সারাংশঃ

গদ্য রচনায় কোনো না কোনো অন্তর্নিহিত মূলভাব থাকে। একটি বিষয়ের ওপর বিস্তৃতভাবে লিখিত এক বা একাধিক অনুচ্ছেদের মূল বা সার বক্তব্যটুকু সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলে তাকে সারাংশ বা সারসংক্ষেপ বলে। সারাংশ লিখতে গেলে উল্লিখিত অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়, প্রাসঙ্গিক বিষয় এবং বিমূর্ত ভাববস্তুকে দু-চারটি কথার মধ্য দিয়ে মূর্ত করে তথা তার তাৎপর্য স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

সারমর্ম বা ভাবার্থঃ

পদ্য রচনায় কোনো না কোনো অন্তর্নিহিত মূলভাব থাকে। কোনো রচনায় কবি যে ভাবটি প্রকাশ করতে চান তা সংক্ষেপে উপস্থাপিত হলে তাকে বলে সারমর্ম বা ভাবার্থ বা মর্মার্থ। সারমর্ম লিখতে গেলে উল্লিখিত অংশের কেন্দ্রিয় ভাববস্তু বা অন্তজ্ঞান, অন্তর্নিহিত অর্থ, মর্মবাণী, কেন্দ্রিয় সত্যকে উন্মোচিত করে তা দু'তিন কথার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

  • প্রথাসিদ্ধ পদ্ধতিতে সাধারণত গদ্যের ভাব-সংক্ষেপকে বোঝাতে সারাংশ এবং কবিতার ভাব-সংক্ষেপণ বোঝাতে সারমর্ম কথাটি প্রচলিত।
  • সারমর্ম ও সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দিকগুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখা দরকার:

ক. সারমর্ম বা সারাংশ লিখতে গেলে অনুচ্ছেদের তথ্য লিখলে চলে না, মূলভাব বুঝে নিয়ে তাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয়।

খ. প্রদত্ত রচনাংশে সাধারণত একটি মূলভাব বা বক্তব্য থাকে। কখনো কখনো একাধিক মূলভাব বা বক্তব্যও থাকতে পারে।

গ. অপ্রয়োজনীয় অংশ মূল রচনাংশে ব্যবহৃত উদ্ধৃতি, বর্ণনা, সংলাপ, উদাহরণ, অলংকার (উপমা-রূপক) ইত্যাদি বাদ দিতে হয়।

ঘ. সারমর্ম কিংবা সারাংশ অবশ্যই মূল রচনার ভাবধারার মধ্যে সীমিত থাকে।

ঙ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।

চ. সারাংশ ও সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের সুযোগ নেই।

  • সারমর্ম / সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কৌশল অবলম্বন করা উচিত-

ক. সারমর্ম কিংবা সারাংশ একটি অনুচ্ছেদে লেখা উচিত; একাধিক অনুচ্ছেদে লেখা অপ্রয়োজনীয়।

খ. প্রারম্ভিক বাক্য যথাসম্ভব সংহত ও আকর্ষণীয় হওয়া চাই।

গ. প্রসঙ্গ বাক্য (মূল ভাবটুকু প্রকাশের চুম্বক বাক্য) সারমর্ম/সারাংশের প্রথমে থাকা ভালো।

ঘ. প্রত্যক্ষ উক্তি থাকলে তা বর্জন করে পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয়।

ঙ. সারমর্ম/ সারাংশে উত্তম পুরুষে (আমি, আমরা) বা মধ্যম পুরুষে (তুমি, তোমরা) লেখা চলে না, প্রথম বা নাম পুরুষে লিখতে হয়।

চ. সারমর্মে উদ্ধৃতিচিহ্ন বর্জিত হবে এবং সংক্ষিপ্ত ও সংহতরূপে তা প্রকাশ করতে হবে।

ছ. সারমর্ম ও সারাংশের ভাষা সরল, সাবলীল ও প্রাঞ্জল হওয়া দরকার।

জ. মূলের কোনো অংশের হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি সারমর্ম/সারাংশে গ্রহণীয় নয়।

