যখন দুটি জিনের একটি প্রচ্ছন্ন অপরটি প্রকট হয় তখন সেই অবস্থাকে হেটারোজাইগাস বলে।
মানুষের জিনের ভিতর পরিবর্তনের জন্য বা পয়েন্ট মিউটেশনের কারণে মস্তিষ্ক বিকলাঙ্গজনিত একটি লোগ হলো হানটিংটন'স রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না। শরীরের পেশিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মৃত্যুবরণ করে। এ রোগটির লক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স চল্লিশ হওয়ার পূর্বে প্রকাশ পায় না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি ডিএনএ বা ডিঅক্সি রাইবোনিউক্লিক এসিডকে বোঝানো হয়েছে। ডিএনএ সকল জীবের আদি বস্তু যার অবস্থান নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে। একটি ডিএনএ অণু দ্বিসূত্র বিশিষ্ট লম্বা শৃঙ্খলের পলিনিউক্লিওটাইড। অনেকগুলো নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত তাই একে পলিনিউক্লিওটাইড বলে। প্রতিটি একককে নিউক্লিওটাইড বলে। ডিএনএ অণুর আকৃতি প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো। প্যাঁচানো সিঁড়ির দুপার্শ্বের মূল কাঠামো গঠিত হয় পাঁচ কার্বন যুক্ত শর্করা ও ফসফেট দ্বারা। দুপাশের শর্করার সাথে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারকের মধ্যে দুটি করে ক্ষারক জোড় বেঁধে তৈরি করে সিঁড়ির ধাপগুলো। ডিএনএ অণুর চার ধরনের ক্ষারক এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিনের মধ্যে এডিনিন থাইমিনের সাথে এবং সাইটোসিন গুয়ানিনের সাথে জোড় বাঁধে।
উদ্দীপকের অণুটি হলো DNA। এটি অসংখ্য জিনের দ্বারা গঠিত হয়। বংশগতির প্রয়োজনে প্রতিটা জীব অনুরূপ জীবের জন্ম দেয়। এর সবই হয় জিনের দ্বারা। জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এই জিন। DNA বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী বংশে সঞ্চালিত করে। DNA শিকল লম্বালম্বিভাবে স্ববিভাজনের দ্বারা ভাগ হয়ে পরিপূরক দুটি পার্শ্ব কাঠামো গঠিত হয়। এভাবে একটা DNA ভেঙ্গে দুটি নতুন অণু গঠিত হয়। নতুনভাবে সৃষ্ট প্রতিটা অণুতে থাকে একটা পুরাতন ও একটা নতুন DNA এর পার্শ্ব কাঠামো। যার ফলে প্রতিটি নতুন DNA অণু হয় মূলটির হুবহু অনুলিপি। এভাবে DNA অণুতে রক্ষিত জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের সাংকেতিক নীলনকশা পরিবর্তন ছাড়াই সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
বংশগতির ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ও উক্ত ডিএনএ-এর ভূমিকা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন, হরমোন, এন্টিবায়োটিক প্রভৃতি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এতে মানুষের জীবন বাঁচছে ও দীর্ঘায়ু হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বিপ্লব সাধন করেছে।
টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অনুচারা তৈরি করায় প্রজাতির ধারা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া অধিক ফলনশীল জাতের উদ্ভিদ উৎপাদনসহ জীবাণু ও পোকা-মাকড়বিরোধী ফসল উৎপাদনের কারণে খাদ্যসংকট বহুলাংশেই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এসবই রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি তথা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবদান।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ডিএনএ বংশগতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলী নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ ও ভূমিকা রাখে
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!