সূর্য উদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়কে দিবা দৈর্ঘ্য বলে।
বিভিন্ন সময়ে বা বিভিন্ন ঋতুতে যে বিভিন্ন রকম বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। মৌসুমি বায়ু প্রবাহের দ্বারা সৃষ্ট জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ু প্রবাহের দিক ও গতি পরিবর্তিত হয়। শীতকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এবং গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা মৌসুমি জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে উছায়বা ম্যাডামের আলোচনার বিষয় হলো জলবায়ুর উপাদান। কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে। নিম্নে জলবায়ুর উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো-
তাপমাত্রা: তাপমাত্রার প্রধান উৎস হলো সূর্যরশ্মি। সূর্যরশ্মি সৌরশক্তির আকারে ভূ-পৃষ্ঠে তাপ সঞ্চার করে। ফলে বায়ু উত্তপ্ত হয়। ঋতু ও স্থানভেদে সৌরকিরণ প্রাপ্তির কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্য হয়ে থাকে। পানির বাষ্পীভবন, বায়ুর গতিশীলতা, মেঘমালা সৃষ্টি ইত্যাদি তাপমাত্রার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
বৃষ্টিপাত: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং ভারী হয়ে ওঠে। ঐ ভারী জলকণার সমষ্টি মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বৃষ্টিপাত বলে। কুয়াশা: কখনো কখনো ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এত কমে যায় যে আর্দ্র বাতাস ভূ-পৃষ্ঠের শীতল পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে অতি সূক্ষ্ম জলধারায় পরিণত হয়ে কুয়াশা সৃষ্টি করে। এসব জলবিন্দু এতই সূক্ষ্ম ও হালকা যে তা শিশির হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে না পড়ে মেঘের মতো বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
তুষারপাত: ভূ-পৃষ্ঠ এবং তার নিকটস্থ বস্তুর তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে এর উপরিভাগে ভাসমান জলীয়বাষ্প সরাসরি বরফ কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয় যা তুষারপাত নামে পরিচিত।
অতএব, একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সে দেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের রাফির বাবার প্রথম উক্তিটি হলো, কৃষিজ পণ্যের ওপর কৃষি জলবায়ুর অনেক প্রভাব রয়েছে। কৃষি জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি এসব উপাদানের উপর কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন নির্ভর করে।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে। ঠান্ডা ঋতুর ফসল অপেক্ষাকৃত কম তাপ পছন্দ করে। যেমন- গম, আলু ইত্যাদি। উষ্ণ ঋতুর ফসল অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রায় জন্মে। যেমন-পাট, রাবার ইত্যাদি।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসল উৎপাদনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। উৎপাদন ঋতুতে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বাংলাদেশে উফশী ধানের ফলন কমে যায় এবং গমে রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা ফলের বৃদ্ধি ও পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে। যেকোনো শাকসবজি ও ফলের জন্য তাপমাত্রা ১০° সে. এর নিচে গেলে গাছে ঠান্ডাজনিত ক্ষত এবং ফলন কম হয়। গ্রীষ্মকালে বোনা আউশ ও পাটের বীজ গজানো বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাত বেশি হলে অনেক শাকসবজির গোড়া পচে যায়, ফুল- ফল ধারণ ব্যাহত ও ফলন কম হয়। খরার পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে কলা, টমেটো, আখ প্রভৃতিতে ফাটল দেখা যায়। তুষারপাতে খোলা মাঠের ফসল নষ্ট হয়। আবার, কোনো কোনো ফসলের কুঁড়ি তুষারপাত না হলে বের হয় না, যেমন- আপেল। কুয়াশা ফসল উৎপাদনে এবং ফসলের রোগ ও পোকার আক্রমণে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কুয়াশা বেশি থাকলে আলুর মড়ক ও আমের অ্যানথ্রাকনোজ রোগ বেশি হয়।
অর্থাৎ, কৃষি জলবায়ুর উপাদান বাংলাদেশে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allজিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।
কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।
বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।
তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
i. স্বল্প দিবস ফসল
ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও
iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।
যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!