ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ডিরোজিও।
ইউরোপীয় আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষিত বাঙালিদের মাধ্যমে বাংলায় রেনেসাঁর জন্ম হয়।
১৭৫৭ সালে পলাশি যুদ্ধের পর এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ছাড়াও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। এই সময়ে প্রচলিত ধর্ম, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি-নীতি, সংস্কার এবং গতানুগতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে এক ধরনের চিন্তার বিপ্লব ঘটে। ফলে নতুন ধর্মমত, শিক্ষা, সাহিত্য, সামাজিক আদর্শ ও রীতিনীতির বিকাশ ঘটে। এভাবেই বাংলার রেনেসাঁর জন্ম হয়।
উদ্দীপকের চিত্র অর্থাৎ বাঁশের কেল্লা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারী তিতুমিরের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়।
উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বাংলা অঞ্চলে তার যে দুটি ধারা ছিল তার একটি ছিল ওয়াহাবি আন্দোলন। বাংলায় ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। তিতুমিরের এ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান কৃষক ও তাঁতি সাড়া দেয়। তারা ইংরেজ, নীলকর ও অত্যাচারী জমিদারদের কুশাসন এবং নির্যাতনেরও বিরোধিতা করতে থাকে। ক্রমে তিতুমিরের ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এক ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। ইংরেজ শাসক ও তাদের মিত্র জমিদারদের সঙ্গে তিতুমির ও তার অনুসারীদের সংঘাত হতে থাকে। তিতুমির শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নারিকেলবাড়িয়ায় নির্মাণ করেন এক বাঁশের কেল্লা।
উদ্দীপকে তিতুমির কর্তৃক নির্মিত বাঁশের কেল্লার চিত্র দেখা যায়। অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ও জমিদারদের মোকাবিলা করতে এই কেল্লা নির্মাণ করা হয়। বিদ্রোহী তিতুমিরকে দমনে ১৮৩১ সালে ইংরেজ সরকার একটি সুসজ্জিত সেনাদল পাঠায়। ইংরেজদের শক্তিশালী কামানের গোলায় তিতুমিরের কেল্লা ভেঙে পড়ে। বীরের মত লড়াই করে শহিদ হন তিতুমির। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত বাঁশের কেল্লা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারী তিতুমিরের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত আন্দোলনকারী অর্থাৎ তিতুমিরের ত্যাগ পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
উনিশ শতকে গড়ে ওঠা তিতুমিরের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু কৃষক, তাঁতি সাড়া দেয়। এ আন্দোলন একসময় জমিদার ও ইংরেজবিরোধী কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমির জমিদার ও ইংরেজ সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী বাঁশের কেল্লা। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গঠন করেন সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী। অনমনীয় সংগ্রামী তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা এবং লাঠিয়াল বাহিনী বাংলা তথা ভারতের পরবর্তী অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৮৩১ সালে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসের জন্য ইংরেজ শাসক এক সুসজ্জিত সেনাদল পাঠায়। ইংরেজদের কামানের গোলায় তিতুমিরের কেল্লা ধসে পড়ে। কিন্তু তিনি বীরের মত লড়াই করে শহিদ হন। তিতুমির ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইংরেজ, নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে তাঁর বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর প্রতিরোধের প্রতীক। তিতুমিরের এ সাহসিকতা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, তিতুমিরের প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ছিল।
Related Question
View Allরাজা রামমোহন রায়কে ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয়।
ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে মুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
মূলত মক্কা থেকে দেশে ফিরে হাজী শরীয়তউল্লাহ বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানেরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। মুসলমানদের মধ্যে অনৈসলামিক আচার-আচরণ, অনুষ্ঠান, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে এসব অনাচারমুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আমার পাঠ্যপুস্তকের 'নীল বিদ্রোহের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ব্রিটেনের নীলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলার ইংরেজ বণিকগণ এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করে। তারা কৃষকদের নীলচাষের জন্য অগ্রীম অর্থ গ্রহণে (দাদন) বাধ্য করত। আর একবার এ দাদন গ্রহণ করলে সুদ- আসলে কৃষকরা যতই ঋণ পরিশোধ করুক না কেন, বংশ পরম্পরায় কোনো দিনই ঋণ শেষ হতো না। নীলকরদের কাছ থেকে নীলচাষিদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অবশেষে নীলচাষিরা নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। যশোরে এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব। তাছাড়াও হুগলী এবং নদিয়ার নীলচাষিরাও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে আমরা দেখি যে, কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তামাক চাষিরা কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে বের হতে না পেরে করিম ও জলিলের নেতৃত্বে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এ বিষয়গুলোর সাথে বাংলার নীল বিদ্রোহের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি অর্থাৎ নীল বিদ্রোহ কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ছিল বলে আমি মনে করি।
ব্রিটিশ কোম্পানির লোকজন এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করত এবং নানা ধরনের নির্যাতন, শোষণ ও অত্যাচার করত। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যশোর হুগলী, নদীয়াতে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে। কৃষকরা নীলচাষ না করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। অবশেষে বাংলার সংগ্রামী কৃষকদের জয় হয়।
১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নীলচাষকে কৃষকদের 'ইচ্ছাধীন' বলে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া নীলকর কর্তৃক আরোপিত 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট' বাতিল করা হয়। এর ফলে কৃষকরা তাদের স্বাধীনতা ফিরে পায়। তারা তাদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পায়। ফলে তারা জমিতে লাভজনক ফসল উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়।
উদ্দীপকের রূপপুর অঞ্চলের জনগণ তামাক চাষের কারণে কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারে না। এ অবস্থায় তারা আন্দোলন গড়ে তোলে। আর এ আন্দোলনে নীল বিদ্রোহের প্রতিফলন দেখা যায়। বস্তুত ব্রিটিশদের কঠোর শাসনের যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বাঙালি চাষিদের যখন নাভিশ্বাস বইছে তখন তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় নীল বিদ্রোহ করে। এ বিদ্রোহ ছিল তৎকালীন কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ও শতভাগ যুক্তিযুক্ত।
তাই বলা যায়, নীল বিদ্রোহের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয়েছিল।
'The Spirit of Islam' বইটির লেখক হচ্ছেন সৈয়দ আমির আলি।
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা।
সৈয়দ আমির আলি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!