বাংলাদেশের সিলেট জেলার সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থলে মেঘনা নদীর সৃষ্টি হয়েছে।
নিরক্ষীয় নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সব সময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে খুব সহজেই প্রচুর সৌরশক্তি পেয়ে থাকে।
চিত্রে 'A' চিহ্নিত নদীটি হচ্ছে তিস্তা নদী।
সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে উৎপত্তি হয়ে তিস্তা নদী ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং-এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ডিমলা অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করেছে। এ নদী ১৯৮৭ সালের প্রবল বন্যায় গতিপথ - পরিবর্তন করে ব্রহ্মপুত্রের একটি পরিত্যক্ত গতিপথে প্রবাহিত হতে শুরু করে। গতিপথ পরিবর্তনের পূর্বে গঙ্গা নদীতে মিলিত হলেও বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়। তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য ১৭৭ কি. মি. ও প্রস্থ ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় তিস্তা নদীর ভূমিকা সর্বাধিক।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পটি ১৯৯৭-৯৮ সালে নির্মিত হয়। এ ব্যারেজটি ওই অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, পানিসেচ ও বন্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তিস্তা নদীর মতো অন্যান্য নদীর প্রভাব অপরিসীম। পানিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃষি পরিকল্পনা এখন বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে দেশের কৃষি অর্থনীতি দিন দিন উন্নত হচ্ছে, মানুষের কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীপথে লঞ্চ ও স্টিমার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে, পরিবহনের জন্যও নদীপথকে বাছাই করা হচ্ছে। ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নদীপথকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থা উন্নত করা, সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা, নির্মল বায়ু ও শহরগুলোর পানির ব্যবস্থা করাসহ জনজীবনকে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে নদ-নদীর ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলছে। উত্তরাঞ্চলে যেখানে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, সেখানে নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামের জনজীবন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের সকল নদ-নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
Related Question
View Allতিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়ে আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের পূর্বে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। আর এ শাখা নদীটি যমুনা নামে পরিচিতি।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত বনভূমিটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা।
সাধারণ উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে। অবশ্য সে কারণেই এসব বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলা হয়। চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ। তবে বর্তমানে এসব বনভূমি রাবার চাষও হচ্ছে। তাছাড়া এ বনগুলো অনেক সৌন্দর্যের রূপ পরিগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জাহিদ তার বিদেশি বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই চিরহরিৎ বনভূমিতে বেড়াতে গিয়ে বনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। প্রায় প্রতিনিয়তই সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা যাওয়া-আসা করে থাকেন।
উদ্দীপকে জাহিদের করা মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত নদীটির নাম কর্ণফুলী। কর্ণফুলি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী। এ নদীর উৎপত্তিস্থল লুসাই নামক পাহাড়ে। ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব নিকট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া এ নদীটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উদ্দীপকে জাহিদ ছুটিতে তার বিদেশি সহপাঠীদের নিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে ফেরার পথে বেড়াতে গিয়ে সে অঞ্চলের প্রধান নদীটি সম্পর্কে যে মন্তব্যটি করে তা কর্ণফুলি নদীকেই বুঝিয়েছে যা আলোচনায় স্পষ্ট।
তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, উদ্দীপকে জাহিদের মন্তব্যটি যথার্থ।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে।
নিরক্ষীয় নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সব সময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। আর তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচুর সৌরশক্তি পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!