একটি আহিত বস্তুর চারদিকে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে তাকে ঐ বস্তুর তড়িৎক্ষেত্র বলে।
P বিন্দুতে স্থাপিত বস্তু তড়িৎক্ষেত্র সৃষ্টিকারী আধান থেকে দূরে সরিয়ে নিলে তার উপর অনুভূত বল কমে যাবে এবং আধানের কাছে সরিয়ে আনলে তার উপর অনুভূত বল বেড়ে যাবে। কারণ কুলম্বের সূত্রানুসারে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা নিকটতম বল দূরত্বের বর্ণের ব্যাস্তানুপাতিক।
এখানে,
F = বল = 15N
Q = আধানের মান = 10C
তড়িৎ প্রাবল্য E হলে
'ক' চিত্রে P বিন্দুতে তড়িৎ প্রাবল্য 1.5NC
চিত্র 'ক'তে P এর উপর অনুভূত বল 15N। কিন্তু চিত্র 'খ'তে আহিত বস্তুকে ভূমির সাথে সংযোগ করা হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে চিত্র 'খ' এর আহিত বস্তুকে নিস্তড়িত করা হয়েছে। ফলে বস্তুটির চারপাশে আর কোনো তড়িৎক্ষেত্র থাকবেনা এবং কোনো তড়িৎ প্রাবল্য কাজ করবে না। তাই চিত্র 'খ' এ P এর উপর তড়িৎ ক্ষেত্রের দরুন কোনো তড়িৎ বল কাজ করবে না।
শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর সেই চিরুনি ছোট ছোট কাগজের টুকরোর কাছে আনা হলে কাগজের টুকরোগুলো লাফিয়ে চিরুনির দিকে ছুটে আসে। আবার ঝড়ের সময় বজ্রপাতের আলোর ঝলকানির সাথে দিগ্বিদিক প্রকম্পিত করে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হয়। দুটো বিষয়ের জন্য দায়ী স্থির বিদ্যুৎ। আমাদের চারপাশের সবকিছুই আসলে অণু-পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস এবং সেটিকে ঘিরে বাইরে ইলেকট্রন ঘুরছে। ইলেকট্রনের ঋণাত্মক চার্জ এবং নিউক্লিয়াসের চার্জ ধনাত্মক। কোনো প্রক্রিয়ার যদি পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে আসা করে ফেলা হয় তাহলে স্থির বিদ্যুতের জন্ম হয়। এই অধ্যায়ে আমরা এই স্থির বিদ্যুতের বিভিন্ন প্রক্রিয়া আলোচনা করব। দুটো চার্জকে পাশাপাশি রাখা হলে তারা কী বলে নিজেদের আকর্ষণ করে সেটিও আমরা এই অধ্যায়ে জেনে নেব।
Related Question
View Allপদার্থের মৌলিক কণাসমূহের মৌলিক ও বৈশিষ্ট্যমূলক ধর্মই হল আধান
কোনো বস্তুর সাথে আরেকটি বস্তুর ঘর্ষণ হলে বা সংস্পর্শে আনা হলে যে বস্তুর ইলেকট্রন আসক্তি বেশি তা অপর বস্তু হতে ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় এবং অপরটি ধনাত্মক আধানে আহিত হয়। এভাবে ঘর্ষণের ফলে কোনো বস্তু আহিত হয়।
আমরা জানি ঘর্ষণের ফলে কোন বস্তু আহিত হয়। রিমা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনির সাথে চুলের যে সংঘর্ষ হয়, এর ফলে চিরুনিটি চুল হতে মুক্ত ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়েছে এবং পক্ষান্তরে চুল ধনাত্মক আধানে আহিত হয়েছে। আহিত হওয়ার কারণেই চিরুনিটি ছোট ছোট কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে।
চিরুনিটিতে আধানের প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য চিরুনিটিকে স্বর্ণপাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চাকতির সংস্পর্শে আনতে হবে। এর আগে যন্ত্রটিকে ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক আধানে আহিত করতে হবে। মনে করি যন্ত্রের চাকতি তথা পাতদ্বয়কে ধনাত্মক আধানে আহিত করা হল। ফলে পাতদ্বয় ফাঁক হবে। এরপর চিরুনিটিকে চাকতির সংস্পর্শে আনার পর যদি পাতদ্বয়ের ফাঁক কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে ঐ চিরুনিটি ঋণাত্মক আধানে আহিত। যদি ফাঁক বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে চিরুনি ধনাত্মক আধানে আহিত।
একটি আহিত বস্তুর চারদিকে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে তাকে ঐ বস্তুর তড়িৎক্ষেত্র বলে।
P বিন্দুতে স্থাপিত বস্তু তড়িৎক্ষেত্র সৃষ্টিকারী আধান থেকে দূরে সরিয়ে নিলে তার উপর অনুভূত বল কমে যাবে এবং আধানের কাছে সরিয়ে আনলে তার উপর অনুভূত বল বেড়ে যাবে। কারণ কুলম্বের সূত্রানুসারে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা নিকটতম বল দূরত্বের বর্ণের ব্যাস্তানুপাতিক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
