অক্সিসোম হলো মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃপর্দায় অবস্থিত ছোট দণ্ডাকার বস্তু, যা ATP সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে। এদেরকে F0F1 কণা বা ATP সিন্থেজ কমপ্লেক্সও বলা হয়।
উদ্দীপকের 'P' দ্বারা উদ্ভিদকোষের সবচেয়ে বাইরের আবরণ, অর্থাৎ কোষপ্রাচীরকে নির্দেশ করা হয়েছে। এটি উদ্ভিদকোষের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে অনুপস্থিত। কোষপ্রাচীর মূলত জড়, স্থিতিস্থাপক ও ভেদ্য একটি আবরণ যা কোষকে নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি প্রদান করে এবং যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো সেলুলোজ।
কোষপ্রাচীরের ভৌত গঠন প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত: মধ্যপর্দা (Middle Lamella), প্রাথমিক প্রাচীর (Primary Wall) এবং গৌণ প্রাচীর (Secondary Wall)। মধ্যপর্দা হলো দুটি সন্নিহিত কোষের মধ্যে অবস্থিত সবচেয়ে বাইরের এবং পাতলা স্তর, যা মূলত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট দ্বারা গঠিত হয়ে কোষগুলোকে একসাথে ধরে রাখে। এর ভেতরের দিকে থাকে প্রাথমিক প্রাচীর, যা সকল সজীব উদ্ভিদকোষে বিদ্যমান এবং এটি মূলত সেলুলোজ, হেমি-সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে তৈরি। প্রাথমিক প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় কোষের বৃদ্ধি ও প্রসারণে সহায়তা করে।
কিছু নির্দিষ্ট পরিণত উদ্ভিদকোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরে গৌণ প্রাচীর গঠিত হয়। গৌণ প্রাচীর তুলনামূলকভাবে মোটা, শক্ত ও লিগনিনযুক্ত হওয়ায় এটি কোষকে দৃঢ়তা ও যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে। এটি সেলুলোজ তন্তুর একাধিক স্তরে (যেমন S1, S2, S3) সজ্জিত থাকে, যেখানে তন্তুগুলো বিভিন্ন দিকে বিন্যস্ত থাকে। কোষপ্রাচীরে প্লাজমাডেজমাটা (Plasmodesmata) নামক সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ থাকে, যা দিয়ে একটি কোষের সাইটোপ্লাজম পার্শ্ববর্তী কোষের সাইটোপ্লাজমের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এছাড়া, কোষপ্রাচীরে কুপ (Pit) নামক পাতলা অঞ্চলও দেখা যায় যেখানে গৌণ প্রাচীর অনুপস্থিত থাকে।
উদ্দীপকের ‘Q’ দ্বারা প্রাণিকোষের বহিরাবরণ অর্থাৎ কোষঝিল্লিকে নির্দেশ করা হয়েছে। প্রাণিকোষের কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মডেল প্রস্তাবিত হলেও, ১৯৭২ সালে এস. জে. সিঙ্গার ও জি. এল. নিকলসন কর্তৃক প্রস্তাবিত ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
ফ্লুইড মোজাইক মডেল অনুযায়ী, কোষঝিল্লি মূলত দুটি স্তরে সজ্জিত ফসফোলিপিড (phospholipid) অণু এবং এদের মধ্যে ভাসমান বা দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রকার প্রোটিন (protein) অণু দ্বারা গঠিত। ফসফোলিপিড অণুগুলো দ্বিস্তরীভূত অবস্থায় থাকে, যার হাইড্রোফিলিক (hydrophilic) মাথা বাইরের দিকে এবং হাইড্রোফোবিক (hydrophobic) লেজ ভেতরের দিকে মুখ করে থাকে। এই দ্বিস্তরের মধ্যে বিভিন্ন আকৃতির প্রোটিন অণুগুলো মোজাইকের মতো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকে। কিছু প্রোটিন সম্পূর্ণরূপে ফসফোলিপিড স্তর ভেদ করে থাকে (আন্তঃঝিল্লি প্রোটিন), আবার কিছু প্রোটিন ঝিল্লির উপরিভাগে লেগে থাকে (প্রান্তীয় প্রোটিন)।
কোষঝিল্লিতে ফসফোলিপিড ও প্রোটিন ছাড়াও কোলেস্টেরল (cholesterol), গ্লাইকোলিপিড (glycolipid) এবং গ্লাইকোপ্রোটিন (glycoprotein) থাকে, যা কোষঝিল্লির স্থায়িত্ব, নমনীয়তা ও বিভিন্ন কোষীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফসফোলিপিড স্তরের তরল প্রকৃতি (fluidity) এবং প্রোটিনের মোজাইক বিন্যাস কোষঝিল্লিকে একটি গতিশীল কাঠামো প্রদান করে, যা এর নির্বাচনী প্রবেশ্যতা (selective permeability), কোষীয় সংকেত গ্রহণ (signal reception), কোষীয় শনাক্তকরণ (cell recognition) এবং বিভিন্ন পদার্থের পরিবহন (transport) সহ অসংখ্য জৈবিক কার্য সম্পাদনে সক্ষম করে তোলে।
