আমাদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ৮০ ভাগ মাছ থেকে আসে।
নদীর পানি ঘোলা হওয়ার কারণ পানিতে অদ্রবণীয় পদার্থের উপস্থিতি। মাটি, বালি, তৈল, গ্রিজ ইত্যাদি নদীর পানিতে পড়লে পানি ঘোলা হয়ে যায়। বিভিন্ন কল কারখানায় বর্জ্য, আবর্জনা যা পানিতে অদ্রবণীয়, এগুলো নদীর পানিতে উপস্থিত থাকলে নদীর পানি ঘোলাটে হয়ে যায়।
উদ্দীপকের D হলো জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশিরভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি পানিতে ও মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে।
স্থলজ উদ্ভিদসমূহ মূলত মূলের মাধ্যমে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে। কিন্তু জলজ উদ্ভিদসমূহ সারা দেহের মাধ্যমে পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে থাকে। তাই এদের সমগ্র দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে এদের বেড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটে। জলজ উদ্ভিদের কাণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যা পানির স্রোত ও জলজ প্রাণীর চলাচলের সাথে মানানসই। পানি ছাড়া স্থলভাগে এদের জন্ম হলে, এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না- এমনকি বাঁচতেও পারত না। জলজ উদ্ভিদসমূহ সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে থাকে। পানি না থাকলে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতো। অর্থাৎ পানির অভাবে বেশিরভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, অথবা কিছু কিছু জন্মালেও বেঁচে থাকতে ও বেড়ে উঠতে পারত না।
অতএব আমরা বলতে পারি, জলজ উদ্ভিদের জীবনধারণে C অর্থাৎ পানির ভূমিকা অপরিসীম
উদ্দীপকে C হলো পানি। পানি দূষিত হলে E এবং F অর্থাৎ প্রাণী এবং মানুষের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিল ও ভূ-গর্ভস্থ প্রভৃতি উৎসের পানি দূষিত হলে তা প্রাণী ও মানুষের ওপর নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি কখনো কখনো তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। টাইফয়েড জ্বর, কলেরা, আমাশয়, সংক্রামক হেপাটাইটিস বি এসব পানিবাহিত রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। নানাভাবে পানিতে রোগের জীবাণু প্রবেশ করে। পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন খুব বেড়ে গেলে তা প্রচুর শ্যাওলা জন্মাতে সাহায্য করে। এই শ্যাওলাগুলো যখন মরে যায় তখন পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
এর ফলে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয় এবং তার ফলে মাছসহ সকল প্রাণী মরে যায়।
পুকুরে ফেলা ময়লা-আবর্জনাসমূহ একদিকে যেমন অক্সিজেন স্বল্পতা
সৃষ্টি করে অন্যদিকে তেমনি পানিতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। অজৈব পদার্থসমূহ (যেমন- এসিড, ক্ষার, লবণ) পানিতে বসবাসকারী প্রাণীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। পানিতে যদি ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ (যেমন- মারকারি, সিসা, আর্সেনিক ইত্যাদি) থাকে তবে এ ধরনের পানি পান করলে তা মানুষের দেহে নানা রোগের কারণ হতে পারে। ivate Windows
পানির আরেক নাম জীবন। শুধু জীবন ধারণের জন্য নয়, দেশের উন্নয়নের জন্যও আমাদের পানির দরকার। নানা উৎস থেকে আমরা পানি পাই। নানা কারণে আমাদের অতিপ্রয়োজনীয় এই পানির উৎস হুমকির মুখে পড়ছে। এই অধ্যায়ে আমরা এই হুমকিগুলোর কথা জানব এবং কেমন করে তার মোকাবেলা করতে পারব, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- পানির ধর্ম বর্ণনা করতে পারব।
- পানির গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানির বিভিন্ন উৎস বর্ণনা করতে পারব।
- জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা এবং পানির মানদন্ড ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ সংরক্ষণে পানির পুনরাবর্তন ধাপসমূহে পানির ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- মানসম্মত পানির প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- পানি বিপুখকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশে পানির উৎসে দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানিদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বাংলাদেশের মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- পানিদূষণ প্রতিরোধের কৌশল ও নাগরিকের দায়িত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- উন্নয়ন কার্যক্রমে পানির ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বাংলাদেশে পানির উৎসে হুমকির প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- পানির উৎস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং কৌশল বর্ণনা করতে পারব।
- পানি প্রাপ্তি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার – ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানিপ্রবাহের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বর্ণনা করতে পারব ।
- বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং সুস্থ জীবনযাপনে এর প্রভাব বিষয়ে অনুসন্ধানমূলক কাজ পরিচালনা করতে পারব।
- পানির সংকটের (গৃহস্থালি/কৃষি/শিল্পে ব্যবহার) কারণ অনুসন্ধান করতে পারব।
- পানি ব্যবহার ও পানির সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
- পানির উৎসে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, দূষণ রোধ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করব।
- “পানি নাগরিকের মৌলিক মানবিক অধিকার” বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করব।
- পানির অপচয়রোধ এবং কার্যকর ব্যবহারে সচেতন হব।
Related Question
View Allপৃথিবীতে পানি একই প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে ব্যবহার হয়। এটি সূর্যের তাপে বাষ্পীভবন, মেঘে রূপান্তর ও বৃষ্টির মাধ্যমে আবার ভূমি ও সমুদ্রে ফিরে আসে। একে পানির পুনরাবর্তন বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!