লালফিতার দৌরাত্ম্য-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Red Trapism'.
বেসামরিক প্রশাসনের উপর সামরিক হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অন্তকলহ, রাজনৈতিক নেতৃত্বে একাংশের দুর্নীতি ও অসততা, সামরিক বাহিনী নির্ভর রাজনীতি ইত্যাদির ফলে অনেক দেশে আমলাতন্ত্রের অতি বিকাশ ঘটে। আমলাদের মধ্যে লালফিতার দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়। দায়িত্বশীল না থাকার মানসিকতা থেকে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং নিজেদের জনগণের প্রভু মনে করতে থাকে।
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে 'আমলাতন্ত্র' বসবে। এটি সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে।
আমলাতন্ত্র হলো একদল অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ, স্থায়ী ও পেশাজীবী কর্মচারীদের দ্বারা পরিচালিত বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়িত হয়। আমলাতন্ত্র সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে থাকে। সরকার যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করেন সেসব নীতিমালা বাস্তবায়ন করে আমলাতন্ত্র সরকারকে সহযোগিতা করে থাকে। সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে বাস্তবে রূপদানের মাধ্যমে আমলাতন্ত্র সরকারকে সহযোগিতা করে থাকে। আমলাতন্ত্র ব্যতীত সরকারের নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আর আমলাতন্ত্রেকর্মচারীদের অবশ্যই রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হয়। কোনো দলীয় মনোভাব তাদের থাকবে না।
আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র একটি কল্যাণমূলক ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকে মন্ত্রীদের ওপর। তবে মন্ত্রীদের এ দায়িত্বের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন কর আমলারা। কেননা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রীদের পরিবর্তন ঘটলে আমলাদের পরিবর্তন ঘটেনা। অর্থাৎ একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকেন কিন্তু আমলারা মন্ত্রীদের তুলনায় অনেক বেশিদিন দায়িত্বে থাকেন। আমলাদের কাজকর্মের উদ্দেশ্য যদি হয় সর্বসাধারণের কল্যাণ সাধন তাহলে সে আমলাতন্ত্র হবে গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণময়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলারা সরকারের নিকট বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ এবং দাবিদাওয়া তুলে ধরেন এবং আমলারা দেশের নীতি বাস্তবায়নের সাথে জড়িত থাকেন। কাজেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলাদের মধ্যে যদি দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ইত্যাদি না থাকে এবং তারা যদি অনিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে গণতন্ত্র তার স্থায়িত্ব হারাবে এবং হুমকির সম্মুখীন হবে। এজন্যই বলা হয় নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র যেমন গণতন্ত্রের সফলতা বয়ে আনে তেমনি অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!