সুতরাং, ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি কোষঝিল্লির রাসায়নিক গঠন এবং এর গতিশীল প্রকৃতিকে অত্যন্ত সুসংহতভাবে ব্যাখ্যা করে। এই মডেলটি কোষঝিল্লির ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং এর বহুমুখী জৈবিক কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এটিই কোষঝিল্লির গঠন সম্পর্কে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর নির্ভর করে থ্রিয়োফ্রাস্টাস উদ্ভিদজগতকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। যথা-১। হার্ব (herb, বীরু), ২। আন্ডার শ্রাব (under-shrub, উপগুল্ম), ৩। শ্ৰাৰ (shrub, গুল্ম) ও ৪। ট্রি (tree, বৃক্ষ)।
১। হার্ব (Herb) বা বীরুৎ (নরম কান্ডবিশিষ্ট ছোট উদ্ভিদকে হার্ব বা বীরুৎ বলে। যেমন— সরিষা (Brassica napus), ধান (Oryza sativa), গম (Triticum aestivum) ইত্যাদি। (কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব (woody herb) বলা হয় ) যেমন—তোষাপাট (Corchorus olitorius)
আয়ুষ্কাল অনুসারে তিনি হার্বকে আবার তিনভাগে বিভক্ত করেন; যথা- সরিষা, ধান, গম,
এক অ্যানুয়াল (Annual) বা বর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ মাত্র এক ঋতু অথবা এক বছরকাল জীবিত থাকে। যেমন-সরিষা (Brassica napus), গম (Triticum aestivum), ছোলা (Cicer arietinum) ইত্যাদি উদ্ভিদ।
বাইয়েনিয়্যাল (Biennial) বা দ্বিবর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ সাধারণত দু'বছরকাল জীবিত থাকে। যেমন-বাঁধাকপি (Brassica oleracea var. capitata), মূলা (Raphanus sativus) প্রভৃতি উদ্ভিদ। শীতপ্রধান দেশে এসব উদ্ভিদের দ্বিবর্ষজীবীত্ব সুস্পষ্ট। প্রথম বছরে দৈহিকবৃদ্ধি ঘটে এবং দ্বিতীয় বছরে ফুল, ফল ধারণ করে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।
পেরেনিয়্যাল (Perennial) বা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ দু'বছরের অধিক বেঁচে থাকে।যেমন- আদা (Zingiber officinale ), হলুদ (Curcuma domestica)। এদের ভূ-নিম্নস্থ কান্ড থেকে প্রতি বছর বায়বীয় কান্ড বের হয়। দুর্বাঘাস (Cynodon dactylon) একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
২। আন্ডারশ্রাব (Undershrub) বা উপগুল্ম : শ্রাব বা গুলোর চেয়ে ছোট আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে আন্ডারশ্রাব বলে, যেমন কল্কাসুন্দা (Cassia sophera), আঁশ শেওড়া (Glycosmis arborea), বেলী (Jesminum sambac), গোলাপ (Rosa hybrida) ইত্যাদি।
৩। শ্রাব (Shrub) বা গুল্ম : যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, বহুবর্ষজীবী, সাধারণত একক কান্ডবিহীন ও গোড়া থেকে বেশি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে ঝোপে পরিণত হয় তাকে শ্রাব বা গুল্ম বলে। যেমন-কাগজীলেবু (Citrus aurantifolia), জবা (Hibiscus rosa-sinensis), গন্ধরাজ (Gardenia jasminoides) ইত্যাদি।
৪। ট্রি (Tree) বা বৃক্ষ : (সুস্পষ্ট একক কাণ্ডবিশিষ্ট উঁচু কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। যেমন- আম (Mangifera indica), কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus), জাম (Syzygium cumini), সেগুন (Tectona grandis) ইত্যাদি।
কোষঃ কোষ হলো সকল জীবদেহের গঠন, বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপ ও বংশগতিমূলক তথ্য বহনকারী একক।সবচেয়ে বড় কোষ হল উটপাখির ডিমের কোষ। দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ু কোষ।
