শ্বশুর-শাশুড়ি হলো বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্ক।
বিবর্তন বলতে ধীরগতিতে ক্রমপরিবর্তনকে বোঝায়।
বিবর্তন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজগুলো অধিকতর জটিল রূপ পরিগ্রহ করে। আর এই জটিল রূপ পরিগ্রহ করার কারণ হলো অধিকতর উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা পরিবেশকে কাজে লাগানো। তাই বলা যায়, বিবর্তন বলতে সবসময় অগ্রসরতাকে বোঝানো হয়। যেমন- কৃষি ক্ষেত্রে সনাতনী ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে কৃষির বিবর্তন।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক পরিবর্তনের চক্রাকার মতবাদটি প্রযোজ্য।
সমাজ সবসময় পরিবর্তনশীল। সমাজ পরিবর্তনের মতবাদগুলোকে সমাজবিজ্ঞানী বটোমোর প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- চক্রাকার মতবাদ ও রৈখিক মতবাদ। চক্রাকার তত্ত্বের মূলকথা হলো সামাজিক ঘটনাসমূহের পুণরাবৃত্তি ঘটে এবং পুণরাবৃত্তিমূলক ঘটনার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকে।
চক্রাকার মতবাদের প্রবক্তাদের মধ্যে ইবনে খালদুন এর মতে সমাজ ঘড়ির কাঁটার ন্যায় চক্রাকারে পরিবর্তিত হয় এবং ১২০ বছর পর পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এ মতবাদ অনুসারে মানুষের ইতিহাস কালচক্রে বিবর্তিত হচ্ছে অর্থাৎ মানুষের ইতিহাস যেখান থেকে শুরু আবার সেখানেই ফিরে আসবে। এক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রত্যেক স্তর পূর্ববর্তী স্তর হতে সৃষ্টি হয় এবং তা পরবর্তী স্তরের জন্ম দেয়। প্রতিটি সভ্যতারই উৎপত্তি, বিকাশ ও ধ্বংসের পর্যায় রয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে প্রতিটি সভ্যতার ক্ষেত্রে এরূপ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চক্রাকার মতবাদ একটি প্রাচীন ধারণা।
সামাজিক পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী এ পরিবর্তনগুলোকে বিভিন্ন তত্ত্বের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মধ্যে চক্রাকার তত্ত্ব অন্যতম। এ তত্ত্বের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন যে সমাজ চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে পুণরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
চক্রাকার তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা প্যারেটো বলেন, "সমাজ পরিবর্তনের ধারা চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে এবং সমাজ ঘুরে-ফিরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।" তিনি তার তত্ত্বে এলিট চক্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে সমাজ কীভাবে আবর্তিত হয়। এ তত্ত্ব অনুযায়ী শাসনকারী এলিটরা চিরকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। এক সময় তাদের ক্ষমতা ফুরিয়ে যায়, ফলে তাদের পরিবর্তে অশাসক এলিটরা ক্ষমতা দখল করে। এভাবে শাসক ও অশাসক এলিটের মধ্যে চক্রাকারে ক্ষমতার হস্তান্তর চলতে থাকে। তিনি এই চক্রাকারে আবর্তনকেই সমাজ পরিবর্তনের সূত্র বলে অভিহিত করেছেন।
উক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি বোঝা যায় যে সমাজ পরিবর্তনের চক্রাকার মতবাদের যৌক্তিকতা রয়েছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!