অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - পদার্থবিজ্ঞান - কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি (Work,Power and Energy) | NCTB BOOK
902
Summary

পৃথিবী সভ্যতার ইতিহাস শক্তি ব্যবহারের ইতিহাস। দেশগুলো শক্তির জন্য এক ধরনের ক্ষুধা অনুভব করছে এবং শক্তির অনুসন্ধান করছে।

জ্বালানি শক্তি: বর্তমানে শক্তির প্রধান উৎস হলো তেল, গ্যাস এবং কয়লা, যা ফসিল জ্বালানি। এগুলো লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা চাপা পড়ে তৈরি হয়েছে। তেলের প্রাথমিক অবস্থায় ঘন থাকে এবং রিফাইনারিতে পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিন তৈরি করা হয়। গ্যাস প্রধানত মিথেন, যা জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাসের সাথে মিশ্রিত থাকে। বাংলাদেশের গ্যাস তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার।

নিউক্লিয়ার শক্তি: অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করছে, যার জন্য ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। তবে এসব শক্তি ব্যবহার করলে খরচ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে, বর্তমানে যে হারে শক্তি ব্যবহার হচ্ছে, তেল, গ্যাস, কয়লা ও ইউরেনিয়াম দিয়ে অন্তত দুই শত বছর চলবে।

চিন্তার মূলতঃ নির্দেশনা হলো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন শক্তির উৎস বের করার আশা করা হচ্ছে, যেমন নিউক্লিয়ার ফিউসান, যা সূর্যের শক্তির উৎস। ফিউসানের জন্য প্রধানত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ব্যবহার হয়, যা পরবর্তীতে ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পৃথিবী সভ্যতার ইতিহাসটা যেহেতু শক্তি ব্যবহারের ইতিহাস, তাই আমরা দেখতে পাই সারা পৃথিবীতেই সব দেশ সব জাতির ভেতরেই শক্তির জন্য এক ধরনের ক্ষুধা কাজ করছে। যে যেভাবে পারছে, সেভাবে শক্তির অনুসন্ধান করছে, শক্তিকে ব্যবহার করছে। 

জ্বালানি শক্তি (তেল, গ্যাস এবং কয়লা) : এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস বা কয়লা। তেল গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের ভাগ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে করলা, তেল আর প্যাসকে ভুলতে হয়। মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে। মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন , এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়। আমাদের বাংলাদেশের গ্যাস তুলনামূলকভাবে অনেক পরিষ্কার এবং সরাসরি ব্যবহার করার উপযোগী।

নিউক্লিয়ার শক্তি: অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানেও এক ধরনের জ্বালানির দরকার হয়, সেই জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম। তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম, এই শক্তিগুলোর মাঝে একটা মিল রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করলে খরচ হয়ে যায়। মাটির নিচে কতটুকু তেল, গ্যাস, কয়লা আছে কিংবা পৃথিবীতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে মানুষ এর মাঝে সেটা অনুমান করে বের করে ফেলেছে। দেখা গেছে পৃথিবীর মানুষ যে হারে শক্তি ব্যবহার করছে যদি সেই হারে শক্তি ব্যবহার করতে থাকে তাহলে পৃথিবীর শক্তির উৎস তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম দিয়ে টেনেটুনে বড়জোর দুই শত বছর চলবে। তারপর আমাদের পরিচিত উৎস যাবে ফুরিয়ে। তখন কী হবে পৃথিবীর মানুষ সেটা নিয়ে খুব বেশি দুর্ভাবনায় নেই, তার কারণ মানুষ মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই জানে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর মাঝে অন্য কিছু বের করে ফেলা হবে। যেমন নিউক্লিয়ার ফিউসান, যেটা ব্যবহার করে সূর্য কিংবা নক্ষত্রেরা তাদের শক্তি তৈরি করে। ফিউসানের জন্য জ্বালানি আসে হাইড্রোজেনের একটা আইসোটোপ থেকে, আর পানির প্রত্যেকটা অণুতে দুটো করে হাইড্রোজেন, কাজেই সেটা ফুরিয়ে যাবার কোনো আশঙ্কা নেই। 

Content added By
Content updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...