ওহমের সূত্র
ওহমের সূত্রটি বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ভোল্টেজ (V), কারেন্ট (I), এবং রেজিস্ট্যান্স (R) এর মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে। এই সূত্রটি প্রথমে জর্জ সাইমন ওহম ১৮২৭ সালে উদ্ভাবন করেন। সূত্রটি হলো:
\[
V = I \times R
\]
এখানে:
- V = ভোল্টেজ (Volt)
- I = কারেন্ট (Ampere)
- R = রেজিস্ট্যান্স (Ohm)
ওহমের সূত্রের মূল বক্তব্য হলো, কোনো কন্ডাক্টরের মধ্যে প্রবাহিত কারেন্ট সরাসরি কন্ডাক্টরের দুই প্রান্তের ভোল্টেজের সমানুপাতিক এবং কন্ডাক্টরের রেজিস্ট্যান্সের বিপরীতানুপাতিক। অর্থাৎ, রেজিস্ট্যান্স ধ্রুবক থাকলে ভোল্টেজ বাড়ালে কারেন্টও বাড়বে এবং রেজিস্ট্যান্স কমলে কারেন্টও বৃদ্ধি পাবে।
কির্চফের সূত্র
কির্চফের সূত্র বা কির্চফের বর্তনী সূত্র দুটি মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা বর্তনী বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এই সূত্র দুটি হলো কির্চফের কারেন্ট সূত্র (KCL) এবং কির্চফের ভোল্টেজ সূত্র (KVL)।
১. কির্চফের কারেন্ট সূত্র (Kirchhoff's Current Law - KCL)
কির্চফের কারেন্ট সূত্র অনুযায়ী, একটি বর্তনীতে যে কোনো নোডে যতগুলো কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তাদের সমষ্টি শূন্যের সমান হয়। অর্থাৎ, নোডে যত কারেন্ট প্রবেশ করে তত কারেন্ট নোড থেকে বের হয়। এই সূত্রটি বলা যায়:
\[
\sum I_{\text{in}} = \sum I_{\text{out}}
\]
অর্থাৎ, নোডে প্রবেশ করা কারেন্টের যোগফল এবং বের হওয়া কারেন্টের যোগফল সমান হবে।
২. কির্চফের ভোল্টেজ সূত্র (Kirchhoff's Voltage Law - KVL)
কির্চফের ভোল্টেজ সূত্র অনুযায়ী, কোনো বন্ধ বর্তনীতে সব ভোল্টেজ ড্রপের সমষ্টি সেই বন্ধ বর্তনীর উৎস ভোল্টেজের সমান হয়। অর্থাৎ, সার্কিটের মোট ভোল্টেজের যোগফল শূন্য হবে। সূত্রটি বলা যায়:
\[
\sum V = 0
\]
অর্থাৎ, একটি লুপে বা বন্ধ বর্তনীতে যেসব ভোল্টেজ ড্রপ এবং উৎস রয়েছে, তাদের যোগফল শূন্য হবে। কির্চফের ভোল্টেজ সূত্র ব্যবহার করে সার্কিটের বিভিন্ন অংশে ভোল্টেজ নির্ধারণ এবং বিশ্লেষণ করা যায়।
সারসংক্ষেপ:
ওহমের সূত্র কারেন্ট, ভোল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে, যা বৈদ্যুতিক সার্কিট বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি। কির্চফের সূত্র (KCL এবং KVL) বর্তনীতে কারেন্ট এবং ভোল্টেজের সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে, যা বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক বা সার্কিট বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Read more