ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুর তাপমাত্রা গড়ে যে হারে হ্রাস পায়। তাকে স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার বলে।
সৌরতাপের সাথে বায়ুপ্রবাহের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
সৌরতাপের মাধ্যমে বায়ু উত্তপ্ত হলে বায়ু প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব ও আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায়। তাপ বৃদ্ধি পেলে বায়ুপ্রবাহের গতি উপরের দিকে এবং তাপ কমে গেলে বায়ুপ্রবাহের গতি নিচের দিকে হয়। এভাবেই সৌরতাপের সাথে বায়ুপ্রবাহের নিবিড় সম্পর্ক বিরাজ করে।
চিত্রে উল্লিখিত বায়ুমণ্ডলের স্তরের মধ্যে ট্রপোমণ্ডল হচ্ছে সর্বনিম্ন স্তর।
ট্রপোমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর। এ বায়ুস্তরের গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। ঋতুভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে গভীরতার পার্থক্য হয়ে থাকে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীরতা সর্বোচ্চ ১৬ কিমি. এবং মেরু অঞ্চলে সর্বোচ্চ গভীরতা ৮ কিমি.। দুটি অঞ্চলের গড় গভীরতা ১৩ কিমি.। ট্রপোমণ্ডলের শেষ সীমাকে ট্রপোপজ বলে। এর গভীরতা কম। কোনো ঝড়বৃষ্টি না থাকায় এ অঞ্চলে বিমান চলাচল করে। ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুর তাপমাত্রা গড়ে হ্রাস পায় ৬.৪° সে.। জীবনধারণের জন্য এ স্তরটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপসর্গগুলো এ স্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উত্তাপ ও চাপের বিভিন্নতার জন্য এ স্তরের উপরে, নিচে ও পাশে বায়ুপ্রবাহ দেখতে পাওয়া যায়।
চিত্রে উল্লিখিত 'C' চিহ্নিত স্তরটি হচ্ছে স্ট্রাটোমণ্ডল। এটি বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর।
ট্রপোমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমা থেকে প্রায় ৫০ কিমি. বিস্তৃত স্তরের নাম স্ট্রাটোমণ্ডল। এ স্তরটিতে ওজোন গ্যাসের একটি আস্তরণ রয়েছে। একে ওজোনোস্ফিয়ার বলে। ওজোন গ্যাসের আস্তরণ থাকার কারণে এ স্তরটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ওজোনস্তর সূর্যরশ্মির অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে থাকে। এ স্তরটি না থাকলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দহনে পৃথিবীর মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বসবাসের জন্য উপযোগী হতো না। যদি এ অতিবেগুনি রশ্মি অতিমাত্রায় ভূপৃষ্ঠে অনুপ্রবেশ করে তাহলে সকল জীবসত্তার অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে এবং জীব অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব প্রকট আকারে দেখা যাবে। ফলে মানবকুলের অধিক প্রাণহানি ঘটবে। তাই প্রাণিকুলকে টিকিয়ে রাখতে এ স্তরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তরে ধূলিবালি, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি পদার্থ অতিসামান্য পরিমাণে থাকে।
উল্লিখিত সবদিক বিবেচনা করে বলা যায়, উল্লিখিত 'C' স্তর অর্থাৎ স্ট্রাটোমণ্ডল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allজীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এ স্তরে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাইঅক্সাইড, ধূলিকণা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এছাড়া এ স্তরে মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, কুয়াশা, ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সবকিছুই ঘটে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শতকরা ৮০ ভাগ বায়ু এ স্তর ধারণ করায় এ স্তরের নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্ব দেখা যায়। তাই ট্রপোমণ্ডল স্তরটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হলো বায়ুদূষণ। নিচে মানবস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
বায়ুদূষণের অন্যতম দূষক হচ্ছে সালফার ডাইঅক্সাইড , নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড () যা ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। ব্রঙ্কাইটিসের প্রধান উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অত্যধিক মিউকাস ক্ষরণ ও সঞ্চয় এবং বিঘ্নিত শ্বসন। বায়ুদূষণ এবং ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ। শহরের বায়ুদূষণ তীব্র হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। উৎপাদন স্থলে বা অট্টালিকা নির্মাণের সময় অ্যাজবেস্টাসের প্রভাবে ফুসফুসীয় কলা অমসৃণ হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ফুসফুসে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ফুসফুসের এরূপ অস্বাভাবিক অবস্থাকে অ্যাজবেস্টোসিস বা ফুসফুসীয় ফাইব্রোসিস বলে। বায়ুতে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতির কারণে অতিশয় মন্দ প্রভাব
যথা- অ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া এবং ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রভাবে এর মিউটেশন, বন্ধ্যাত্ব, ভ্রূণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং জন্মত্রুটি ঘটতে পারে। উদ্দীপকে নজীব দীর্ঘ দশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ঢাকায় আসে। এখানকার গাড়ির কালো ধোঁয়া, কলকারখানায় নির্গত গ্যাস ব্যাপকভাবে বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে। যা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে সৃষ্ট দূষণটি হলো বায়ুদূষণ যা মানব স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে।
নিচে, বায়ুদূষণ প্রতিরোধে করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্ধে পরিচিতি প্রদান করতে হবে।
পরিবেশে জনসংখ্যা ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দেশকে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বায়ুমণ্ডলে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কার্বনচক্রের মাধ্যমে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়ই গ্লুকোজরূপে তা গ্রহণ করে। প্রাণী খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং উভয়ের দেহেই কার্বন যৌগ তথা গ্লুকোজ জারিত হয়ে কার্বন-ডাইঅক্সাইডরূপে প্রকৃতিতে ফিরে যায়। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার উদ্ভিদ গ্রহণ এবং প্রাণী ত্যাগ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
