95.6% ইথানল এবং 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে।
অ্যালকোহল একটি পোলার যৌগ। কারণ অ্যালকোহলের কার্যকরীমূলক O – H। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কার্বন পরমাণু। কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেনের এবং অক্সিজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেনের বন্ধন দুটি সমযোজী বন্ধন। কিন্তু অক্সিজেন পরমাণু অধিক তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল হওয়ায় উভয় বন্ধনের ইলেকট্রন অক্সিজেনের দিকে অধিক সরে আসে। ফলে কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুতে আংশিক ধনাত্মক চার্জ এবং অক্সিজেনের উপর সমপরিমাণ ঋণাত্মক চার্জ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ডাইপোল সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের A পাত্রের লবণটি হলো Al2(CO3)3 |
Al2(CO3)3 এর আণবিক ভর = (27 2 + 12 3 + 16 9)gmol-1
= 234 gmol-1
Al এর শতকরা সংযুতি = 100%
= 23.077%
C এর শতকরা সংযুতি
= 15.38 %
O এর শতকরা সংযুতি
= 61.54%
এর শতকরা সংযুতি:
Al = 23.077%
C = 15.38%
O = 61.54%
উদ্দীপকের বিকার A তে আছে 45g Al2(CO3)3 ও বিকার- B তে আছে 38g HNO3। বিকারদ্বয়ের দ্রবণদ্বয়কে মেশালে সংগঠিত বিক্রিয়া:
Al2(CO3)3 এর আণবিক ভর = (27 2 + 12 3 + 16 9) gmol-1
= 234 gmol-1
HNO3 এর আণবিক ভর = (1 + 14 + 16 3) gmol-1
= 63 gmol-1
Al2(CO3)3 -এর আণবিক ভর = (27+ 14 3 + 16 9) gmol-1
= 213 gmol-1
বিক্রিয়া হতে দেখা যায়,
6 mol HNO3 বিক্রিয়া করে 1 mol Al2(CO3)3 এর সাথে
অর্থাৎ, (6 63) g HNO3 বিক্রিয়া করে 234 g Al2(CO3)3 এর সাথে
1 g HNO3 বিক্রিয়া করে g Al2(CO3)3 এর সাথে
38g HNO3 বিক্রিয়া করে g Al2(CO3)3 এর সাথে
= 23.52 g Al2(CO3)3 এর সাথে
সুতরাং, Al2(CO3)3 অবশিষ্ট থাকবে= (45-23.52) g
= 21.48 g
অর্থাৎ বিক্রিয়ায় সম্পূর্ণ HNO3 অংশগ্রহণ করে ফেলবে। তাই এই বিক্রিয়ায় HNO3 হলো লিমিটিং বিক্রিয়ক। সুতরাং, উৎপাদ লবণের পরিমাণ নির্ণয়ে HNO3 এর ভর হিসাবে আনতে হবে।
বিক্রিয়া থেকে দেখা যায়,
6 mol HNO3 থেকে Al2(CO3)3 উৎপন্ন হয় 2 mol
অর্থাৎ, 3 mol HNO3 থেকে Al(CO3)3 উৎপন্ন হয় 1 mol
(3 63)g HNO3 থেকে Al(CO3)3 উৎপন্ন হয় 213 g
1 g HNO3 থেকে Al(CO3)3 উৎপন্ন হয় g
38 g HNO3 থেকে Al(CO3)3 উৎপন্ন হয় g
= 42.83 g
কিন্তু, উদ্দীপকে উৎপন্ন লবণের পরিমাণ 12 g
আমরা জানি, উৎপাদনের শতকরা পরিমাণ = প্রকৃত উৎপাদের পরিমাণ / হিসাবকৃত উৎপাদের পরিমাণ 100
উৎপাদনের শতকরা পরিমাণ =
রসায়নে মূলত দুই ধরনের বিশ্লেষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা পুণগত বিশ্লেষণ এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ। কোনো পদার্থকে এবং তার বিভিন্ন ধর্মকে শনান্ত করার পদ্ধতির নাম গুণগত বিশ্লেষণ এবং কোনো পদার্থের পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতির নাম পরিমাণগত বিশ্লেষণ। পরিমাণগত বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করা হয়। এসব হিসাব-নিকাশকে একত্রে রাসায়নিক গণনা বলা হয়। রাসায়নিক গণনায় কোনো পদার্থ এর পরিমাণ অনেক সময়েই মোল এককে প্রকাশ করা হয়। এই অধ্যায়ে তোমরা মোল কী, মোল দিয়ে হিসাব-নিকাশ কীভাবে করা হয়, মোলের হিসাব-নিকাশ থেকে কীভাবে ঘনমাত্রার হিসাব করা হয়। এই বিষয়গুলো জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
• মোলের ধারণা ব্যবহার করে সরল গাণিতিক হিসাব করতে পারব ।
• নির্দিষ্ট ঘনমাত্রার প্রবণ প্রস্তুত করতে পারব।
• প্রদত্ত তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যৌগে উপস্থিত মৌলের শতকরা সংযুক্তি নির্ণয় করতে পারব।
• শতকরা সংযুক্তি ব্যবহার করে স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত নির্ণয় করতে পারব।
• মৌল ও যৌগমূলকের প্রতীক সংকেত ও যোজনী ব্যবহার করে রাসায়নিক সমীকরণ লিখতে এবং সমতা বিধান করতে পারব।
• রাসায়নিক সমীকরণের মাত্রিক তাৎপর্য থেকে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের ভরভিত্তিক গাণিতিক
° সমস্যা সমাধান করতে পারব।
• তুঁতের কেলাস পানির শতকরা পরিমাণ নির্ণয় করতে পারব।
• নিত্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক দ্রব্য পরিমাপ করতে সক্ষম হব।
Related Question
View Allপারমাণবিক ভর বা আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় তা-ই সংশ্লিষ্ট পদার্থের এক মোল।
যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের অনুপাত প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের স্থূল সংকেত বলে। যেমন-হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যার অনুপাত হলো 2 : 2 বা 1 : 1 । অর্থাৎ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের স্থূল সংকেত হলো HO । আবার যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের আণবিক সংকেত বলে। যেমন- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের আণবিক সংকেত হলো H2O2।
উদ্দীপকের দ্রবণদ্বয় হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামক ক্ষারের দ্রবণ। এ দ্রবণদ্বয়কে একত্রে মিশ্রিত করলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড নামক লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়ার সমীকরণটি নিম্নরূপ-
NaCl লবণের সংযুতি নির্ণয় :
NaCl এর আপেক্ষিক আণবিক ভর = 23 + 35.5 = 58.5
যৌগটিতে,
সোডিয়ামের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 23
এবং ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 35.5
সোডিয়ামের সংযুতি =
এবং ক্লোরিনের সংযুতি =
দ্রবণে HCI এর পরিমাণ = 4g
HCI এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1095 মোল [ HCI এর আণবিক ভর = 1 + 35.5 = 36.5]
আবার,
100 mL দ্রবণে HCI দ্রবীভূত আছে = 0.1095 মোল
1000 mL “ HCI ” " মোল
= 1.095 মোল
অর্থাৎ HCI দ্রবণের ঘনমাত্রা = 1.095M
দ্রবণে NaOH এর পরিমাণ = 4g
NaOH এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1 মোল [ NaOH এর আণবিক ভর = 23 + 16 + 1 = 40 ]
আবার,
100 mL দ্রবণে NaOH দ্রবীভূত আছে = 0.1 মোল
1000 mL “ NaOH ” " মোল
= 1.0 মোল
অর্থাৎ NaOH দ্রবণের ঘনমাত্রা 1.0 M
সুতরাং, উদ্দীপকের দ্রবণ দুটির মোলারিটি সমান নয়।
এক বা একাধিক কোন মৌল বা যৌগের অণুর সংকেত উল্লেখ করে কিছু চিহ্নের সহায়তায় কোন রাসায়নিক পরিবর্তনের সংক্ষেপে লিখিতরূপকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ অর্থাৎ ০°C তাপমাত্রা এবং । বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোন গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার। একই ভাবে, কার্বন ডাই অক্সাইডের মোলার আয়তন দ্বারা প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে । মোল বা 44 গ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইডের আয়তন 22.4 লিটার বুঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!