যে শাস্ত্র নাগরিকের অতীত, 'বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবতার সাথে জড়িত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি বলে।
পৌরনীতি হলো নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকদের সর্বাধিক কল্যাণ সাধনই পৌরনীতির মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক নাগরিক একাধারে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বসমাজের সদস্য। তাই। পরিবারের সদস্য হিসেবে কীরূপ কর্তব্য পালন এবং অধিকার ভোগ করলে সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে- এর দিকনির্দেশ করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। একইভাবে সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও যথাযথ কর্তব্য ও অধিকারের দিকনির্দেশনা দিয়ে সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই পৌরনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের চিত্রে পৌরনীতি পাঠের নাগরিকে জাতীয় দিক সম্পর্কিত শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধের উল্লেখ রয়েছে। যা নাগরিকের জাতীয় দিকের কথাই ঘোষণা করে। কারণ রাষ্ট্রের জাতীয় ক্ষেত্রে নাগরিকের। অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্বাধীনতাও নাগরিকের। অধিকার। কারণ স্বাধীনতা থাকলে অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। বৈদেশিক নীতি গ্রহণ ও পরিচালনা করতে পারে। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও নাগরিকের ওপর আনুগত্য দাবি করতে পারে। নাগরিকের জীবনের পূর্ণাঙ্গ তার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র থেকে আমরা এ শিক্ষাই লাভ করে থাকি।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি জাতীয় স্মৃতিসৌধের। এটি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। চিত্রটির মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হই। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতার চেতনার গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৭১ সালে আমরা একই জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত হয়ে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হই। অনেক ত্যাগ ও ধৈর্যের ফসল হিসেবে লাভ করি স্বাধীনতা। কষ্টার্জিত এ স্বাধীনতাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ, স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ইত্যাদি। চিত্রে প্রদর্শিত স্মৃতিসৌধটি ঢাকার সাভারে অবস্থিত 'জাতীয় স্মৃতিসৌধ'। এটি আমাদেরকে স্মরণ করে দেয় সকল শহিদ মুক্তিযোদ্ধের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা। এটি আমাদের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করে। এ চেতনা আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে। জাতীয় ঐক্য সুসংহত করে। সুতরাং বলা যায়, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় চিত্রে প্রদর্শিত চেতনার (স্বাধীনতার চেতনার) গুরুত্ব অপরিসীম।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allনাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!