Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908) এর Order-1, Rule-10 মোকদ্দমার পক্ষভুক্তকরণ (joinder of parties) সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এই বিধানে আদালতকে মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে পক্ষসমূহকে কর্তন বা সংযোজন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে মোকদ্দমার যথার্থ বিচার নিশ্চিত হয় এবং কোনো বিচারিক ভুল বা ন্যায়বিচারের ব্যত্যয় না ঘটে।

Order-1, Rule-10 এর মূল বিধানসমূহ:

        
  • ভুল বা অতিরিক্ত পক্ষ কর্তন (Striking out parties mistakenly joined): Rule-10(1) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ভুলবশত বা অনাবশ্যকভাবে বাদী বা বিবাদী হিসেবে মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আদালত মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) অথবা যেকোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে কর্তন (strike out) করার আদেশ দিতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে মোকদ্দমার মূল বিষয়ে মনোনিবেশ করা এবং আদালতের মূল্যবান সময় বাঁচানো।

  •     
  • প্রয়োজনীয় পক্ষ সংযোজন (Adding necessary parties): Rule-10(2) অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করেন যে, এমন কোনো ব্যক্তি যিনি বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত ছিল কিন্তু হননি, অথবা যার উপস্থিতি ছাড়া মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তাকে যেকোনো পর্যায়ে মোকদ্দমার পক্ষ হিসেবে সংযোজন (add) করতে পারেন, হোক তিনি বাদী বা বিবাদী। এই ক্ষমতা আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বা যেকোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োগ করতে পারেন। সংযোজিত পক্ষকে সাধারণত পূর্ববর্তী কার্যধারার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়।

আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগের নীতিসমূহ:

আদালত পক্ষসমূহকে কর্তন বা সংযোজন করার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে:

        
  • ন্যায়বিচারের স্বার্থ (Interest of Justice): আদালতের মূল লক্ষ্য থাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যদি কোনো পক্ষকে সংযোজন বা কর্তন না করলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন।

  •     
  • মোকদ্দমার বহুধা পরিহার (Avoidance of multiplicity of suits): এই বিধির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো একই বিষয়ে একাধিক মোকদ্দমা দায়ের হওয়া প্রতিরোধ করা। যদি একজন পক্ষকে বর্তমান মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত করলে ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে বা তার দ্বারা একই বিষয়ে আরেকটি মোকদ্দমা দায়েরের প্রয়োজন না হয়, তবে আদালত তাকে সংযোজন করতে পারেন।

  •     
  • কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি (Effective and complete adjudication): যদি কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া মোকদ্দমার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে কার্যকর ও সম্পূর্ণ রায় প্রদান সম্ভব না হয়, তবে সেই ব্যক্তিকে মোকদ্দমার পক্ষ হিসেবে সংযোজন করা অত্যাবশ্যক।

  •     
  • প্রয়োজনীয় পক্ষ বনাম উপযুক্ত পক্ষ (Necessary party vs. Proper party): আদালত সাধারণত "প্রয়োজনীয় পক্ষ" (necessary party)-কে সংযোজন করেন, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো ডিগ্রি প্রদান করা অসম্ভব। "উপযুক্ত পক্ষ" (proper party) বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তিকে যার উপস্থিতি মোকদ্দমার কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার অনুপস্থিতি ডিগ্রির বৈধতাকে প্রভাবিত করে না। আদালত উভয়ের ক্ষেত্রেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, তবে প্রয়োজনীয় পক্ষের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।

আদালত কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগের পরিনতি:

যখন কোনো পক্ষকে সংযোজন করা হয়, তখন সাধারণত মোকদ্দমার নাম সংশোধন করা হয় এবং নতুন পক্ষকে তার বিরুদ্ধে বা তার পক্ষে আনা অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য সমন জারি করা হয়। নতুন পক্ষকে জবাব দাখিল করার এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

