কম্পিউটার ভাইরাস কি?

Updated: 3 weeks ago
  • একটি ক্ষতিকারক জীবাণু
  • একটি ক্ষতিকারক সার্কিট
  • একটি ক্ষতিকারক চৌম্বক ফ্লাক্স
  • একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম
341
ব্যাখ্যাঃ

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে এবং ধীরে ধীরে পুরো কম্পিউটারে ছড়িয়ে যার।Computer virus এর মূল কাজ হলো আপনার কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে ফাইল গুলো মোডিফাই  করে ক্ষতিকর কিছু প্রোগ্রাম লিখে দেয়।

এই ক্ষতিকর প্রোগ্রাম লেখার ফলে কম্পিউটারে সেই ভাইরাস কাজ করতে শুরু করে। হঠাৎ দেখবেন, আপনার কম্পিউটার নির্দেশনা ছাড়া কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে।এই প্রোগ্রাম বা ভাইরাস কিভাবে আপনার কম্পিউটারে ঢুকলো সেটা আপনি নিজেও বুঝতে  পারবেন না।

কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস ও আবিষ্কারক

Robert Thomas নামক এক ব্যক্তি ১৯৭১ সালে, কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করেন। এনি কম্পিউটারকে ডেভলপ করবার জন্য এই ধরনের একটি মজাদার ভাইরাস তৈরি করেছিলেন। যেটি পরবর্তীকালে খারাপ প্রোগ্রামাররা ডেভেলপ করে কম্পিউটারের ক্ষতি করার চেষ্টা করে।

এই ভাইরাস বা প্রোগ্রামটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘Creeper‘ Virus।

এরপর ১৯৮২ সালে, Richard Skrenta নামক এক ব্যক্তি Floppy Disks এর মাধ্যমে Apple II Operating Systems কে Infect করেন। কিন্তু এই ভাইরাসকে তৈরি হয়েছিল Prank বা মজা করবার জন্য। সুতরাং এটি ছিল একটি সাধারণ Malicious Program। পরবর্তীকালে ১৯৮৩ সালে এই Malicious Programs টির নামকরণ করেন Fred Cohen নামক এক ব্যক্তি  এবং এই ভাইরাসের নাম রাখেন Computer Virus।

 

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ:

Boot Sector Virus: কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় মেমোরি আক্রান্ত করে।

File Infector Virus: ফাইলের মধ্যে লুকিয়ে থেকে অন্যান্য ফাইলকে সংক্রমিত করে।

Macro Virus: মাইক্রোসফট অফিস ফাইলের (যেমন: ওয়ার্ড, এক্সেল) ম্যাক্রোতে যুক্ত থাকে।

Trojan Horse: নিজেকে নিরীহ সফটওয়্যার হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং ভেতরে ক্ষতিকারক কোড বহন করে।

Worm (ওয়ার্ম): এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজে নিজে বিস্তার লাভ করতে পারে।

 

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ কি কি?

  • কম্পিউটার স্লো (slow) কাজ করবে।
  • কম্পিউটার ওপেন (open) হতে অনেক বেশি সময় নিবে।
  • কম্পিউটার নিজে নিজে রিস্টার্ট হয়ে যাবে।
  • কম্পিউটার চলতে চলতে হটাৎ হ্যাং (hang) হয়ে যাবে।
  • সফটওয়্যার গুলো ওপেন হতে সময় লাগবে।
  • ইনস্টল (install) করা সফটওয়্যার আনইনস্টল (uninstall) করতে পারবেন না।
  • ইন্টারনেট চালু করলে হঠাৎ বিজ্ঞাপন চলে আসবে।

কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার: নিয়মিত আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা।

ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে সতর্ক থাকা: সন্দেহজনক ওয়েবসাইট থেকে কিছু ডাউনলোড না করা।

নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা: গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখা।

সফটওয়্যার আপডেট: অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার আপডেট রাখা।

ইমেইল নিরাপত্তা: অপরিচিত বা সন্দেহজনক ইমেইল লিংক ও ফাইল থেকে দূরে থাকা।

Imran Shaikh
Imran Shaikh
1 year ago

কম্পিউটার ভাইরাস (Virus) হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম বা কোড, যা কম্পিউটারের ফাইল বা সিস্টেমে ঢুকে এবং নিজের কপি তৈরি করে অন্যান্য ফাইল বা প্রোগ্রামে সংক্রমিত করে। ভাইরাস সাধারণত ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ক্ষতি করে, যেমন ডেটা মুছে ফেলা, ফাইল পরিবর্তন করা, বা কম্পিউটার সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেওয়া। কম্পিউটার ভাইরাস একটি বড় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং এটি থেকে রক্ষা পেতে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:

১. সংক্রমণ (Infection):

  • কম্পিউটার ভাইরাস একটি ফাইল বা প্রোগ্রামে ঢুকে তার ভেতরে নিজের কপি তৈরি করে। এটি অন্য ফাইলগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ ঘটায়।

২. প্রচারণা (Propagation):

  • ভাইরাস সংক্রমিত ফাইলের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়াতে পারে। ইমেইল, ইউএসবি ড্রাইভ, ইন্টারনেট ডাউনলোড, এবং নেটওয়ার্ক শেয়ারিং মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