ক্রোমোপ্লাস্ট নামক এক ধরনের রঙিন বর্ণযুক্ত প্লাস্টিডের কারণে উদ্ভিদের ফুলের পাঁপড়ি তথা পুষ্প রঙিন হয়। সবুজ বর্ণ ব্যতীত অন্যান্য বর্ণের রঙিন প্লাস্টিডগুলোকে বলা হয় ক্রোমোপ্লাস্ট। ক্যারোটিন এবং জ্যান্থোফিল নামক দু'প্রকার রঞ্জক পদার্থ বিভিন্ন অনুপাতে থাকায় এরা হলুদ, কমলা বা লাল বর্ণের হয়। এরা ফুলের পাঁপড়িতে উপস্থিত থেকে ফুল তথা, পুষ্পে বর্ণ বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করে। ফুলের বিভিন্ন অঙ্গে অবস্থান করে এরা কীটপতঙ্গসহ উচ্চ শ্রেণির প্রাণীদের আকৃষ্ট করে। ফলে, পরাগায়ন সহজতর হয়।
উদ্দীপকের উদ্ভিদ কোষের প্রথম আবরণ দ্বারা কোষ' প্রাচীরকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে কোষ প্রাচীরের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা করা হলো-
উদ্ভিদ কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি পলিস্যাকারাইড যা ৬ কার্বন বিশিষ্ট B-D গ্লুকোজের অসংখ্য অণু নিয়ে গঠিত। ১ হাজার থেকে ৩ হাজার সেলুলোজ অণু নিয়ে একটি সেলুলোজ চেইন গঠিত হয়। প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি গঠন করে। প্রতিটি মাইসেলির ব্যাস ১০০Å I মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়। প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল গঠন করে। এদের ব্যাস ২৫০৪। আবার, ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠন করে। এগুলোর ব্যাস প্রায় 0.8jun। ম্যাক্রোফাইব্রিলের ফাঁকে ফাঁকে মাইক্রোক্যাপিলারিজ অবস্থান করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিত হয়ে তন্তু গঠন করে কোষ প্রাচীরে জালের ন্যায় বুনন সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম আবরণটি হলো কোষ প্রাচীর এবং দ্বিতীয় আবরণটি হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। নিচে কোষ প্রাচীর ও কোষঝিল্লির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লির বাইরে 'অবস্থান করে, প্রাণিকোষে থাকে না। সকল জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে কোষঝিল্লি থাকে l
কোষ প্রাচীর তিনটি স্তরে বিন্যস্ত; যথা- মধ্যপর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর ও সেকেন্ডারি প্রাচীর। কোষঝিল্লি প্রোটিন (বাইরে ও ভিতরে দু'স্তর) ও লিপিড (মধ্যাংশে দু'স্তর) এর দুটি স্তর নিয়ে গঠিত।
কোষ প্রাচীর কখনও ভেদ্য কখনও অভেদ্য। কোষঝিল্লি সর্বদাই বৈষম্যভেদ্য।
কোষ প্রাচীরে মাইক্রোভিলাই না থাকলেও কোষঝিল্লিতে মাইক্রোভিলাই থাকে।.
কোষ প্রাচীর পুরু এবং দৃঢ়; প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত; তবে পেকটিন, কাইটিন, লিগনিন, ইত্যাদিও থাকতে পারে। অপরদিকে কোষঝিল্লি খুব সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক; প্রধানত লিপোপ্রোটিন দিয়ে গঠিত, তবে গ্লাইকোপ্রোটিন, ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড, স্টেরল ইত্যাদি সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।
কোনো কোনো কোষের কোষ প্রাচীরে নানারকম অলঙ্করণ- দেখা যায়। কোষঝিল্লিতে কোনোরূপ অলঙ্করণ দেখা যায় না। উপরের আলোচনা সাপেক্ষে বলা' যায়, কার্যিক ও 'গাঠনিক ভিন্নতার কারণেই দ্বিতীয় আবরণ বা কোষঝিল্লি প্রথমটি অর্থাৎ কোষপ্রাচীর থেকে পৃথক।
বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জেনেটিক কোডের কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন- জেনেটিক কোড সর্বদা তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয় এবং একটি কোড সর্বদা একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে। সকল জীবে নির্দিষ্ট একটি কোডন একই অর্থ বহন করে। একটি . কোডের অক্ষর অন্য কোডে অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং শুরু ও সমাপ্তি কোড সুনির্দিষ্ট।