সংক্ষেপে, দেওয়ানি কার্যবিধির Order-1, Rule-10 আদালতকে একটি নমনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করে যা মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে পক্ষসমূহের সঠিকতার নিশ্চয়তা বিধান করে, যাতে করে কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত না হয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, বাদী স্বত্ব ঘোষণার দাবীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা যদি উভয় বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি দ্বারা নিষ্পত্তি হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিবাদীদের জন্য নিম্নলিখিত প্রতিকারসমূহ উপলব্ধ:

        
  • একতরফা ডিক্রি রদের জন্য আবেদন (৯ আদেশ, ১৩ বিধি): বিবাদীগণ একতরফা ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ১৩ বিধি অনুযায়ী আদালত বরাবর আবেদন করে একতরফা ডিক্রি রদ করার অনুরোধ জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে বিবাদীকে অবশ্যই আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, সমন জারী হয়নি অথবা অন্য কোন ন্যায়সঙ্গত কারণে তিনি শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি।
  •     
  • আপিল দায়ের: দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬(২) ধারা অনুযায়ী, একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায়। আপিলের সময়সীমা ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিন (জেলা জজের কাছে) বা ৯০ দিন (হাইকোর্ট বিভাগে)।
  •     
  • রিভিউ আবেদন: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৭ আদেশ ১ বিধি অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করেন যে, ডিক্রি প্রদানের সময় রেকর্ডপত্রে কোনো স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি ছিল অথবা নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে যা পূর্বের শুনানিতে জানা ছিল না, তাহলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতেই ডিক্রি রিভিউ করার জন্য আবেদন করা যেতে পারে। রিভিউ আবেদনের সময়সীমা ৩০ দিন।
  •     
  • রিভিশন আবেদন: যদি ডিক্রি প্রদানকারী আদালত তার এখতিয়ার বহির্ভূত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অথবা এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগে ব্যর্থ হয় অথবা অবৈধভাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তাহলে সংক্ষুব্ধ বিবাদী দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন।
  •     
  • প্রতারণার ভিত্তিতে ডিক্রি বাতিলের জন্য নতুন মোকদ্দমা: যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাদী প্রতারণার মাধ্যমে একতরফা ডিক্রি লাভ করেছেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিবাদীগণ ডিক্রি বাতিলের জন্য একটি নতুন দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। প্রতারণা আবিষ্কারের পর সাধারণত তিন বছরের মধ্যে এই মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
101

Related Question

View All
উত্তরঃ

আর্জি মুসাবিদা হলো দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908) এর অর্ডার-৭ (Order-7) আর্জি বা প্ল্যান্ট (Plaint) সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধানাবলী সন্নিবেশিত করেছে। একটি সঠিক ও সম্পূর্ণ আর্জি মামলার গতিপথ নির্ধারণ করে এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অর্ডার-৭ এর প্রাসঙ্গিক বিধানসমূহ অনুযায়ী, একটি আর্জি মুসাবিদা করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে:

        
  • ১. আদালতের নাম (Name of the Court): যে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে, সেই আদালতের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ করতে হবে।

  •     
  • ২. বাদীর বিবরণ (Particulars of the Plaintiff): বাদীর নাম, পিতার নাম, বাসস্থান এবং তার পরিচয় যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  •     
  • ৩. বিবাদীর বিবরণ (Particulars of the Defendant): বিবাদীর নাম, পিতার নাম, বাসস্থান এবং তার পরিচয় যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  •     
  • ৪. নাবালক বা অসুস্থ ব্যক্তি (Minor or Unsound Mind): যদি বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হয়, তবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

  •     
  • ৫. মোকাদ্দমার কারণ (Cause of Action): যে কারণে মোকাদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, সেই কারণ ও কখন তা উদ্ভব হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে হবে। মোকাদ্দমার কারণ হলো সেই সমস্ত ঘটনা, যা বাদীর অধিকার লংঘিত হয়েছে বলে দাবি করার ভিত্তি তৈরি করে।

  •     
  • ৬. আদালতের এখতিয়ার (Jurisdiction of the Court): কোন তথ্যের ভিত্তিতে আদালত মামলার বিচার করার এখতিয়ার রাখে, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এটি আর্থিক ও আঞ্চলিক এখতিয়ার উভয়কেই বোঝায়।