৩. ম্যালিসিয়াস কার্যক্রম (Malicious Activities):

  • ভাইরাস কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত করে, সিস্টেমে গোপনে তথ্য চুরি করতে পারে, বা কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ:

১. ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস (File Infector Virus):

  • এই ধরনের ভাইরাস প্রোগ্রাম বা এক্সিকিউটেবল ফাইলের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ফাইলটি চালানোর সময় কার্যকর হয়। এটি .exe বা .com ফাইল সংক্রমিত করে।

২. বুট সেক্টর ভাইরাস (Boot Sector Virus):

  • বুট সেক্টর ভাইরাস হার্ড ড্রাইভ বা ফ্লপি ডিস্কের বুট সেক্টরে ঢুকে এবং কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় সক্রিয় হয়। এটি সিস্টেম বুট প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে এবং সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৩. ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus):

  • ম্যাক্রো ভাইরাস সাধারণত ওয়ার্ড বা এক্সেল ডকুমেন্টের ম্যাক্রোতে যুক্ত থাকে। এটি ডকুমেন্ট খোলার সময় সক্রিয় হয় এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট সংক্রমিত করে।

৪. পলিমরফিক ভাইরাস (Polymorphic Virus):

  • এই ধরনের ভাইরাস তার কোড প্রতিবার পরিবর্তন করে নতুন ফাইল সংক্রমিত করে, যা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।

৫. রেসিডেন্ট ভাইরাস (Resident Virus):

  • রেসিডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের RAM-এ অবস্থান করে এবং কম্পিউটারের কার্যক্রম চলাকালে সক্রিয় থাকে। এটি বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালু হলে সেগুলোকে সংক্রমিত করে।

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রভাব:

১. ফাইল ক্ষতি:

  • ভাইরাস সংক্রমিত ফাইলগুলোর ডেটা মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে পারে, যা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর কারণ হতে পারে।

২. সিস্টেম স্লোডাউন:

  • ভাইরাস কম্পিউটারের রিসোর্স ব্যবহার করে সিস্টেমকে ধীর করে দিতে পারে, যার ফলে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

৩. সিকিউরিটি হুমকি:

  • কিছু ভাইরাস গোপনে তথ্য চুরি করতে পারে বা কম্পিউটারে ব্যাকডোর তৈরি করে, যা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪. সিস্টেম ক্র্যাশ:

  • গুরুতর ভাইরাস সংক্রমণ কম্পিউটার সিস্টেমকে পুরোপুরি অকার্যকর করে দিতে পারে বা সিস্টেম ক্র্যাশ ঘটাতে পারে।

কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষার উপায়:

১. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন:

  • একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করুন এবং নিয়মিত আপডেট করুন। এটি ভাইরাস শনাক্ত এবং মুছে ফেলতে সাহায্য করবে।

২. ইমেইল এবং ডাউনলোড সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করুন:

  • সন্দেহজনক ইমেইল বা অজানা সূত্র থেকে ফাইল ডাউনলোড করা এড়িয়ে চলুন। ফাইল ডাউনলোডের আগে তা স্ক্যান করে দেখুন।

৩. সিস্টেম এবং সফটওয়্যার আপডেট রাখুন:

  • নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার আপডেট করুন, কারণ আপডেটগুলোতে নিরাপত্তা প্যাচ থাকে যা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সহায়ক।

৪. ব্যাকআপ তৈরি করুন:

  • গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নিয়মিত ব্যাকআপ করে রাখুন, যাতে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তথ্য হারালে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

৫. ফায়ারওয়াল এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল ব্যবহার করুন:

  • ফায়ারওয়াল এবং অন্যান্য সিকিউরিটি প্রোটোকল চালু রাখুন, যাতে অননুমোদিত অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করা যায়।

কম্পিউটার ভাইরাস শনাক্ত করার লক্ষণ:

১. ফাইল আচরণে পরিবর্তন:

  • ফাইলগুলি খুলতে সমস্যা হলে, ফাইলের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা ফাইল নাম পরিবর্তন হলে এটি ভাইরাসের লক্ষণ হতে পারে।

২. সিস্টেম স্লোডাউন:

  • কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে বা সিস্টেম প্রোগ্রাম চালানোর সময় অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে ভাইরাস উপস্থিতি থাকতে পারে।

৩. অজানা পপ-আপ মেসেজ:

  • অজানা বা অস্বাভাবিক পপ-আপ মেসেজ, অ্যাপ্লিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু বা বন্ধ হওয়া ভাইরাসের সংকেত হতে পারে।

৪. অপ্রত্যাশিত সিস্টেম ক্র্যাশ:

  • সিস্টেম হঠাৎ করে ক্র্যাশ হলে বা রিস্টার্ট হলে তা ভাইরাস সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

সারসংক্ষেপ:

কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারের ফাইল ও সিস্টেমে ঢুকে এবং সেগুলোকে সংক্রমিত করে। এটি সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমিয়ে, ডেটা মুছে ফেলে, এবং সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। সঠিক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, নিয়মিত আপডেট, এবং সচেতন ব্যবহার ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সহায়ক।

Related Question

View All
Updated: 1 month ago
  • ছবি এডিট করার সফটওয়্যার
  • অপারেটিং সিস্টেম
  • প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ
  • ম্যালওয়্যার
342
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই