSO4 এর জলীয় দ্রবণ অম্লধর্মী হওয়ায় এখানে NH4OH এর ক্ষারধর্ম প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের X গ্যাসটি হলো অ্যামোনিয়া এর সাথে HCI এর বিক্রিয়া করলে এর সাদা ধোঁয়া উৎপন্ন হবে। এক্ষেত্রে তীব্র এসিড HCI এবং মৃদু ক্ষার এর বিক্রিয়া অম্লধর্মী লবণ উৎপন্ন হয়।
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এর বাণিজ্যিক নাম নিশাদল।
আভিধানিক অর্থে pH মানে হলো হাইড্রোজেন আয়নের ক্ষমতা। কোনো দ্রবণে pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে হয়। দ্রবণের pH মান 7-এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় আবার 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয়। কোনো দ্রবণের pH মান 7 হলে দ্রবণটি প্রশম হবে।
উদ্দীপকের জলাশয়ের বর্জ্য পদার্থের মধ্যে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। তাই জলাশয়ের pH মান 7 এর কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!