পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পৃথিবী নামক গ্রহ, যা জীবন, সম্পদ ও বাস্তুতন্ত্রের উৎস।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীর পরিবেশ যেসব জড় উপাদান ও সজীব উপাদান দ্বারা গঠিত তার অবস্থান, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। অর্থাৎ পৃথিবী নামক গ্রহ ও সেখানে অবস্থানরত মানুষ নিয়ে গড়ে ওঠে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি।
'A' চিহ্নিত চিত্রে ভূমিরূপবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মালভূমি, সমভূমি, পাহাড়, এবং পর্বত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে ভূমিরূপবিদ্যা। পৃথিবীর সব স্থান সমান নয়, কোথাও উঁচু পর্বত, কোথাও মালভূমি আবার কোথাও বিস্তৃত সমতল ভূমি বিদ্যমান। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
i. প্রশস্ত ও বিস্তীর্ণ সমতল ভূ-ভাগকে সমভূমি বলা হয়। এটি সাধারণত সমুদ্র সমতলের চেয়ে সামান্য উঁচু হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতে গঠিত হয়। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের শতকরা ৫৮ ভাগ এলাকা হলো সমভূমি।
ii. ভূ-পৃষ্ঠের অতি উচ্চ সুবিস্তৃত খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে। পর্বত সাধারণত ৬০০ মি. এর অধিক উচ্চ হয়। পৃথিবীর প্রায় ১৮ ভাগ এলাকা পার্বত্যভূমির অন্তর্গত।
iii. সমভূমি থেকে উঁচু বিস্তীর্ণ ভূমিকে মালভূমি বলে। এ ধরনের ভূমিরূপ ভূপৃষ্ঠের স্থলভাগের ২৪ শতাংশ এলাকা দখল করে আছে। মোটামুটি ৫০০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট টেবিল আকৃতির প্রশস্ত ভূমিকে মালভূমি বলে।
'A' চিহ্নিত চিত্রের উপাদানগুলো হলো পাহাড়, পর্বত, সমভূমি, মালভূমি। যা প্রাকৃতিক ভূগোলের ভূমিরূপবিদ্যা শাখায় আলোচনা করা হয়। 'B' চিহ্নিত চিত্রের উপাদানগুলো হলো- মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাত। যেগুলো প্রাকৃতিক ভূগোলের সমুদ্র ভূগোল শাখায় আলোচনা করা হয়।
ভূমিরূপবিদ্যা শাখা অধ্যয়নে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত নানা প্রকার মতবাদ ও এর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রাথমিকভাবে পৃথিবীর আকার ও আয়তন কেমন ছিল তার বর্ণনা, ভূমিকম্প ও ভূআলোড়নের ফলে পৃথিবীতে যে নানা প্রকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আবার, সমুদ্রভূগোল শাখায় সাগর, মহাসাগর, উপসাগর প্রভৃতির উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তরঙ্গ ও এর কার্য, সমুদ্রতলের বিন্যাস, সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতি, স্থলভাগের উপর সমুদ্রের প্রভাব, জোয়ার-ভাটা প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করা হয়।
চিত্রের উপাদানগুলো প্রাকৃতিক ভূগালের দুইটি প্রধান শাখার গুরুত্ব ও আওতা নির্দেশ করে। সুতরাং প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allভূগোল শব্দটি সর্বপ্রথম ইরাটসথেনিস ব্যবহার করেছেন।
পৃথিবীর প্রায় চারভাগের তিনভাগই সমুদ্র। তাই সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুও ব্যাপক।
সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান, অবনমন, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
