সমন্বিত চাষে যখন মাছের সাথে অন্য ফসলের চাষ করা হয় সেটাই হলো সমন্বিত মাছ চাষ।
জন্মের পর থেকে এক বছরের বেশি বয়সের গরু-মহিষের বাচ্চাকে বাছুর বলে।
আজকের বাছুরই ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদনশীল গাভি, প্রজনন উপযোগী ষাড় বা মাংস উৎপাদনকারী গরু। বাছুরের শারীরিক বৃদ্ধি ভালোভাবে না হলে পরবর্তীতে ভালো উৎপাদনশীল গরু হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। অর্থাৎ সুস্থ সবল গরু পেতে হলে বাছুরের যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। অন্যথায় দুগ্ধ খামারকে লাভজনক করা যাবে না। এজন্য দুগ্ধ খামারের ভবিষ্যৎ বাছুরের উপর নির্ভরশীল।
চিত্রের চাষ পদ্ধতিতে মাছের সাথে হাঁস ও মুরগির সমন্বিত চাষ পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
একই সময়ে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে। হাঁস-মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষে পুকুরে ৮-১২ সেমি আকারের বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছের পোনা শতক প্রতি ৩৫-৪০টি ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে ছাড়া যায়। যার মধ্যে শতক প্রতি কাতলা/ বিগহেড ৪টি, সিলভার কার্প ৯টি, বুই ৮টি, মৃগেল ও কার্পিও ৪টি, গ্রাস কার্প ১টি এবং সরপুঁটি ৫-১০টি করে ছাড়তে হবে। প্রতিমাসে একবার জাল টেনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। পুকুরে অক্সিজেনের অভাব হলে নতুন পানি সরবরাহ বা বাঁশ পিটিয়ে বা সাঁতার কেটে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পুকুরের তলদেশে গ্যাস জমা হলে হররা (একটি মোটা দড়ির সাথে ছোট ছোট দড়ি দ্বারা ইট ঝুলিয়ে বেঁধে দেওয়া) টেনে পুকুর থেকে গ্যাস দূর করতে হবে। ক্ষত রোগের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শীতের শুরুতে শতক প্রতি ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। উল্লিখিত উপায়ে মাছের প্রজাতি নির্বাচন করে সঠিকভাবে যত্ন নিলে লাভবান হওয়া যায়।
চিত্র-ক তে সমন্বিত মাছ ও মুরগি চাষ এবং চিত্র-খ তে সমন্বিত মাছ ও হাঁস চাষ পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
সমন্বিত চাষে যখন মাছের সাথে হাঁস পালন করা হয় তখন তাকে সমন্বিত মাছ ও হাঁস চাষ বলে। আবার, সমন্বিত চাষে যখন মাছের সাথে মুরগি পালন করা হয় তখন তাকে সমন্বিত মাছ ও মুরগি চাষ বলে।
উভয় পদ্ধতিতেই পুকুর প্রস্তুতি ও ঘর নির্মাণে একই পরিমাণ খরচ হয়।
বাচ্চা অবস্থায় ৯০ দিন পর্যন্ত প্রতিটি হাঁসের জন্য প্রতিদিন ৬০-৯০ গ্রাম এবং পরবর্তীতে ১১০-১২৫ গ্রাম সুষম খাদ্য দিতে হবে। অপরদিকে, ব্রয়লার মুরগিকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দিতে হবে। তবে প্রতিটি লেয়ার মুরগির জন্য প্রথমে ৪ সপ্তাহ ৮০-৯০ গ্রাম এবং পরবর্তীতে ১১০-১২০ গ্রাম হারে দৈনিক খাবার প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ হাঁস পালনে মুরগির তুলনায় খাদ্য বাবদ খরচ কম হয়। হাঁস পালনে যত্ন ও পরিচর্যা কম লাগে এবং হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। খাকি ক্যাম্পবেল বা ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁস বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দেয়। আবার লেয়ার মুরগি বছরে ২০০-২৫০টি ডিম দেয়। অর্থাৎ মুরগির তুলনায় হাঁস ৪০-৫০ টি ডিম বেশি পাড়ে। এছাড়াও মুরগির ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিমের ওজন ১৫-২০ গ্রাম বেশি হয়। একটি ব্রয়লার মুরগি ২ মাসে প্রায় ১.৫-২ কেজি ওজনের হয়। পক্ষান্তরে, খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস ২-২.৫ কেজি ওজনের হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, চিত্র-ক এবং চিত্র-খ উভয় পদ্ধতিতেই পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানো গেলেও চিত্র-খ অর্থাৎ সমন্বিত মাছ ও হাঁস চাষ পদ্ধতিতে খরচ তুলনামূলকভাবে কম লাগে।
Related Question
View Allপালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।
আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।
সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!