প্রকৃত কোষবিশিষ্ট জীবের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিদ্যমান ক্রোমাটিন ফাইবার কোষ বিভাজনের সময় পানি বিয়োজনের ফলে স্পষ্ট আকার ধারণ করে সুতার মতো হয়, তাই ক্রোমোজোম।
ক্রোমোজোমের নন-ডিসজাংশনের কারণে সৃষ্ট তিনটি রোগের নাম হলো-
- ডাউন'স সিনড্রোম
ii. ক্লিনিফেলটার'স সিনড্রোম
iii. টার্নার'স সিনড্রোম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্রোমোজোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে A অংশটি হলো DNA, যা বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে পরবর্তী বংশে সঞ্চালিত করে।
ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলো জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক। জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো এরাই পুরুষাণুক্রমে বহন করে। বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশই হলো জিন। মানুষের চোখের রং চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং, মুখের গড়ন ইত্যাদি জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। ক্রোমোজোমে অসংখ্য জিন জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। এসব জিন জোড়ার একটি অন্যটির উপর প্রভাব বিস্তার করে। সন্তানের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকারী জিনটি ঐ জিন জোড়ার অপর জিনটির ওপর প্রকট হলে তাকে প্রকট জিন এবং অপরটিকে প্রচ্ছন্ন জিন বলে। প্রকট জিন সর্বদা প্রচ্ছন্ন জিনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। সন্তানের ভেতর তার মা-বাবার প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়, আর অন্যটি অপ্রকাশিত অবস্থায় অর্থাৎ প্রচ্ছন্ন থাকে।
আর এভাবেই DNA-বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে পরবর্তী বংশে সম্মালিত করে।
উদ্দীপকের A ও B হলো যথাক্রমে DNA RNA I
(1) একটি ডিএনএ অণু দ্বিসূত্র বিশিষ্ট লম্বা শৃঙ্খলের পলিনিউক্লিওটাইড। অন্যদিকে আরএনএ অণু একটিমাত্র পলিনিউক্লিটাইড শেকলে ভাঁজ হয়ে থাকে।
(ii) ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির মত। অন্যদিকে আরএন এ অণুর আকৃতি সরল।
(iii) ডিএনএ অণুতে থাকে ডিঅক্সি রাইবোজ শর্করা, কিন্তু আরএনএ অণুতে থাকে রাইবোজ শর্করা।
(iv) ডিএনএ সাধারণত ক্রোমোজোমে থাকে, অন্যদিকে আরএনএ ক্রোমোজোম, সাইটোপ্লাজম ও রাইবোসোমে পাওয়া যায়।
(v) ডিএনএ এর কোনো প্রকারভেদ নেই। কিন্তু কার্যগত দিক দিয়ে আরএন এ তিন প্রকার। যথা- rRNA, tRNA, mRNA
(vi) ডিএনএ বংশগতির ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে আরএনএ প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা পালন করে।
পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্লোন ডলি নামের একটি ভেড়া আধুনিক বংশগতি বিদ্যার (Genetics) ভিত্তি গড়ে উঠেছে আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে গ্রেগর মেন্ডেল নামে একজন অস্ট্রীয় ধর্মজাজকের গবেষণার মাধ্যমে। যেডেলের আবিষ্কারের মূল প্রাতিগাচ্চ হচ্ছে জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য এক জোড়া ফ্যাক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বেটসন ১৯০৮ সালে মেন্ডেলের ফ্যাক্টরের নাম দিলেন জিন। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বংশগতি বিদ্যা নানাভাবে বিকাশ লাভ করতে থাকে। নানা তথ্যে সমৃদ্ধ হতে থাকে এর ভাণ্ডার। বংশগতির একক বা জিনের উপাদানের প্রকৃতি, রাসায়নিক এবং অণুর গঠন ও জৈবনিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার পর জীববিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করলেন, নিষেক ছাড়াই কীভাবে একটা জীবকোষ থেকে জিন আরেকটা জীবকোষে প্রতিস্থাপন করা যায়, সেটি নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হার্বার্ট বয়ার এবং স্ট্যানলি কোহেন ১৯৭৩ সালে প্রথম নিষেক ছাড়াই কৃত্রিমভাবে জিন সংযোজনে সাফল্য লাভ করেন। জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে যেটি ছিল এক অচিন্তনীয় ঘটনা। স্থাপিত হলো জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology) নামে জীববিজ্ঞানের নতুন এক শাখা। আমরা এ অধ্যায়ে জীবপ্রযুক্তি সম্বন্ধে আলোচনা করার পূর্বে ক্রোমোজোম, জিন, ডিএনএ ও আরএনএ সম্বন্ধে আলোচনা করব। এগুলো সম্পর্কে আমরা অষ্টম শ্রেপিতে খানিকটা ধারণা পেয়েছি। এ অধ্যারে বিস্তারিত জানব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা :
- চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় স্থানান্তরের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- জেনেটিক বিপ্লতার (Genetic Disorder) কারণ ও ফলাফল বর্ণনা করতে পারব।
- জীবপ্রযুক্তি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রাণী ও উদ্ভিদে ক্লোনিং ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ক্লোনিংয়ের সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজির ব্যবহার এবং এদের সুফল বিশ্লেষণ করতে পাৱৰ ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!