উদ্দেশ্য
- মকতব-এর পরিচয় দিতে পারবেন
- মকতবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারবেন
- মকতবের কার্যাবলী উল্লেখ করতে পারবেন
- মকতবের প্রয়োজনীতা ব্যাখ্যা করতে পারবেন।

১. মকতব এর পরিচয়
মাকতাব )مكتب( শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ লেখার স্থান, শিক্ষা কেন্দ্র, বিদ্যালয় ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে মাকতাব বা মকতব হচ্ছে- ইসলামের মৌলিক শিক্ষালয়। মুসলিম শিশুদের ইসলামি শিক্ষার প্রাথমিক কেন্দ্র। একজন মুসলিম শিশু মায়ের কোল ছেড়ে ইসলামি শিক্ষার হাতেখড়ি এখানেই হয়। এ প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুরা ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করে। আরবি বর্ণমালার পরিচয়, যুক্ত বর্ণগঠন, শব্দ গঠনসহ বাক্য গঠন এখানেই শিখে। অতঃপর কুরআন শরীফ শিক্ষা গ্রহণ এই মকতব থেকেই হয়ে থাকে। মকতবের মাধ্যমেই কোমলমতি শিশুকে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এখানে পবিত্র কুরআন পাঠ শিক্ষার সাথে সাথে ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়।
ইমান, ইসলাম, সালাত, সাওম, হজ্জ ও অন্যান্য ইবাদত বিষয়ক শিক্ষা শিশুরা এখান থেকেই গ্রহণ করে থাকে। এখান থেকেই সালাত আদায় করার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনীয় আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, সত্য কথা বলার গুরুত্ব, নম্রতা, ভদ্রতা, সৌজন্য, বড়দের শ্রদ্ধা করা ও ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা এখান থেকেই লাভ হয়। শরীর মন পবিত্র করার শিক্ষা এখানেই গ্রহণ করে থাকে। শিশু বয়সে মকতবে অর্জিত শিক্ষা মানুষকে পরিণত বয়সেও ইসলামি তরিকায় জীবন যাপন করতে সহায়তা করে।
এ প্রয়োজনবোধ থেকে প্রতিটি মহল্লায়, প্রতিটি গ্রামে ও জনপদে মসজিদের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র মকতব গড়ে উঠেছে। মকতব গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মকতব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে মুসলিম জন-সাধারণের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত হয়।
২. মকতবের ঐতিহাসিক পটভূমি
ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য ইসলামের প্রথম যুগেই পবিত্র মক্কা নগরীতে দারুল আরকাম নামক মাদরাসা
প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ইসলামি শিক্ষার সূতীকাগার হিসেবে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় রাসূল (স.) ও সাহাবায়ে কিরামের
যুগে মসজিদে দ্বীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা হতো। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় হিজরত করার পর মসজিদ প্রতিষ্ঠা
করে এর মধ্যে গড়ে তোলেন ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র। শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকল বয়সের জ্ঞান পিপাসুরা দেশের বিভিন্ন
অঞ্চল থেকে এখানে আসতো। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হতে থাকে।
আব্বাসী আমলের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক ও উচ্চ পর্যায়ের দুই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান হলো মকতব। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানগণ স্পেন বিজয় করেন। সেখানে মুসলমানগণ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
গড়ে তোলেন। শুধু কর্ডোভাতেই ছিল দুইশত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭০টি কলেজ এবং ৭০টি পাবলিক লাইব্রেরি। ভারত বর্ষে
মুসলিম শাসকগণ কয়েক শতক পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে এবং
১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর থেকে এদেশে অসংখ্য দ্বিনী শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে ও আলিম-উলামাগণের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে যেমন মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হতো,
তেমনি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানও শিক্ষা দেওয়া হতো। মুঘল আমলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হতো মকতবে। শিশুর শৈশবের
প্রথম পাঠ হিসেবে পবিত্র কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে শুরু হতো পাঠ্য জীবন। আর সে সময়ের বেশির ভাগ মকতব ছিল
মসজিদ চত্বরে। অষ্টাদশ শতাব্দিতে ভারত বর্ষে প্রায় ৮০ হাজার মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত ছিল।
ভারতে মুসলিম শাসনামলে শিক্ষার স্তর তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তর। ইসলামের
মৌলিক ও নৈতিক শিক্ষা ছিল প্রাথমিক স্তরের অন্তর্ভুক্ত। মকতবেই মূলত এই প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হতো। এ থেকে
বোঝা যায় যে, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ধারায় মকতবের গুরুত্ব অনেক বেশি।
৩. মকতবের কার্যাবলী
মকতবে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়। এই মকতবে কালিমা, সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি মৌলিক ইবাদত আদায় করার পদ্ধতি শিশুদেরকে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। মকতবেই শিশুদেরকে সালাতের নিয়ম কানুন, আহকাম-আরকান, ওয়াজিব, সুন্নাত, ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হয়।শৈশব থেকেই শিশুদেরকে মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস ও ইমান সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইমান আকিদা বিশ্বাস সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে এই মকতবই দিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রাথমিক মাসআলা-মাসায়িল সংক্রান্ত বিষয়াদি এই মকতব থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়। সুতরাং মকতবের কার্যাবলী মুসলিম জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৪. মকতবের প্রয়োজনীয়তা
মুসলিম জীবনে মকতবের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি। মকতব মুসলিম জীবনে ইমানের যে বীজ বপন করে। তা-ই একদিন মহীরূহ ধারণ করে। কাজেই মুসলিম সমাজ সকল যুগেই মকতব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছে। শিশুদের কোমলমতি মন হলো কাদা মাটির মতো। ইসলামের পথে চলার জন্য শিশুদের মকতবের শিক্ষাই বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক গুণাবলীর উন্নয়নই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। একজন শিশু মকতবের শিক্ষার মাধ্যমে এ সকল মানবীয় গুণাবলী অর্জন করতে পারে।
মকতবে পড়ালেখার মাধ্যমে শিশুর মনে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়। কাজেই মকতবের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বলা যায় যে, মকতবই শিশুদের ইমান ও নৈতিক ভীত গঠনের উপযুক্ত স্থান।

ইসলাম শিক্ষা-১ম পত্র-ড. মোঃ আমির হোসেন সরকার স্যারে লেখা বই
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মুস্তাফিজ সাহেব তার অফিস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। সে সময় তিনি দেখলেন দু'পক্ষের লোক রাস্তায় মারামারি করছে। মুস্তাফিজ সাহেব তাদের উভয়ের মাঝে মীমাংসা করে তাদেরকে এরূপ কাজ আর না করার জন্য বলেন।
সানিয়ার বাবা সরকারি কর্মকর্তা। চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারে তাদের তেমন সমস্যা হয় না। তবে মাস শেষে তাদের কোনো সঞ্চয় থাকে না। পক্ষান্তরে রাশিদার বাবা তুলনামূলকভাবে ছোট চাকরি করেন। পাঁচ সদস্যের পরিবার পরিচালনা করেও গত দশ বছরে ঢাকায় দুটি বাড়ির মালিক হয়েছেন, অথচ চাকরি ছাড়া তার আর কোনো বৈধ আয়ের ব্যবস্থা নেই।
Read more