(Importance of Studying Civics and Good Governance in Bangladesh)

বাংলাদেশে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে বাংলাদেশে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হল-
১। দেশকে ভালোবাসার শিক্ষা: পৌরনীতি ও সুশাসন দেশকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এ কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা সকল নাগরিকের কর্তব্য। দেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসতে শেখায় পৌরনীতি ও সুশাসন।
২। জাতীয় ইতিহাস জানা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এ ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম প্রত্যেকের জানা দরকার। জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাস, যেমন- ভাষা আন্দোলন, গণ অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে গেলে দেশ কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে না।
৩। নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি: পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি করে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অত্যন্ত বেশি কিন্তু এর আয়তন ছোট। এ রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহু সমস্যা বিদ্যমান। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকের চেতনা বৃদ্ধি করে এ সব বহুমুখী সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করে দেয়।
৪। নাগরিক গুণাবলির বিকাশ: পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকের মানসিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, সময়মত কর পরিশোধ করা ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকের গুণাবলির বিকাশ সাধন করে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ।
৫। সুশাসন প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। সুশাসন ব্যতীত এ রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হওয়া সম্ভব নয়। কিভাবে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ী করা যায় তা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করে জানা যায়।
৬। নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের ফলে নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধিত হয়। মনের সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার দূরীভূত হয় পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের ফলে। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যবোধ জাগ্রত হয়। এর প্রভাবে নাগরিক জীবনে পূর্ণতা আসে।
৭। গণতন্ত্রের বিকাশ: বাংলাদেশের গণতন্ত্র টেকসই, মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশ্ব দরবারে প্রশংসনীয় করার জন্য এদেশের মানুষের পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক চেতনা বৃদ্ধির জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ আবশ্যক। কেননা গণতন্ত্রের বিকাশ ব্যতীত বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
৮। সংবিধান সম্পর্কে জানা: সংবিধান রাষ্ট্রের দর্পণ স্বরূপ। ১৯৭২ বাংলাদেশের সালে সংবিধান কার্যকর হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল বিধি-বিধান বাংলাদেশ সংবিধানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সংবিধানের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে। পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের মাধ্যমে সংবিধান এবং সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়।
৯। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু একই সুতোয় গাঁথা। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আবশ্যক। বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানা এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। উত্তম নাগরিক জীবন ও সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের বিকল্প নেই।

সার-সংক্ষেপ
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধান করে আধুনিক, উন্নত ও কল্যাণকর নাগরিক জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পায়, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা আসে, সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়, দেশপ্রেম জাগ্রত হয়, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি প্রথম পত্র-উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখকে বই
Read more