উত্তরঃ

প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (\(n\)) দ্বারা একটি প্রধান শক্তিস্তরের বা কক্ষপথের (shell) ক্রমিক সংখ্যা বোঝানো হয়। প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা \(2n^2\) সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। দ্বিতীয় প্রধান শক্তিস্তর, যা E\(_2\) দ্বারা নির্দেশিত, এর জন্য প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা \(n=2\)।

যখন \(n=2\), তখন অ্যাজিমুথাল কোয়ান্টাম সংখ্যা (\(l\)) এর মান \(0\) থেকে \((n-1)\) পর্যন্ত হয়। সুতরাং, \(l=0\) এবং \(l=1\) হবে। \(l=0\) হলে তা 's' উপশক্তিস্তর নির্দেশ করে এবং \(l=1\) হলে তা 'p' উপশক্তিস্তর নির্দেশ করে। প্রতিটি উপশক্তিস্তরের জন্য চুম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা (\(m_l\)) এর মান \(-l\) থেকে \(+l\) পর্যন্ত হয়। 's' উপশক্তিস্তরের (\(l=0\)) জন্য \(m_l=0\), যা একটি 's' অরবিটাল নির্দেশ করে। 'p' উপশক্তিস্তরের (\(l=1\)) জন্য \(m_l=-1, 0, +1\), যা তিনটি 'p' অরবিটাল নির্দেশ করে।

পাউলির বর্জন নীতি (Pauli exclusion principle) অনুসারে, একটি অরবিটালে সর্বোচ্চ দুটি ইলেকট্রন থাকতে পারে, যাদের ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (\(m_s\)) বিপরীতমুখী হয় (\(+1/2\) এবং \(-1/2\))। E\(_2\) শেলে (\(n=2\)) একটি 's' অরবিটাল এবং তিনটি 'p' অরবিটাল থাকে। সুতরাং, 's' অরবিটালে সর্বোচ্চ \(1 \times 2 = 2\)টি ইলেকট্রন এবং তিনটি 'p' অরবিটালে সর্বোচ্চ \(3 \times 2 = 6\)টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। এর ফলে E\(_2\) শেলে মোট ইলেকট্রন সংখ্যা হবে \(2 + 6 = 8\)। এই কারণেই চিত্রস্থিত E\(_2\) সেলটিতে (বা দ্বিতীয় প্রধান শক্তিস্তরে) আটটির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ঘূর্ণায়মান থাকে এবং প্রতিটি শক্তিস্তরের নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তিস্তরের ধারণা বিজ্ঞানী নিলস বোর তার পরমাণু মডেলের মাধ্যমে প্রথম উপস্থাপন করেন। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াস থেকে যত দূরে অবস্থিত হয়, তার শক্তিস্তরের শক্তি তত বেশি হয়।

উদ্দীপকের চিত্রে H-পরমাণুর (হাইড্রোজেন পরমাণু) শক্তিস্তরসমূহ দেখানো হয়েছে, যেখানে E₁, E₂ এবং E₃ যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শক্তিস্তর। E₁ হলো নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছের শক্তিস্তর (প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n = 1) এবং E₃ হলো তৃতীয় শক্তিস্তর (প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n = 3)। যেকোনো শক্তিস্তরের শক্তি নিউক্লিয়াস থেকে তার দূরত্বের উপর নির্ভরশীল।

বোরের পরমাণু মডেল অনুসারে, হাইড্রোজেন পরমাণুর n তম শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের শক্তি নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:

\(E_n = -\frac{R_h}{n^2}\)

যেখানে, \(E_n\) = n তম শক্তিস্তরের শক্তি

\(R_h\) = রিডবার্গ ধ্রুবক (শক্তির এককে এর মান প্রায় 13.6 eV)

n = প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা বা শক্তিস্তরের ক্রমিক নং

এখন, \(E_1\) শক্তিস্তরের জন্য (n=1):

\(E_1 = -\frac{13.6}{(1)^2} = -13.6\) eV

এবং \(E_3\) শক্তিস্তরের জন্য (n=3):

\(E_3 = -\frac{13.6}{(3)^2} = -\frac{13.6}{9} \approx -1.51\) eV

প্রাপ্ত মানসমূহ তুলনা করে দেখা যায় যে, E₁ = -13.6 eV এবং E₃ ≈ -1.51 eV। ঋণাত্মক মানের ক্ষেত্রে, যে মানটি শূন্যের কাছাকাছি থাকে, সেটি বড় হয়। এক্ষেত্রে, -1.51 eV > -13.6 eV। সুতরাং, \(E_3\) শক্তিস্তরের শক্তি \(E_1\) শক্তিস্তরের শক্তি অপেক্ষা বেশি। এর অর্থ হলো, নিউক্লিয়াস থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, শক্তিস্তরের শক্তি তত বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ ইলেকট্রন নিউক্লিয়াস থেকে তত কম দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
89

গুণগত রসায়ন

গুণগত রসায়ন হল রসায়নের একটি শাখা যা কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের মধ্যে কোন উপাদান বা যৌগ উপস্থিত আছে তা নির্ণয় করার সাথে সম্পর্কিত। এটি মূলত একটি পদার্থের গুণগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, কোনো পদার্থ কী দিয়ে তৈরি, তা জানার চেষ্টা করা।

গুণগত বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য

  • পদার্থের পরিচয়: কোনো অজানা পদার্থ কী দিয়ে তৈরি তা নির্ণয় করা।
  • শুদ্ধতা নিরূপণ: কোনো পদার্থ শুদ্ধ কিনা তা নির্ণয় করা।
  • মিশ্রণের উপাদান নির্ণয়: কোনো মিশ্রণে কোন কোন উপাদান রয়েছে তা নির্ণয় করা।
  • রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া বোঝা: বিভিন্ন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ধরন বোঝা।

গুণগত বিশ্লেষণের পদ্ধতি

গুণগত বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  • শিখা পরীক্ষা: বিভিন্ন ধাতুকে আগুনে পোড়ালে তারা নির্দিষ্ট রঙের আলো দেয়। এই রঙের উপর ভিত্তি করে ধাতু চিহ্নিত করা হয়।
  • অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া: একটি দ্রবণে কোনো বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ যোগ করলে একটি অদ্রবণীয় পদার্থ তৈরি হলে তা দিয়ে উপস্থিত আয়নকে চিহ্নিত করা যায়।
  • গ্যাসীয় পরীক্ষা: কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নির্দিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হলে তা দিয়ে উপস্থিত আয়নকে চিহ্নিত করা যায়।
  • বর্ণালী বিশ্লেষণ: কোনো পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করে। এই আলোকে বিশ্লেষণ করে পদার্থের উপাদান নির্ণয় করা হয়।
  • ক্রোমাটোগ্রাফি: এই পদ্ধতিতে একটি মিশ্রণকে তার উপাদানে বিভক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়।

গুণগত বিশ্লেষণের ব্যবহার

গুণগত বিশ্লেষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়, যেমন:

  • রসায়ন: নতুন যৌগ আবিষ্কার, মিশ্রণ বিশ্লেষণ, শিল্পে ব্যবহৃত পদার্থের শুদ্ধতা নির্ণয়।
  • জীববিজ্ঞান: জৈব যৌগের বিশ্লেষণ, খাদ্য পদার্থের গুণগত বিশ্লেষণ।
  • পরিবেশ বিজ্ঞান: পানি, বায়ু এবং মাটিতে বিভিন্ন ধরনের দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতি নির্ণয়।
  • ফরেনসিক বিজ্ঞান: অপরাধের ঘটনাস্থলে পাওয়া নমুনা বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করা।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews