উত্তরঃ
বরাবর,
বিজ্ঞ দায়রা জজ,
[স্থান], বাংলাদেশ।
বিষয়: ফৌজদারি রিভিশন দরখাস্ত (দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারা)।
মহামান্য আদালত সমীপে বিনীত নিবেদন এই যে,
১। নালিশকারী (রিভিশন দরখাস্তকারী) Y একজন সাধারণ নাগরিক এবং অভিযুক্ত (প্রতিপক্ষ) X একজন আয়কর আইনজীবী।
২। নালিশকারী Y তার আয়কর পরিশোধের জন্য অভিযুক্ত আয়কর আইনজীবী X-কে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করেন। অভিযুক্ত X উক্ত টাকা গ্রহণ করেন কিন্তু পরবর্তীতে তা আত্মসাৎ করেন।
৩। অভিযুক্ত X-এর এই বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রতারণামূলক কার্যকলাপের কারণে নালিশকারী Y, দণ্ডবিধির ৪০৬ (ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারার অধীনে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী দরখাস্ত (N.C.R. No. [একটি উপযুক্ত মামলা নং]/[সাল], [আদালতের নাম ও স্থান]) দায়ের করেন।
৪। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়, The Code of Criminal Procedure, 1898 এর 241A ধারার অধীনে উক্ত নালিশী মামলার শুনানী গ্রহণ করেন। শুনানীকলে অভিযুক্ত X নালিশকারীর আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে একটি অডিট রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন।
৫। উক্ত অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়, অভিযুক্ত X-কে মামলা হতে অব্যাহতি প্রদান করেন।
৬। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত অব্যাহতি আদেশ আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ, অযৌক্তিক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কারণসমূহ নিম্নরূপ:
- ক. বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় কেবলমাত্র একটি অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করে আইনগত ত্রুটি করেছেন। উক্ত অডিট রিপোর্টটি অভিযুক্তের প্রাথমিক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিপ্রায়কে (mens rea) বাতিল করতে পারে না।
- খ. দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার মূল উপাদান হলো অর্পিত অর্থের আত্মসাৎ এবং প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা। আয়কর পরিশোধ বিষয়ক অডিট রিপোর্টটি মামলার মূল অভিযোগকে খণ্ডন করে না, কারণ মূল অভিযোগ ছিল X কর্তৃক Y-এর টাকা গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করা।
- গ. অভিযুক্ত X কর্তৃক টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরবর্তীতে আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও, এটি প্রাথমিক অপরাধের দায়ভার থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় না। বরং, শুনানি চলাকালীন এমন রিপোর্ট দাখিল করা অপরাধ গোপনের প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
- ঘ. বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের উচিত ছিল উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার উপাদানসমূহ সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা। কেবলমাত্র একটি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অব্যাহতি প্রদান একটি গুরুতর বিচারিক ত্রুটি।
৭। অতএব, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং আইনগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য এই রিভিশন দরখাস্ত দায়ের করা হলো।
অতএব প্রার্থনা এই যে,
মহামান্য আদালত অত্র দরখাস্ত মঞ্জুর করিয়া বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত অভিযুক্ত X-কে অব্যাহতি প্রদানের আদেশটি বাতিলপূর্বক পুনরায় আইন অনুযায়ী মামলাটি বিচার নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে আজ্ঞা হয়।
এবং তজ্জন্য আপনার চিরকৃতজ্ঞ থাকিব।
তারিখ: [তারিখ]
বিনীত,
নালিশকারী/রিভিশন দরখাস্তকারী
Y
[পিতার নাম: ]
[ঠিকানা: ]
নালিশকারীর পক্ষে কৌশুলী
[আইনজীবীর নাম ও স্বাক্ষর]