বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের নান্দনিক শৈলী: হাজী মুহাম্মদ মহসীন স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন অক্ষরের চর্চা ফিরিয়ে আনতে এবং মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী হাজী মুহাম্মদ মহসীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য 'সুন্দর হাতের লেখা' প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল স্কুল প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা যখন ক্রমেই লেখার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে, তখন তাদের মাঝে অক্ষরের শৈল্পিক রূপ ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতাটি দুটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। 'ক' বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী এবং 'খ' বিভাগে নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। নির্ধারিত সময়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে খাতায় বর্ণমালার রূপ ফুটিয়ে তোলে।
প্রতিযোগিতা শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "সুন্দর হাতের লেখা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব লেখার শৈলী ভুলে না যাই, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।"
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা এবং বাংলা বিষয়ের শিক্ষকবৃন্দ। তারা অক্ষরের গঠন, লাইনের সোজা ভাব এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের নির্বাচন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় বই ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীকে সান্ত্বনা পুরস্কার ও ধন্যবাদপত্র প্রদান করা হয়। এমন সৃজনশীল আয়োজনে অংশ নিতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদকের নাম: আকিব
পদবি: বগুড়া প্রতিনিধি
পত্রিকার নাম: [আপনার পত্রিকার নাম]
তারিখ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
খুলনায় বেহাল সড়ক: জনদুর্ভোগ চরমে, দেখার কেউ নেই
সৌরভ/সুরভি, খুলনা প্রতিনিধি
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
খুলনা মহানগরীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অধিকাংশেরই অবস্থা এখন বেহাল। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যাতায়াত এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক অসহনীয় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, টুটপাড়া, খালিশপুর এবং জেলার রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কেরই কার্পেটিং উঠে গিয়ে নিচের ইটের খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে দেবে গেছে। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে গল্লামারী পর্যন্ত প্রধান সড়কটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যানবাহন চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং ভাড়া বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সিএনজি চালক মো. রহিম বলেন, "রাস্তায় যে অবস্থা, গাড়ি চালানোই দায়। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই গর্ত বোঝা যায় না, চাকা গর্তে পড়ে রিকশা-ভ্যান উল্টে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের।"
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী যাত্রীরা এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "রাস্তার যে ধুলোবালি তাতে নিশ্বাস নেওয়া দায়, আর বৃষ্টির সময় কাদাপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে দেখছি, রাস্তা মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হয় না।"
খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সড়কগুলোর স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গুণমান খারাপ হওয়ায় এবং সঠিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অল্প দিনেই রাস্তাগুলো পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে প্রধান সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
Related Question
View Allবৈশাখী মেলা
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।
বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।
মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।
এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব । নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে । এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয় । মূলত বৈশাখী মেলার আয়োজন করে স্থানীয় লোকেরা । পহেলা বৈশাখ আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ছোট বড় অনেক স্থানে । মেলা শুরু করে স্থানীয় লোকেরা এই মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো শুরু করে । এই মেলাগুলো এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস ব্যাপী হয়ে থাকে । বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে । প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতি আসর । এছাড়া গ্রামের হাট-বাজার, নদীর তীর, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে । মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা ধরনের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকম পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায় । এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায় । এমেলায় বসে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহি নানা খাবারের পশরা । হরেক রকমের মিষ্টি, বাতাসা, খই, মুড়ি, আচার সহ নানান রকম বাহারী বাঙ্গালী খাবার এ মেলার প্রধান আকর্ষন । এছাড়া রং-বেরঙের বেলুন আর বাঁশের বাঁশির সুর আর কচিকাচাদের কোলাহলে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন । বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতার তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম । লোহা ও কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দা, বঁটি, কাস্তে, ছুরি, খুন্তি, কোদাল, শাবল, পিঁড়ি, জলচৌকি, চেয়ার, টেবিল, খাট-পালঙ্ক ইত্যাদি পাওয়া যায় । বৈশাখি মেলা আনন্দের পাশাপাশি আমাদের জীবনের অনেক প্রয়োজন মেটায় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!