বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলো নাটোর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, জমিদারী সংস্কৃতি ও মিষ্টির জন্য এই অঞ্চলটির খ্যাতি সুপ্রাচীন। নাটোর শুধু একটি জেলা নয়, এটি এক সময়ের সমৃদ্ধ জমিদারি ও রাজপ্রাসাদের স্মৃতিবাহী ইতিহাসের ধারক।
নাটোর জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। এর পূর্বে পাবনা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া, পশ্চিমে রাজশাহী এবং উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা অবস্থিত। নাটোর জেলার মোট আয়তন প্রায় ১,৯১০.৭২ বর্গ কিলোমিটার।
নাটোরের ইতিহাস মূলত নাটোর রাজবাড়িকে ঘিরেই আবর্তিত। ১৭১১ সালে মুর্শিদকুলি খানের শাসনামলে রাণী ভবানীর স্বামী রামজীবন মোহন্ত নাটোরে জমিদারি লাভ করেন। পরবর্তীতে রাণী ভবানী নিজেই হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী জমিদার এবং জনহিতৈষী হিসেবে পরিচিত হন।
রাণী ভবানী শুধু নাটোরের নয়, বরং গোটা বাংলার অন্যতম দানবীর নারীদের একজন। তিনি বহু মন্দির, ঘাট, রাস্তাঘাট, পুকুর এবং বিদ্যালয় নির্মাণে অর্থ সাহায্য করেছিলেন। আজও তাঁর অবদান স্থানীয় সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে রয়েছে।
নাটোরের সবচেয়ে পরিচিত ও দর্শনীয় স্থান। এটি ‘উত্তরবঙ্গের দিল্লি দরবার’ নামে খ্যাত। রাজবাড়িটি স্থাপত্যশৈলীতে ভরপুর এবং এখনো রাজবংশের ইতিহাস বহন করে চলেছে।
উত্তরা গণভবন একসময় রাজবাড়ির অংশ ছিল। বর্তমানে এটি রাষ্ট্রপতির একটি আনুষ্ঠানিক বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে রাষ্ট্রপতিরা প্রায় সময় সরকারি সফরে আসেন।
এটি উত্তরা গণভবনেরই একটি অংশ। দিঘাপতিয়া রাজাদের ইতিহাস রাজনীতি, সমাজ সংস্কার এবং ধর্মীয় সহনশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
নাটোরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চলনবিল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিল। বর্ষাকালে এই বিলে নৌকাবিহার, মাছ ধরা এবং বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শনার্থীদের মোহিত করে।
নাটোরের কাঁচাগোল্লা বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত মিষ্টি। দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি এই মিষ্টান্নটি সহজ সরল হলেও স্বাদে অতুলনীয়। অনেকে বলে, "নাটোর গেলে কাঁচাগোল্লা না খেলে সফরই পূর্ণ হয় না।"
নাটোর সংস্কৃতির দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ। এখানে বহু লেখক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জন্মগ্রহণ করেছেন। নাটোরে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি, পালাগান, বাউল গান ইত্যাদির চর্চা এখনো বিদ্যমান।
নাটোরে বেশ কিছু প্রাচীন ও খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ
গুরুদাসপুর মহিলা কলেজ
গুরুদাসপুর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
নাটোরে রেল, সড়ক ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে নাটোরের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার এবং সহজেই বাস ও ট্রেনে ভ্রমণ করা যায়।
নাটোর শুধু একটি জেলা নয়, এটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শন। রাণী ভবানীর মতো কিংবদন্তি নারী থেকে শুরু করে চলনবিলের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—সব কিছুই নাটোরকে করেছে অনন্য। যারা ইতিহাস ভালোবাসেন, প্রাচীন স্থাপত্যে আগ্রহী কিংবা একটুখানি প্রকৃতির ছোঁয়া চান—তাদের জন্য নাটোর হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?