  •     
  • ৭. প্রার্থিত প্রতিকার (Relief Claimed): বাদী মোকাদ্দমার মাধ্যমে আদালত থেকে কি প্রতিকার চায়, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যেমন, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, অর্থ আদায়, ডিক্রির রদ বা বাতিলের ঘোষণা ইত্যাদি।

  •     
  • ৮. দাবির আংশিক বর্জন বা সেট-অফ (Set-off or Relinquishment of Claim): যদি বাদী তার দাবির কোনো অংশ বর্জন করে থাকে অথবা কোনো সেট-অফ গ্রহণ করে থাকে, তবে সেই পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

  •     
  • ৯. অর্থ আদায়ের মামলা (Suit for Money): যদি মামলা অর্থ আদায়ের জন্য হয়, তবে সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে (Order 7, Rule 2)।

  •     
  • ১০. স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ (Description of Immovable Property): যদি মামলার বিষয়বস্তু স্থাবর সম্পত্তি হয়, তবে সেই সম্পত্তি সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিবরণ, যেমন – মৌজা, খতিয়ান, দাগ, সীমানা, এলাকার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। যদি সম্পত্তি কোনো সরকারি রেজিস্ট্রারে নম্বরযুক্ত থাকে, তবে সেই নম্বরও উল্লেখ করতে হবে (Order 7, Rule 3)।

  •     
  • ১১. অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ বা ক্ষতিপূরণ (Movable Property or Compensation): যদি মামলা অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণের জন্য হয়, তবে আনুমানিক পরিমাণ বা ক্ষতিপূরণের একটি হিসাব উল্লেখ করতে হবে।

  •     
  • ১২. মূল্যের বিবরণ (Statement of Value): এখতিয়ার এবং কোর্ট-ফিসের উদ্দেশ্যে মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য কত, তা উল্লেখ করতে হবে (Order 7, Rule 1 (i))।

  •     
  • ১৩. প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা (Representative Suit): যদি মামলাটি প্রতিনিধিত্বমূলক হয়, অর্থাৎ বাদী অন্যদের পক্ষে মামলা করে থাকে, তবে তা উল্লেখ করতে হবে (Order 7, Rule 4)।

  •     
  • ১৪. বাদীর দাবি-সমর্থক কাগজপত্র (Documents relied upon by the Plaintiff): বাদী তার দাবির সমর্থনে যে সমস্ত কাগজপত্রের উপর নির্ভর করতে চায়, সেই কাগজপত্রের একটি তালিকা আর্জি বা আর্জির সাথে দাখিল করতে হবে (Order 7, Rule 14)।

একটি আর্জি মুসাবিদার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নির্ভুল ও সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যাবশ্যক। এর ব্যত্যয় ঘটলে আদালত আর্জি প্রত্যাখ্যান (rejection of plaint) করতে পারে অথবা বাদীকে সংশোধনের সুযোগ দিতে পারে, যা মামলা পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

হ্যাঁ, মামলা দায়ের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আর্জিতে বাদীর দাবিকৃত সুস্পষ্ট প্রতিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া একটি গতিশীল বিষয় এবং মামলার বিচারাধীন সময়ে বিভিন্ন নতুন ঘটনা বা পরিস্থিতি উদ্ভূত হতে পারে যা মামলার মূল বিষয়বস্তু এবং এর প্রতিকারের দাবিকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

মামলা দায়েরের পর নতুন তথ্য, প্রমাণ বা আইনগত পরিবর্তনের ফলে বাদীর মূল দাবি পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন, যদি মামলার বিষয়বস্তু সম্পত্তি হয় এবং মামলার পর সেই সম্পত্তি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি বা লেনদেন হয়, তাহলে বাদীর প্রতিকারের প্রকৃতি পরিবর্তন হতে পারে। আবার, যদি মামলার মূল কারণের আংশিক সমাধান মামলার বাইরে হয়ে যায়, তাহলে বাদী তার আর্জিতে দাবিকৃত প্রতিকারের কিছু অংশ বাদ দিতে চাইতে পারেন।

