i) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যোজ্যতা ইলেক্ট্রনের পরিবর্তন ঘটে অপর পক্ষে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় পরমানুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে।
ii. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয় না কিন্তু নিউক্লিয় বিক্রিয়ায়। নতুন মৌল সৃষ্টি হয়।
iii. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তন কম হয় অপরপক্ষে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তন অনেক বেশী।
রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা নিম্নরূপ :
1. আণবিক ও নিউক্লিয় পর্যায়ে পরিবর্তন:
• রাসায়নিক বিক্রিয়া: রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর বাইরের কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো ইলেকট্রনগুলির বিনিময়, ভাগ, বা সংযোগ ঘটে। এটি পরমাণুর আণবিক গঠনে প্রভাব ফেলে এবং নতুন যৌগ তৈরি হয়, কিন্তু পরমাণুর নিউক্লিয়াসে (যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে) কোনো পরিবর্তন ঘটে না। উদাহরণস্বরূপ, পানি তৈরি করার সময় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিনিময় ঘটে, কিন্তু তাদের নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে।
• নিউক্লিয় বিক্রিয়া: নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন বা নিউট্রনের বিনিময় বা বিক্ষিপ্তকরণ ঘটে। এই বিক্রিয়ার ফলে একটি নতুন মৌল তৈরি হতে পারে, এবং এটি সম্পূর্ণভাবে পরমাণুর গঠনকে বদলে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় ইউরেনিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি ছোট পরমাণু তৈরি হয়।
2. শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার:
• রাসায়নিক বিক্রিয়া: রাসায়নিক বিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম শক্তি উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি বা খাবার পোড়ানোর সময় যে তাপ বা আলো উৎপন্ন হয় তা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলাফল। এই শক্তির পরিমাণ খুবই সীমিত এবং সাধারণত দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়।
• নিউক্লিয় বিক্রিয়া: নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় বিশাল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। এক কেজি ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয় বিক্রিয়া থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় তা কয়েক হাজার কেজি কয়লার জ্বলনের শক্তির সমান হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে এই শক্তি ব্যবহৃত হয়।
3. প্রতিক্রিয়ার গতি ও পরিস্থিতি:
• রাসায়নিক বিক্রিয়া: রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো সাধারণত স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চাপে ঘটে। এগুলো ঘটতে সময় নেয় এবং বিক্রিয়ার গতি পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। যেমন: লোহা জং ধরতে সময় নেয় বা খাবার পচতে কয়েকদিন সময় লাগে।
• নিউক্লিয় বিক্রিয়া: নিউক্লিয় বিক্রিয়া সাধারণত খুব দ্রুত ঘটে এবং অনেক বেশি শক্তি বা তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে এবং এর প্রভাব বিশাল হয়।
এইভাবে, রাসায়নিক এবং নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মধ্যে মূলত গঠনগত পরিবর্তন, শক্তি উৎপাদন, এবং বিক্রিয়ার গতি ও প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allহাইড্রোজেন বিকিরণ বর্ণালির পাঁচটি সারির নামঃ
- লাইমেন
- বামার
- প্যশ্চেন
- ব্র্যাকেট
- ফুনড্
বোরের পরমাণু মডেলের অনেক সফলতা থাকলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বোরের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা গুলি নিম্নরূপঃ
১. বোর পরমাণু মডেল এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা করতে পারলেও একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুসমূহের বর্ণালী ব্যাখ্যা করতে পারে না।
২. বোরের পরমাণু মডেল হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির পরিপন্থী।
৩. এ মডেল ইলেকট্রনের কণা ধর্ম ব্যাখ্যা করতে পারলেও তরঙ্গ ধর্ম ব্যাখ্যা করতে পারে না।
৪. এক শক্তিস্তর হতে অপর শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটলে বোর পরমাণু মডেল অনুসারে বর্ণালীতে একটি করে রেখা সৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণা করে দেখা গেছে প্রতিটি রেখা একাধিক সূক্ষ্ম রেখায় বিভক্ত। এর ব্যাখ্যা বোর মডেল দিতে পারেনা।
৫. বোরের পরমাণু মডেল হতে পরমাণুর ত্রিমাত্রিক কাঠামো সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যায় না।
বোর পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ মডেল পরমাণু স্থায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে পারে।
এজন্য বোর পরমাণু মডেল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
তাপমাত্রা বাড়ালে বিক্রিয়া পশ্চার দিকে গমন করবে এবং কমালে সম্মুখ দিকে গমন করবে
সাম্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি করা হলে সম্মুখ দিকে গমন করবে এবং হ্রাস করা হলে পশ্চাৎমুখী হবে
কোন বিক্রিয়ার সাম্য ধ্রুবক এবং বিক্রিয়ার হার ধ্রুবক উভয়েই তাপমাত্রা দ্বারা প্রভাবিত হয়
কিন্তু সাম্যাবস্থা ধ্রুবকের(K) উপর প্রভাবকের কোন প্রভাব নেই
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!