ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সুউচ্চ শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
যেমন- হিমালয়।
জীবাশ্ম হচ্ছে বিভিন্ন জীবজন্তু ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ।
ভূঅভ্যন্তরের পাললিক শিলা গঠনের সময় জীবজন্তু ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ বিভিন্ন স্তরে ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়। এ কারণে পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।
চিত্র-১ এর 'A' ও 'B' যথাক্রমে ভূঅভ্যন্তরের ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল স্তরকে নির্দেশ করে।
ভূত্বক: ভূপৃষ্ঠের শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার। ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু। সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sail) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত। অপরদিকে সীমা স্তরটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg)। ভূত্বকের উপরের ভাগেই ব্যাহিক অবয়বগুলো যেমন-পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইতাদি দেখা যায়। ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।
গুরুমণ্ডল : অশ্মমন্ডলের নিচে প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু মন্ডলকে গুরুমণ্ডল বলে। এ স্তরটি অশ্মমন্ডলের নিচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডলের উপরের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
গাঠনিক উপাদান: গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।
স্তরসমূহ: গুরুমণ্ডল দুই ভাগে বিভক্ত-
i. ঊর্ধ্বগুরুমণ্ডল: এই মণ্ডল প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত। এটি ৭০০-২৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
ii. নিম্নগুরুমণ্ডল: নিম্নগুরুমণ্ডল প্রধানত আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত।
চিত্র-২ এর ঘটনাটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। এর ফলে মানবজীবনের ওপর ক্ষতিকর ও কল্যাণকর উভয় ধরনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ক্ষতিকর প্রভাব: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে
ওঠে এবং বহুদূরে লাভা ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম, কৃষিক্ষেত্র ইত্যাদি ধ্বংস করে। আগ্নেয়গিরির দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে অনেক উদ্ভিদ, জীবজন্তু ও মানুষ চাপা পড়ে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।
কল্যাণকর প্রভাব: আগ্নেয়গিরির লাভা ভূপৃষ্ঠে সঞ্চিত হয়ে মালভূমি,
সমভূমি, দ্বীপ ও পর্বতের সৃষ্টি করে এবং জমির উর্বরতা শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার সাথে ভূঅভ্যন্তর হতে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ভূপৃষ্ঠে নিক্ষিপ্ত হয়।
সুতরাং আলোচনা থেকে বলা যায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কেবল মানুষের অপকার নয় উপকারও করে থাকে।
Related Question
View Allযে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে নদী উপত্যকা বলে।
উর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নদিকের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।তাই একে 'V' উপত্যকা বলা হয়।
প্রবাহিত নদী খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
ঊর্ধ্বগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় বলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়।
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ায় তা বড় বড় শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে নিচের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!