আইনের বিধান অনুযায়ী, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৭ অনুসারে, আদালত মামলার যেকোনো পর্যায়ে পক্ষগণকে তাদের আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের অনুমতি দিতে পারেন, যদি আদালতের কাছে মনে হয় যে এমন সংশোধন মামলার প্রকৃত বিতর্ক সমাধানের জন্য অপরিহার্য। এই বিধানটি বাদীকে মামলা দায়ের পরবর্তী উদ্ভূত ঘটনাপ্রবাহের কারণে তার দাবিকৃত প্রতিকার যোগ, পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে বাদীর দাবিকৃত প্রতিকার বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা হয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়।

সুতরাং, মামলার গতিপথে উদ্ভূত নতুন ঘটনা বা পরিস্থিতি বাদীর দাবিকৃত প্রতিকারকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আইনগতভাবে আর্জির সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রভাবকে আমলে নিয়ে প্রতিকারের দাবিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
100
উত্তরঃ

ঘোষণামূলক ডিক্রি এবং আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা:

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৪২ ধারা অনুযায়ী, আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করে থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি কোনো আইনানুগ পরিচিতি (Legal Character) বা কোনো সম্পত্তির ওপর কোনো অধিকারের অধিকারী হন এবং অন্য কোনো ব্যক্তি সেই পরিচিতি বা অধিকার অস্বীকার করেন বা তা অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি করেন, তখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তার আইনানুগ পরিচিতি বা অধিকার ঘোষণার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এই ডিক্রি প্রদান আদালতের একটি বিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power), যা আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা এবং ৪২ ধারার শব্দগুচ্ছ "আদালত তাহার সুবিবেচনা অনুসারে ঘোষণা করিতে পারিবে" (the court may in its discretion make therein a declaration) দ্বারা স্পষ্ট হয়। এর অর্থ হলো, আদালত একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করতে বাধ্য নয়, বরং মামলার সকল পরিস্থিতি, ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত এই ডিক্রি প্রদান করবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আদালত সাধারণত তখনই এই ডিক্রি প্রদান করে যখন অন্য কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হয় না বা ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। যদি বাদী তার ঘোষণার পাশাপাশি আরও কোনো প্রতিকার চাইতে পারত কিন্তু তা চায়নি, তবে আদালত সাধারণত ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, কারণ এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার শর্ত।

ঘোষণামূলক ডিক্রির ফলাফল:

ঘোষণামূলক ডিক্রির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বা প্রভাব রয়েছে:

        
  • এটি কোনো নতুন অধিকার সৃষ্টি করে না, বরং বিদ্যমান আইনানুগ পরিচিতি বা অধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বা নিশ্চিত করে।
  •     
  • ঘোষণামূলক ডিক্রি কেবল মামলার পক্ষগণ, তাদের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ এবং তাদের প্রতিনিধিগণের উপর বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, যারা মামলার পক্ষ ছিল না, তাদের উপর এই ডিক্রির কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা থাকে না।
  •     
  • এই ডিক্রি কার্যকর করার জন্য পৃথক কোনো নির্বাহী কার্যক্রমের (Execution Proceedings) প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি শুধুমাত্র অধিকারের ঘোষণা দেয়, কোনো বস্তুগত কার্য সম্পাদন বা প্রদানের আদেশ দেয় না।
  •     
  • যদিও এটি সরাসরি কার্যকরযোগ্য নয়, তবে এর মাধ্যমে ঘোষিত অধিকার বা পরিচিতি পরবর্তীতে আইনানুগ কার্যক্রমে একটি মীমাংসিত বিষয় (Res Judicata) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
  •     
  • এটি বিবাদীদের দ্বারা বাদীর আইনানুগ পরিচিতি বা অধিকার অস্বীকারের বিরুদ্ধে একটি আইনি নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং ভবিষ্যতে একই বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের সুযোগ সীমিত করে।

সংক্ষেপে, ঘোষণামূলক ডিক্রি আদালতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা, যা ব্যক্তির আইনানুগ পরিচিতি ও অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে, তবে এর প্রয়োগ আদালতের সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল এবং এর ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষিত অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

The Specific Relief Act, 1877 এর অধীনে নিরোধমূলক প্রতিকার (preventive relief) সাধারণত আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা (injunction) প্রদানের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এই আইনের ধারা ৫২ থেকে ৫৭ পর্যন্ত নিরোধমূলক প্রতিকার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। নিরোধমূলক প্রতিকার প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে:

        
  •         সাময়িক বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction):         

    ধারা ৫৩ অনুযায়ী, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলা চলাকালীন পক্ষগণের অধিকার রক্ষা করার জন্য এটি প্রদান করা হয়। এটি মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালতের আদেশ দ্বারা প্রদান করা যেতে পারে এবং এটি সম্পূর্ণ বিচার-বিবেচনামূলক। দেওয়ানি কার্যবিধি আইন, ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ এর অধীনেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।

        
  •     
  •         চিরস্থায়ী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction):         

    ধারা ৫৩ অনুযায়ী, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল একটি মামলার শুনানির পর এবং তার গুণাগুণ বিচার করার পর ডিক্রির মাধ্যমে জারি করা হয়। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিবাদী পক্ষকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে চিরতরে বিরত রাখে এবং এর মাধ্যমে বাদী পক্ষের অধিকার স্থায়ীভাবে রক্ষা করা হয়। ধারা ৫৪ তে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন দেওয়া যাবে তার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে, যখন প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ সম্ভব নয়, যখন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয়, অথবা যখন ট্রাস্টের সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

        
  •     
  •         বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction):         

    ধারা ৫৫ অনুযায়ী, যখন কোনো কাজ করে কোনো অবৈধ পরিস্থিতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন হয়, তখন আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। এর মাধ্যমে বিবাদীকে কোনো একটি ইতিবাচক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সে চুক্তি বা আইনের অধীনে করতে বাধ্য ছিল কিন্তু করেনি।

        

Y ও Z এর মধ্যকার চুক্তির ক্ষেত্রে Z এর প্রতিকার:

প্রদত্ত পরিস্থিতিতে, Y, Z এর ক্লিনিকে ৩ বছরের জন্য সেবা প্রদানের চুক্তি ভঙ্গ করে ১ বছর পর Z এর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লিনিকে যোগদান করেছে। এটি চুক্তি ভঙ্গের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। The Specific Relief Act, 1877 এর অধীনে Z এর প্রতিকার নিম্নরূপ হতে পারে:

সাধারণত, ব্যক্তিগত সেবার চুক্তি (contract of personal service) নির্দিষ্টভাবে কার্যকর (specific performance) করানো যায় না। অর্থাৎ, আদালত Y কে জোর করে Z এর ক্লিনিকে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে, এই আইনের ধারা ৫৭ এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার প্রদান করে। ধারা ৫৭ অনুযায়ী, যেখানে একটি চুক্তিতে ইতিবাচক কাজ করার একটি চুক্তি (যেমন Y এর Z এর ক্লিনিকে সেবা প্রদান) এবং একটি নেতিবাচক চুক্তি (যেমন চুক্তির মেয়াদের মধ্যে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য কাজ না করা) অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেখানে আদালত ইতিবাচক চুক্তিটি নির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে না পারলেও নেতিবাচক চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (injunction) প্রদান করতে পারে। Y যখন Z এর ক্লিনিকে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, তখন এর একটি অন্তর্নিহিত নেতিবাচক শর্ত ছিল যে সে চুক্তির মেয়াদের মধ্যে Z এর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লিনিকে কাজ করবে না।

সুতরাং, Z এই আইনের ধারা ৫৭ এর অধীনে আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করতে পারেন, যার মাধ্যমে Y কে Z এর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লিনিকে অথবা অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে চুক্তির বাকি ২ বছর কাজ করা থেকে বিরত রাখা হবে। এর পাশাপাশি, Z চুক্তি ভঙ্গের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য Y এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের (damages) মামলাও করতে পারেন।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
115
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews