নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় তবে ঐ তড়িৎ প্রবাহকে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ বলে।
আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের তড়িৎ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি এবং প্রতিটি যন্ত্রের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানের ফিউজ ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। যদি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য একই মানের ফিউজ ব্যবহার করা হতো তবে একদিকে যেমন বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকতো অন্যদিকে তেমনি বারবার ফিউজ তার পুড়ে যেয়ে অসুবিধার সৃষ্টি করতো। তাই উপরোক্ত সমস্যাগুলো এড়ানোর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য বিভিন্ন মানের ফিউজ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।
চিত্র: 'K' অনুযায়ী,
বিভব পার্থক্য, V = ১২ ভোল্ট
তড়িৎ প্রবাহ, I = ৩ অ্যাম্পিয়ার
রোধ, R = ?
আমরা জানি, V = RI
বা ওম = ৪ ও'ম
রোধের মান ৪ ও'ম।
যচিত্রে 'A' ও 'V' অর্থাৎ অ্যামিটার ও ভোল্টমিটার 'L' সমান্তরাল বর্তনীতে যথাক্রমে সিরিজ সংযোগে ও সমান্তরাল সংযোগে সংযুক্ত রয়েছে। যা বর্তনীর কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু অ্যামিটার ও ভোল্টমিটার পরস্পর স্থান বিনিময় করলে অর্থাৎ অ্যামিটারকে সমান্তরালে ও ভোল্টমিটারকে সিরিজে সংযুক্ত 'করলে 'L' বর্তনীর কার্যক্রম সচল থাকবে না। নিচে যুক্তিসহ এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো- অ্যামিটারের মধ্যে খুবই অল্প পরিমাণে রোধ থাকে। যার ফলে সিরিজ সংযোগে সংযুক্ত অ্যামিটারের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই প্রয়োজন অনুযায়ী তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু অ্যামিটারকে সমান্তরাল সংযোগে সংযুক্ত করা হলে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পাবে। যা ফিউজকে পুড়িয়ে দিবে নতুবা অ্যামিটারকে নষ্ট করে দিবে।
অপরদিকে সমান্তরালে সংযোগে সংযুক্ত ভোল্টমিটার প্রয়োজনীয় বিভব পার্থক্যের মাধ্যমে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ অব্যাহত রাখে। কিন্তু ভোল্টমিটারকে সিরিজ সংযোগে সংযুক্ত করলে এর মধ্যে রোধের পরিমাণ অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বর্তনীর মধ্য দিয়ে কোন প্রকার তড়িৎ প্রবাহিত হয় না এবং বিভব পার্থক্য থাকে না।
তাই বলা যায়, অ্যামিটার ও ভোল্টমিটার পরস্পর সমান বিনিময় করলে 'L' বর্তনীর কার্যক্রম সচল থাকবে না।
বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। এ প্রবাহ আবার দু'রকম- এসি এবং ডিসি প্রবাহ। কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। এই বর্তনীতে তড়িত্যন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য অ্যামিটার বা যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• এসি এবং ডিসি প্রবাহের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
• তড়িৎ বর্তনীতে রোধ, ফিউজ এবং চাবির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
• তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্যের মধ্যকার সম্পর্ক লেখচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারব,
• শ্রেণি ও সমান্তরাল বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্যের ভিন্নতা প্রদর্শন করত পারব;
• তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্য পরিমাপে অ্যামিটার ও ভোল্টমিটারের সঠিক ব্যবহার করতে পারব;
• তড়িতের কার্যকর ব্যবহার এবং অপচয় রোধে নিজে সচেতন হব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