Related Question

View All
(খ)
বার্ধক্য তাহাই – যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে, আঁকড়াইয়া পড়িয়া থাকে। বৃদ্ধ তাহারাই - যাহারা মায়াচ্ছন্ন; নব মানবের অভিনব জয়যাত্রায় যাহারা শুধু বােঝা নয়; বিঘ্ন । শতাব্দীর নব্যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না। তাহারা জীব হইয়াও জড়। যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ স্থূপ আঁকড়াইয়া শুধু পড়িয়া থাকে। বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা নব অরুণােদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কলকোলাহলকে বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে। জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে। ইহাদের ধর্ম বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সবসময় বয়সের প্রেমে বাঁধা যায় না। বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মত প্রদীপ্ত যৌবন। তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহার, যাহার শক্তি অপরিসীম। গতিবেগ ঝঞার ন্যায় , তেজ নির্মেঘ আষাঢ়-মধ্যাহ্নের মার্তণ্ড প্রায়; বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার সাধ, মৃত্যু যাহার মুষ্টিতলে।
(খ)
মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মে। বস্তুত চরিত্র বললেই মানুষের জীবনের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা বুঝতে হবে। চরিত্র ছাড়া মানুষের গৌরব করার আর কিছুই নেই। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের প্রাপ্য হয়, মানুষ যদি মানুষকে শ্রদ্ধা করে, সে ওই চরিত্রের জন্য। অন্য কোনােকারণে মানুষের মাথা মানুষের সামনে নত হয় না। জগতে সকল মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছে তাদের গৌরবের মূল এই চরিত্রশক্তি। তুমি চারিত্রবান। লােক , এ কথার অর্থ এই নয় যে, তুমি শুধু লম্পট নও; তুমি সত্যবাদী, বিনয়ী এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা পােষণ কর; তুমি দুঃখকাতর, ন্যায়বান এবং মানুষের ন্যায় স্বাধীনতা চরিত্রবান মানে এই।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

বার্ধক্য তাহাই – যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে, আঁকড়াইয়া পড়িয়া থাকে। বৃদ্ধ তাহারাই - যাহারা মায়াচ্ছন্ন; নব মানবের অভিনব জয়যাত্রায় যাহারা শুধু বােঝা নয়; বিঘ্ন । শতাব্দীর নব্যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না। তাহারা জীব হইয়াও জড়। যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ স্থূপ আঁকড়াইয়া শুধু পড়িয়া থাকে। বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা নব অরুণােদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কলকোলাহলকে বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে। জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে। ইহাদের ধর্ম বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সবসময় বয়সের প্রেমে বাঁধা যায় না। বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মত প্রদীপ্ত যৌবন। তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহার, যাহার শক্তি অপরিসীম। গতিবেগ ঝঞার ন্যায় , তেজ নির্মেঘ আষাঢ়-মধ্যাহ্নের মার্তণ্ড প্রায়; বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার সাধ, মৃত্যু যাহার মুষ্টিতলে।
মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মে। বস্তুত চরিত্র বললেই মানুষের জীবনের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা বুঝতে হবে। চরিত্র ছাড়া মানুষের গৌরব করার আর কিছুই নেই। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের প্রাপ্য হয়, মানুষ যদি মানুষকে শ্রদ্ধা করে, সে ওই চরিত্রের জন্য। অন্য কোনােকারণে মানুষের মাথা মানুষের সামনে নত হয় না। জগতে সকল মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছে তাদের গৌরবের মূল এই চরিত্রশক্তি। তুমি চারিত্রবান। লােক , এ কথার অর্থ এই নয় যে, তুমি শুধু লম্পট নও; তুমি সত্যবাদী, বিনয়ী এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা পােষণ কর; তুমি দুঃখকাতর, ন্যায়বান এবং মানুষের ন্যায় স্বাধীনতা চরিত্রবান মানে এই।
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews