Marine Protected Area (MPA) হলো সমুদ্রের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মাছ, প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য মাছ ধরা, নৌযান চলাচল ও খনিজ আহরণের মতো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ করা হয়।
বাস্তুসংস্থান (Ecology)
বেঁচে থাকার তাগিদে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব সম্প্রদায় ও জড় পরিবেশের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের (Environment) অন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। বাস্তুসংস্থানের দুইটি উপাদান রয়েছে। যথা- জীব সম্প্রদায় এং জড় পরিবেশ। জড় পরিবেশই জীর সম্প্রদায়কে ধারণ করে রাখে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সঞ্জীৰ এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্ত্র গুহ (Ecosystem) বলে।
জীব উপাদান
জীবমন্ডল (Biosphere) হলো পৃথিবীর সমস্ত ইকোসিস্টেমের যোগফল। এটাকে বলা যেতে পারে পৃথিবীর জীবনের এলাকা। পৃথিৱীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। জীবমন্ডলের বিস্তৃতি ওপরে-নিচে ২০ কি.মি. ধরা হলেও মূলত অধিকাংশ জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায় হিমালয় শীর্মের উচ্চা থেকে ৫০০ মিটার নিচের সামুদ্রিক গভীরতার মধ্যেই। সমুদ্রতল থেকে ৮৩৭২ মিটার নিচে পুয়ের্টোরিকা ট্রেঞ্চে মাছ পাওয়া গেছে। পাখিরা সাধারণত ১৮০০ মিটার উঁচুতে উড়ে। রাপেল জাতীয় শকুন সমুদ্র তল থেকে ১১৩০০ মিটার উচুতে উড়তে পারে। জীবমণ্ডল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- উদ্ভিদকুল (flora) এবং প্রাণিকুল (fanua)। উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও বিয়োজক জীবের মাধ্যমে খাদ্যবস্ত স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় সবুজ উদ্ভিদে ফিরে আসে। এরূপ চক্রাকার স্থানান্তর হওয়া এ খাদ্য খদকের সম্পর্ককে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের সুসংবদ্ধ বিন্যাসকে একরে খাদ্য জাল বলে। খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্য জলকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- উৎপাদক, খাদক বা ভক্ষক এবং বিয়োজক।
Related Question
View Allভূমিকা: পরিবেশের ভারসাম্য হলো প্রকৃতি ও জীবের মধ্যকার একটি সুসংগত স্থিতিশীল অবস্থা। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান দূষণের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর আইনি কাঠামোর প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা: পরিবেশ রক্ষার প্রধান উপায় হলো বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা। কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কার্বন সরাসরি শুষে নিয়ে মাটির গভীর স্তরে বা সমুদ্রের নিচে স্থায়ীভাবে জমা করা হয়। এটি বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সরাসরি বাধা দেয়। পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন এই কার্বনকে প্রাকৃতিকভাবে শুষে নিয়ে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
- সবুজ জ্বালানি ও ডিকার্বোনাইজেশন: জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা ও তেলের দহনই গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রধান উৎস। এর বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও পারমাণবিক বিদ্যুতের মতো সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পরিবহন ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন বা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের প্রবর্তন বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।
- সার্কুলার ইকোনমি ও ৩আর (3R) নীতি: প্রচলিত 'ব্যবহার ও বর্জন' নীতির পরিবর্তে চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এখানে ৩আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি মেনে বর্জ্যকে পুনরায় কাঁচামালে রূপান্তর করা হয়। এটি প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় কমায় এবং মাটি ও পানির দূষণ রোধ করে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা জৈব সার উৎপাদন এই প্রক্রিয়ার অন্যতম সফল উদাহরণ।
- বাস্তুসংস্থান ও ব্লু-কার্বন সুরক্ষা: ম্যানগ্রোভ বন, জলাভূমি ও সামুদ্রিক শৈবাল সাধারণ বনের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্বন ধরে রাখতে সক্ষম, যাকে 'বু-কার্বন' বলা হয়। সুন্দরবনের মতো বনভূমি রক্ষা এবং নদী-জলাশয় ভরাট বন্ধ করা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মৌলিক শর্ত। এই প্রাকৃতিক আধারগুলো কেবল কার্বন শোষণ করে না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনেও ভূমিকা রাখে।
- আইন প্রয়োগ ও বর্জ্য শোধন প্রযুক্তি: পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর 'Polluter Pays Principle' অনুযায়ী কঠোর জরিমানা আরোপ এবং পরিবেশ আদালতের সক্রিয়তা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিটি শিল্পকারখানায় ইটিপি (ETP) এবং সিইটিপি (CETP) এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার আগে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোধন করলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!