বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক এফ, ডব্লিউ টেলর।
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক কর্মীর আদেশদাতা হবে একজনমাত্র ব্যক্তি- এ নীতিকেই আদেশের ঐক্য নীতি বলে।
একজন কর্মীর আদেশদাতা একাধিক হলে একই সময়ে দুজন ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশ দিতে পারেন। এতে দ্বৈত অধীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে কর্মীর পক্ষে যথাযথভাবে সকল কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। তাই প্রতিষ্ঠানে আদেশের ঐক্য নীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য।
চিত্রিত উদ্দীপকে 'খ' স্থানে ব্যবস্থাপনাকে কর্মীসংস্থান কাজটি করতে হয়।
প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্মী সংগ্রহ, নির্বাচন, নিয়োগ ও উন্নয়নের কাজকেই কর্মীসংস্থান বলে। সঠিকভাবে কর্মী নির্বাচন ও ব্যবহারের ওপরেই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভরশীল।
সংগঠন প্রক্রিয়ায় কাজ এবং প্রতিটা কাজের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণের পর ঐ কাজ সম্পাদনের জন্য যোগ্য জনবল সংস্থানের প্রয়োজন পড়ে। এই জনবলের যোগ্যতা, আগ্রহ ও আন্তরিকতার ওপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে। তাই কর্মী নিয়োগে ভুল করলে প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি তার কুফল ভোগ করতে হয়। অন্যান্য সকল উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও, শুধু উপযুক্ত কর্মীর অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন ব্যাহত হবে। তাই ব্যবস্থাপকের অন্যতম কাজ হলো পরিকল্পনা ও সংগঠন কাঠামো অনুযায়ী যথাযথভাবে সঠিক কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ দান করা। সুতরাং উদ্দীপকে 'খ' স্থানে ব্যবস্থাপনাকে কর্মীসংস্থান কাজটি করতে হয়।
উদ্দীপকে 'ক' স্থানের ঘরে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাজটি রয়েছে যার সাথে নিয়ন্ত্রণ কাজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ভবিষ্যতে কী করা হবে তা আগাম ঠিক করাকেই পরিকল্পনা বলে। ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম কাজ হলো পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ ধারাবাহিকতা মেনে সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে 'ক' স্থানের ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাজটি রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী কাজটি হলো নিয়ন্ত্রণ যার সাথে পরিকল্পনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কী কাজ করা হবে, কেন করা হবে, কে করবে, কীভাবে করবে, কখন করবে ইত্যাদি নির্ধারণ করে। পক্ষান্তরে, নিয়ন্ত্রণ হলো ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ কার্য। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যসম্পাদন হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে যথাস্থানে সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হলো নিয়ন্ত্রণ। পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার অন্যান্য সকল কাজের ভিত্তিস্বরূপ, আর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই কাজকে আরও ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে মজবুত করে তোলে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত পরিকল্পনা অর্থহীন, সঠিক পরিকল্পনা আবার সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল। তাই অনেকে বলে থাকেন পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ আন্তঃসম্পর্কিত।
সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে 'ক' স্থানের ঘরে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাজ রয়েছে যা পূর্ববর্তী কাজ অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সংঘবদ্ধ মানব জীবনে ব্যবস্থাপনা এক অতি অপরিহার্য বিষয় । কতিপয় ব্যক্তি যখন কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একত্রিত হয় তখন তাদের সঠিকভাবে পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে। সেখানে যদি কেউ পরিচালক না থাকেন, যদি কেউ নেতৃত্ব না দেন তবে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়াই স্বাভাবিক । আর এরূপ বিশৃঙ্খলা মানুষসহ সকল উপকরণের কার্যকর ব্যবহার অসম্ভব করে তোলে । তাই একদল মানুষকে তাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেয়ার কার্যকর প্রয়াস বা শক্তিই হলো ব্যবস্থাপনা । আর যে বা যারা এ প্রয়াস চালান তাদেরকে ব্যবস্থাপক, প্রশাসক, নির্বাহী, পরিচালক ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয় । এরূপ প্রয়াস শুধু ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই এরূপ প্রয়াস- প্রচেষ্টা সম্পর্কে সবারই সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।
এ অধ্যায় শেষে শিক্ষার্থীরা (শিখন ফল)
১. ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে ।
২. ব্যবস্থাপনার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা । করতে পারবে ।
৩. ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে ।
৪. ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করতে পারবে
৫. ব্যবস্থাপনার আওতা সনাক্ত করতে পারবে ।
৬. ব্যবস্থাপনা চক্র বর্ণনা করতে পারবে ।
৭. ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর ব্যাখ্যা করতে পারবে ।
৮. পেশা হিসেবে ব্যবস্থাপনার অবস্থান বিশ্লেষণ করতে পারবে।
৯. ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বিশ্লেষণ করতে পারবে ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!