যুক্তিবিদ্যায় শব্দ সাধারণত তিন প্রকার।
গুণগত দিক থেকে একটি পদ বা ব্যক্তির যে সকল আবশ্যিক ও সাধারণ গুণকে বোঝায় সে সকল গুণকে ঐ পদের 'জাত্যর্থ' বলে। জাত্যর্থ হলো কোনো পদের গুণের দিক। যেমন- মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি' ও 'জীববৃত্তি'; দার্শনিক পদের জাত্যর্থ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি', 'জীববৃত্তি' ও 'জ্ঞানানুরাগ'।
প্রদত্ত ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে যে বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে তা হচ্ছে পদ। পদের ইংরেজি শব্দ 'Term' যার উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ 'Terminus' থেকে। এ ল্যাটিন শব্দটির অর্থ প্রান্ত বা শেষ বা সীমান্ত। একটি যুক্তিবাক্যের দু প্রান্তে বা সংযোজকের দু পাশে যে শব্দাবলি দ্বারা উদ্দেশ্য এবং বিধেয় গঠিত হয় তাদেরকে যুক্তিবাক্যের 'পদ' বা 'Term' বলে। যেমন- Artistotle is the father of Logic. এটি একটি যুক্তিবাক্য। এ যুক্তিবাক্যে 'aristotle হলো 'Subject term' বা 'উদ্দেশ্য পদ' 'The father of Logic হলো 'Predicate term' বা 'বিধেয় পদ' এবং 'is' হলে Capula বা সংযোজক।
যুক্তিবিদ ল্যাটা ও ম্যাকবেথ বলেন, "একটি পদ হলো একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়, যুক্তিবাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় এবং যা কিছু বলা হয় তার জন্য এ পদ ব্যবহৃত হয়।" আধুনিক যুক্তিবিদ যোসেফ বলেন, "আমরা যেসব শব্দ বা শব্দসমষ্টিকে পদ বলে আখ্যায়িত করতে পারি সেগুলো নিজে নিজেই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হতে সমর্থ হয়।” যেমন- 'বাঘ হয় হিংস্র প্রাণী'- এ যুক্তিবাক্যে 'বাঘ' ও 'হিংস্র প্রাণী' শব্দসমষ্টি যুক্তিবাক্যের অন্যকোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া নিজে উদ্দেশ্য ও বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। 'হয়' শব্দটি একটি সম্বন্ধ সৃষ্টিকারী চিহ্ন হিসেবে 'সংযোজক' বলে বিবেচিত।
ছকে প্রদত্ত 'ক' ও 'খ' দ্বারা বোঝানো হয়েছে বিপরীত পদ ও বিরুদ্ধ পদকে। এদের মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্য রয়েছে। যেমন-
দুটি বিরুদ্ধ পদ একসাথে আলোচ্য বিষয়ের ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু দুটি বিপরীত পদ একসাথে আলোচ্য বিষয়ের ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করতে পারে না। যেমন- 'সাদা' এবং 'অসাদা' দুটি বিরুদ্ধ পদ। রঙের বিষয়টির সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু 'সাদা' ও কালো দুটি বিপরীত পদ রঙের বিষয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করতে পারে না। কারণ 'সাদা' ও 'কালো' ছাড়া আরও অনেক রং আছে; যেমন- নীল, হলুদ, লাল ইত্যাদি। দুটি বিরুদ্ধ পদের মধ্যে তৃতীয় কোনো বিকল্প পদের সম্ভাবনা থাকে না। যেমন- সভ্য ও অসভ্যের মাঝখানে তৃতীয় কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুটি বিপরীত পদের মধ্যে তৃতীয় বিকল্প থাকতে পারে। যেমন- 'সাদা' ও 'কালো'র মাঝখানে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে 'লাল' বা 'নীল' থাকতে পারে। কোনো পদের একাধিক বিরুদ্ধ পদ থাকতে পারে না। 'সাদা' পদের অসাদা ছাড়া আর কোনো বিরুদ্ধ পদ নেই। কিন্তু একটি পদের একাধিক বিপরীত পদ থাকতে পারে। যেমন- লাল বা সবুজের অন্যান্য রং হতে পারে। দুটি বিরুদ্ধ পদের একটি সত্য হলে অন্যটি অবশ্যই মিথ্যা হবে। যেমন- 'সুন্দর' সত্য হলে 'অসুন্দর' অবশ্যই মিথ্যা হবে, কিন্তু দুটি বিপরীত পদের একটি মিথ্যা হলে অপরটিও মিথ্যা হতে পারে। যেমন- 'সাদা ও 'কালো' দুটি বিপরীত পদ। কোনো বস্তু লাভ হয়ে থাকলে 'সাদা' ও 'কালো'র দুটি বিপরীত পদই লাভ বস্তু সম্পর্কে মিথ্যা বলে।'
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপদ' হলো এক বা একাধিক শব্দের সমষ্টি যা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়।
একটি যুক্তিবাক্যে সব সময় দুটি পদ থাকে, কিন্তু শব্দ থাকে দুই বা ততোধিক। যেমন- পানি হয় তরল। যুক্তিবাক্যে পানি ও তরল দুটি পদ। কিন্তু ভাসানী ছিলেন একজন বলিষ্ঠ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। বাক্যে ৬টি শব্দ আছে। যুক্তিবাক্যে পদ আছে দুই ধরনের, কিন্তু শব্দ আছে তিন ধরনের। সুতরাং ব্যাপকতার দিক থেকে শব্দ পদের চেয়ে বেশি ব্যাপ্য।
