এক বা একাধিক খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত পদার্থকে শিলা বলে।
যেমন- চুনাপাথর।
পর্বতের বরফ গলা পানি প্রবাহিত হয়ে নদীর সৃষ্টি হয়।
উঁচু পর্বত, মালভূমি বা উঁচু কোনো স্থান থেকে বৃষ্টি, প্রস্রবণ, হিমবাহ বা বরফগলা পানির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্রোতধারার মিলিত প্রবাহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট খাতে প্রবাহিত হয়। এ প্রবাহ সমভূমি বা নিম্নভূমির উপর দিয়ে কোনো বিশাল জলাশয় বা হ্রদে মিলিত হয়ে নদীর সৃষ্টি হয়।
চিত্রের 'B' স্তরটি গুরুমণ্ডল।
কেন্দ্রমণ্ডলের বহির্ভাগ থেকে অশ্মমণ্ডলের নিম্নস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমণ্ডল বলা হয়।
ভূত্বকের নিচে প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গুরুমণ্ডল বিস্তৃত। গুরুমণ্ডল প্রধানত সিলিকন (Si), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), লোহা (Fe), কার্বন (C) প্রভৃতি উপাদানে গঠিত। এর মধ্যে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় এর স্তরটি সিমা (Sima) নামে পরিচিত। গুরুমণ্ডল দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- i. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল যা ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মণ্ডল প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত। ii. নিম্ন গুরুমণ্ডল প্রধানত আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত।
যচিত্রের A ও C স্তর দুটি যথাক্রমে অশ্মমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
অশ্মমণ্ডলের উপরিভাগে পৃথিবীর বাইরের কঠিন বহিরাবরণকে ভূত্বক বলে। ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং গড়ে ৩৫ কি.মি. পুরু। সমুদ্রের তলদেশে এ স্তর ৩ থেকে ১০ কি.মি. এবং গড়ে ৫ কি.মি. পর্যন্ত পুরু। সাধারণভাবে মহাদেশের তলদেশের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে; যা সিলিকন (Si) এবং অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত। এ স্তরে গ্রানাইট শিলার প্রাধান্য দেখা যায়। সমুদ্রের তলদেশের স্তরকে সিমা (Sima) স্তর বলে যা প্রধানত সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত। সিয়াম স্তরটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত।
গুরুমণ্ডলের নিম্নভাগ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত কেন্দ্র মণ্ডলটি প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহের মধ্যে এ স্তরের পুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। এ মন্ডলটি দুটি স্তরে বিভক্ত। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে কেন্দ্রমন্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ রয়েছে যা প্রায় ২,২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি কঠিন অন্তঃভাগ রয়েছে যা ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস যে, কেন্দ্রমণ্ডলের
উপাদানগুলির মধ্যে লোহা, নিকেল, পারদ ও সীসা রয়েছে। তবে প্রধান উপাদান হলো নিকেল ও লোহা।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, পৃথিবীর কেন্দ্রে ভারি উপাদানগুলি অবস্থান নিয়েছে। গভীরতা, তাপ ও চাপের কারণে এসব উপাদান
ক্ষেত্রবিশেষে তরল অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে অশ্মমণ্ডলের উপাদানগুলো হালকা হলেও কঠিন আকারে রয়েছে
সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়। এ সময় এর উপর যে আস্তরণ পড়ে তা হলো ভূত্বক। ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। ভূত্বক যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি তার সাধারণ নাম শিলা। পৃথিবীতে কার্যরত বিভিন্ন ভূমিরূপ প্রক্রিয়া শিলা ও খনিজের ধরন দ্বারা প্রভাবিত হয়। ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তন দুরকম। ধীর পরিবর্তন ও আকস্মিক পরিবর্তন। এ অধ্যায়ে আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গঠন, বিভিন্ন রকম শিলা, ভূপৃষ্ঠের ধীর ও আকস্মিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করব।
Related Question
View Allযে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে নদী উপত্যকা বলে।
উর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নদিকের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।তাই একে 'V' উপত্যকা বলা হয়।
প্রবাহিত নদী খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
ঊর্ধ্বগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় বলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়।
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ায় তা বড় বড় শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে নিচের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!