অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা।
সাম্য নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন। আর স্বাধীনতার শর্ত পূরণ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই এ দুটি বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর নির্ভরশীল। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কথা যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যের কথা ভাবা যায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যেমন সাম্যের দরকার, তেমনি স্বাধীনতারও প্রয়োজন রয়েছে। সাম্য ও স্বাধীনতা একই সঙ্গে বিরাজ না করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা সম্ভব হয় না। তাই বলা যায়, সাম্য ও স্বাধীনতা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ১ম অংশে উল্লেখিত বিষয়টি হলো আইন।
আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। উদ্দীপকের ১ম অংশে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, X, Y ও Z সমাজে বাস করে বলে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের আইন। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- ব্যক্তিগত ও সরকারি আইন। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর, এম. ম্যাকাইভারের মতে, আইন দুই প্রকার। যথা- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন। জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- সাংবিধানিক ও সাধারণ আইন। আইনের উৎসের ভিত্তিতে আইন আবার ছয় প্রকার। যেমন- শাসনতান্ত্রিক আইন, সাধারণভাবে প্রণীত আইন, প্রথাভিত্তিক সাধারণ আইন, বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক প্রণীত আইন, শাসন বিভাগীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইন। সাধারণত আইন তিন প্রকার। যথা- রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন, ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন ও আন্তর্জাতিক আইন। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন আবার দুই ধরনের- ফৌজদারি ও প্রশাসনিক আইন।
মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত- উক্তিটি যথার্থ।
স্বাধীনতা আছে বলেই ব্যক্তি তার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতাবিহীন ব্যক্তিসত্ত্বার উন্নয়ন ও বিকাশ সম্ভব নয়। এ কারণেই মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা হলো অপরের কাজে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজ সম্পাদন করার অধিকার। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করা। ব্যক্তি সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ স্বাধীনতা ভোগ করে। এই স্বাধীনতাগুলোই তার উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হয়। যেমন- ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ফলে ব্যক্তি নিজস্ব কাজকর্মের অধিকার ভোগ করতে পারে। এই স্বাধীনতা অন্যকে স্পর্শ করে না। কর্মের স্বাধীনতা, পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বাধীনতা, নির্দিষ্ট পেশা বাছাইয়ের স্বাধীনতা হচ্ছে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। আবার সামাজিক স্বাধীনতার মাধ্যমেও ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। সামাজিক স্বাধীনতা বলতে মানুষ সভ্য সামাজিক জীবনযাপনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সেসব সুযোগ- সুবিধাকে বোঝায়। সভ্য জীবনযাপন যেকোনো ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে - মুখ্য ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের - উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়তা করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতার বলেই ব্যক্তি রাষ্ট্রের শাসনকাজে অংশগ্রহণ করে যা তার মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়। ফলে সে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে নিজের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। এমনিভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, বলতে ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারকে বোঝায়। ব্যক্তি যখন জীবনধারণের অধিকার পূর্ণমাত্রায় ভোগ করবে তখন তার মধ্যে নৈতিক অবনতির সম্ভাবনা কম থাকবে। যা ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হবে।
উপরের আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।
Related Question
View All'কমেনটরিজ অন দ্যা লজ অব ইংল্যান্ড' গ্রন্থটি ব্রিটিশ আইনজ্ঞ স্যার উইলিয়াম ব্লাকস্টোনের (Sir William Blackstone)।
এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
বিভিন্ন রাষ্ট্র পরস্পরের সাথে কেমন আচরণ করবে, এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা হবে তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
জনাব শ্যামল মিত্র যেখানে বিল উত্থাপন করেন তা আইনের প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
জনাব শ্যামল মিত্র একজন সংসদ সদস্য। তিনি তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আর জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইনসভা। আধুনিককালে আইনের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম উৎস হচ্ছে আইনসভা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে আইনের রদবদল ও সংশোধন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভার অপ্রতিহত ক্ষমতা রয়েছে। তার প্রভার সর্বত্র বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শ্যামল মিত্র তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভায় বিল উত্থাপন করেন।
জনাব অর্ক 'বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস- উক্তিটি যথার্থ।
বিচারকের রায় আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারকগণ সাধারণত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার করেন। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকগণ তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন তৈরি করে উক্ত মামলার রায় দেন এবং প্রয়োজনবোধে ঐ আইনের ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিচারকগণ সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। এভাবে বিচারকের রায় আইনে পরিণত হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল (John Marshall) ও চার্লস হিউজেস (Charles Evans Hughes) বহু নতুন আইন সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব অর্ক বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, তিনি একটি দেশের উচ্চ আদালতের প্রধান। একটি মামলায় অপরাধীর সাজা নির্ধারণের সময় প্রচলিত আইনের সাথে মিল না পেয়ে তিনি তার প্রজ্ঞা ও বিচার-বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণ করেন। বিচারক অর্ক বড়ুয়ার এ কাজের সাথে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিচারকের রায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অর্ক বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাম্যকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করাকে বোঝায়। এ বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!