উদ্দীপকে ৩নং চিত্র ব্যাপ্যতার দিক থেকে E-যুক্তিবাক্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। 'পদের ব্যাপ্যতা' বলতে পদের প্রসারতাকে বোঝায়। একটি পদ যখন কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন পদটি দ্বারা যে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে তার দ্বারা সে পদের ব্যাপ্যতা বা ব্যাপ্তি নির্ণয় করা হয়। কোনো কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদটি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে প্রকাশ করে, আবার কোনো কোনো যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে। আবার কোনো পদ যখন আংশিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করে তখন তাকে 'অব্যাপ্য পদ' বলে।
E- যুক্তিবাক্য বলতে আমরা বুঝি যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে বিধেয় পদ অস্বীকার করে। যেমন- কোনো মানুষ নয় অমর। একে সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকের ৩নং চিত্রে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো- একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ উভয়-ই ব্যাপ্য। কারণ কালো দাগ বিশিষ্ট চিত্র দ্বারা ব্যাপ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আর E- যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ ব্যাপ্য। E-যুক্তিবাক্য সার্বিক বলে এর পদটি পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং উদ্দেশ্যটি ব্যাপ্য। আবার E-যুক্তিবাক্যটি নঞর্থক বলে বিধেয় পদটিও পূর্ণ ব্যাক্ত্যর্থ প্রকাশ করে। এজন্য বিধেয় পদটিও ব্যাপ্য। যেমন- কোনো মানুষ নয় অমর। সুতরাং ৩নং চিত্র ব্যাপ্যতার দিক থেকে E- যুক্তিবাক্যের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
চিত্রে কালো দাগ বিশিষ্ট অংশটি হলো ব্যাপ্য। সুতরাং ১নং চিত্রের একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং ২নং চিত্রে একটি যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাপ্যতা হলো প্রসারতা। যখন কোনো পদ একটি যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন পদটি দ্বারা যে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে, তার দ্বারা সে পদের ব্যাপ্তি নির্ণয় করা হয়। যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য হতে পারে, আবার বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হতে পারে।
উদ্দীপকের ১নং চিত্রে উদ্দেশ্যটি ব্যাপ্য, আর বিধেয় অব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই যুক্তিবাক্যকে A-যুক্তিবাক্য বলে। ২নং চিত্রে বিধেয়টি ব্যাপ্য এবং উদ্দেশ্যটি অব্যাপ্য হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং এটি একটি O-যুক্তিবাক্য।
A-যুক্তিবাক্য হলো সার্বিক সদর্থক। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদের সমগ্রকে স্বীকার করে নেয় তাকে A-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে। -যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় উদ্দেশ্য পদের অংশিককে অস্বীকার করে তাকে -যুক্তিবাক্য বা বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য বলে। যেমন- কিছু মানুষ নয় সাহসী। সুতরাং ১নং চিত্র ও ২নং চিত্রকে সম্পূর্ণ বিপরীত বলা যায়। কারণ ১নং চিত্রের যুক্তিবাক্যটি সার্বিক সদর্থক এবং ২নং চিত্রের যুক্তিবাক্যটি বিশেষ নঞর্থক। ১নং চিত্রে উদ্দেশ্য ব্যাপ্য এবং বিধেয় অব্যাপ্য। আর ২নং চিত্রে উদ্দেশ্য অব্যাপ্য এবং বিধেয় ব্যাপ্য হয়েছে। তাই ১নং চিত্র ও ২নং চিত্র বিপরীত।
মানুষের চিন্তা, ইচ্ছা, অনুভব করার কথিত ধ্বনি বা লিখিত চিহ্নকে শব্দ বলে।
যুক্তিবিদ্যায় শব্দ প্রধানত তিন প্রকার। যথা- ১। পদযোগ্য শব্দ, ২। সহ-পদযোগ্য শব্দ, ৩। পদ-নিরপেক্ষ শব্দ।
এটি ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো-
শব্দ | ||
পদযোগ্য শব্দ | সহ-পদযোগ শব্দ | পদ-নিরপেক্ষ শব্দ |
কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয়। যথা- মানুষ, কলম | যে শব্দ অন্য পদের সাহায্য ছাড়া যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। যথা- গুলো, টা, টি। | যে শব্দ যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। যথা- হায়! বাহ! |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!