পোশাক সংরক্ষণ (পাঠ ২)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - ঘ বিভাগ- বস্ত্র ও পরিচ্ছদ | NCTB BOOK
686

পূর্বের পাঠে তোমরা পোশাকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা ও যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনেছ। পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হচ্ছে পোশাক সংরক্ষণ। অব্যবহৃত জামা কাপড় উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখলে পোকামাকড়, ধুলাবালি ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু পোশাক একটি ব্যয়বহুল সামগ্রী, তাই যথাযথভাবে এগুলো সংরক্ষণ না করলে পোশাকের আয়ু কমে যায় এবং অর্থেরও অপচয় ঘটে। তাই পোশাক যেন সুন্দর ও পরিপাটি রাখা যায় সেজন্য তোমাকে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে-
১. পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার করে ধোওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর পর সংরক্ষণ করতে হবে। ধোওয়ার সময় পোশাকটি কোন তন্তুর তৈরি তা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একেক তন্তুর বস্ত্র ধোওয়ার পদ্ধতি একেক রকম। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রের পোশাক একসাথে ধোওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য সাবান, সোডা, রিঠার পানি, ক্লোরিন, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। উন্নতমানের সুতি, লিনেন বস্ত্রের পোশাকের ক্ষেত্রে মৃদু গুঁড়া সাবান ব্যবহার করতে হবে। সাদা কাপড়কে আরো ধবধবে করার জন্য নীল দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে এরূপ বস্ত্রে মাড় দেওয়া যায়। এ ধরনের বস্ত্রে গরম পানি ব্যবহার করলেও ক্ষতি নেই। রোদে শুকালে ভালো হয়। তবে রঙিন বস্ত্র ছায়ায় শুকানো উচিত।
খ) রেশমি পোশাক হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুতে হয়। এরূপ বস্ত্রাদির পোশাক খুব চাপ দিয়ে ধোওয়া উচিত না। আলতোভাবে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে দিতে হয়। পশমি বস্ত্রেও হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান ব্যবহার করতে হয়। তবে শুকানোর সময় হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে সমতলে বিছাতে হয়। নতুবা এদের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। রেশমি ও পশমি বস্ত্রের পোশাক কখনও মোচড় দিয়ে নিংড়ানো যাবে না।

২. সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে মাড় দিবে না, এতে করে পোকামাকড়ের উপদ্রব হতে পারে।
৩. সিল্ক কাপড়ের পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ইস্ত্রি করার সময় তোমাকে বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক হালকা ভেজা থাকতে ইস্ত্রি করতে হয়। কাপড়টি যদি শুকিয়ে যায় তাহলে পানির ছিটা দিয়ে তন্তু নরম করে নিতে হয়।
খ) রেশমি-পশমি বস্ত্রের উপর পাতলা একটি ভেজা কাপড় রেখে হালকা চাপ ও তাপে ইস্ত্রি করতে হবে।

গ) যেকোনো পোশাকই ইস্ত্রি করার সময় তোমাদের ভাঁজের কৌশলের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ হাতার ভাঁজ বা পোশাকের চূড়ান্ত ভাঁজ যদি সঠিক না হয় তাহলে সম্পূর্ণ পোশাকটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।

ঘ) ইস্ত্রি করার পর সাথে সাথে আলমারিতে সংরক্ষণ না করে বাতাসে কিছুক্ষণ উন্মুক্ত অবস্থায় রাখতে হবে। নতুবা তিলা পরার আশঙ্কা থাকে।
8. পশমি বস্ত্রের পোশাক ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখতে হয়।
৫. পোশাক সংরক্ষণের স্থানটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৬. সংরক্ষণের আগে সংরক্ষণের স্থানটি ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে কীটনাশক দিয়ে স্প্রে করে নিলে ভালো হয়।
৭. দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন, কালিজিরা, মথবল, শুকনো নিমপাতা ইত্যাদি দিতে হবে।
৮. বর্ষা ঋতুর আগে ও পরে সংরক্ষিত কাপড়গুলো রোদে ভালো করে মেলে শুকিয়ে নিলে অনেকদিন যাবত কাপড় ভালো থাকে।

কাজ-১ মৌসুম অনুযায়ী কোন তন্তুর পোশাক কিভাবে সংরক্ষণ করবে তার উপর ভিত্তি করে একটি চার্ট দলগতভাবে উপস্থাপন করো।
কাজ-২ শ্রেণিকক্ষে ইস্ত্রির ভাজ করার কৌশল উপস্থাপন করো।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...