পাই বন্ধন যুক্ত যৌগকে কি ধরনের যৌগ বলে ?
-
ক
অসম্পৃক্ত
-
খ
সম্পৃক্ত
-
গ
কঠিন
-
ঘ
কোনোটিই নয়
পাই বন্ধন যুক্ত যৌগকে অসম্পৃক্ত যৌগ বলে।
ব্যাখ্যা:
- অসম্পৃক্ত যৌগ হলো এমন যৌগ যাদের অণুতে দুটি পরমাণুর মধ্যে একটি বা একাধিক পাই (π) বন্ধন থাকে।
- পাই বন্ধন হলো দুটি পরমাণুর মধ্যে পাশাপাশি তৈরি বন্ধন।
- অসম্পৃক্ত যৌগ সাধারণত আলকিন, আলকাইন এবং অ্যারোমেটিক যৌগ।
উদাহরণ:
- ইথিলিন (C2H4): এটি একটি আলকিন যার অণুতে দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে একটি পাই বন্ধন থাকে।
- অ্যাসিটিলিন (C2H2): এটি একটি আলকাইন যার অণুতে দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে একটি ত্রিপল বন্ধন (একটি সিগমা এবং দুটি পাই বন্ধন) থাকে।
- বেনজিন (C6H6): এটি একটি অ্যারোমেটিক যৌগ যার অণুতে ছয়টি কার্বন পরমাণুর মধ্যে তিনটি পাই বন্ধন থাকে।
সম্পৃক্ত যৌগ:
- সম্পৃক্ত যৌগ হলো এমন যৌগ যাদের অণুতে দুটি পরমাণুর মধ্যে শুধুমাত্র সিগমা (σ) বন্ধন থাকে।
- সিগমা বন্ধন হলো দুটি পরমাণুর মধ্যে মুখোমুখি তৈরি বন্ধন।
- সম্পৃক্ত যৌগ সাধারণত অ্যালকেন এবং অ্যালকোহল।
উদাহরণ:
- ইথেন (C2H6): এটি একটি অ্যালকেন যার অণুতে দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে একটি সিগমা বন্ধন থাকে।
- মিথানল (CH3OH): এটি একটি অ্যালকোহল যার অণুতে কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে সিগমা বন্ধন এবং কার্বন এবং অক্সিজেন পরমাণুর মধ্যে একটি সিগমা বন্ধন থাকে।
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
মৌলিক পদার্থসমূহকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর সময় তাদের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মগুলোর একটি পর্যায়বৃত্ত ধারা লক্ষ্য করা যায়। এ ধারা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরাবৃত্তি করে। মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- আয়নিক ব্যাসার্ধ ও পরমাণুর আকার
পরমাণুর আকার একটি গ্রুপে নিচের দিকে গেলে বৃদ্ধি পায়, কারণ ইলেকট্রন শেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে, একই পর্যায়ের মৌলগুলোতে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় পরমাণুর আকার কমে, কারণ নিউক্লিয়ার আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। - আয়নন শক্তি
আয়নন শক্তি হল ইলেকট্রন সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি। একই পর্যায়ের মৌলগুলোর মধ্যে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় আয়নন শক্তি বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুর আকার ছোট হয় এবং নিউক্লিয়ার আকর্ষণ বেশি থাকে। - ইলেকট্রন প্রবণতা ও তড়িৎঋণাত্মকতা
একটি মৌল অন্য মৌল থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতাকে ইলেকট্রন প্রবণতা বলে। তড়িৎঋণাত্মকতা একটি রাসায়নিক বন্ধন গঠনের সময় ইলেকট্রন ধরে রাখার ক্ষমতা। একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে যাওয়ার সময় তড়িৎঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।
রাসায়নিক বন্ধনের সাথে সম্পর্ক
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মের ভিত্তিতে রাসায়নিক বন্ধনের প্রকৃতি এবং শক্তি ব্যাখ্যা করা যায়। মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস এবং তড়িৎঋণাত্মকতার পার্থক্যের ভিত্তিতে তাদের রাসায়নিক বন্ধনের ধরন ভিন্ন হয়।
- আয়নিক বন্ধন
তড়িৎঋণাত্মকতার মধ্যে বেশি পার্থক্য থাকলে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়। যেমন, ধাতু এবং অধাতুর মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠন হয়, কারণ ধাতু ইলেকট্রন দান করে এবং অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে। - অযোজনীয় বন্ধন (Covalent Bond)
সমান বা কাছাকাছি তড়িৎঋণাত্মকতা থাকা মৌলগুলো অযোজনীয় বন্ধন গঠন করে। এখানে ইলেকট্রন শেয়ারিং হয়। - ধাতব বন্ধন
ধাতুর পরমাণুগুলো তাদের বহিঃস্থ ইলেকট্রন একটি মুক্ত ইলেকট্রন সাগরে অবদান রাখে, যা ধাতব বন্ধন তৈরি করে। - আণবিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
ইলেকট্রন বিন্যাস এবং আয়নন শক্তি একটি মৌলের আণবিক গঠনের প্রভাব ফেলে। এটি রাসায়নিক বন্ধনের শক্তি ও গঠন নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ তড়িৎঋণাত্মক মৌলগুলো সাধারণত মেরু বন্ধন গঠন করে।
সারসংক্ষেপ
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম এবং রাসায়নিক বন্ধনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যায় সারণির প্রতিটি মৌলের বৈশিষ্ট্য থেকে তাদের রাসায়নিক বন্ধনের প্রকৃতি নির্ধারণ করা যায়। এর মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ধরন এবং আণবিক গঠনের বিশ্লেষণ সহজ হয়।
Related Question
View All-
ক
ইলেকট্রন আসক্তি
-
খ
তড়িৎ ঋণাত্মকতা
-
গ
আয়নিক পটেনসিয়াল
-
ঘ
আয়নিকরণ শক্তি
-
ক
-
খ
-
গ
-
ঘ
-
ক
-
খ
-
গ
-
ঘ
-
ক
আয়নিক ও সমযোজী
-
খ
আয়নিক ও ভ্যানডার ওয়ালস সমযোজী
-
গ
সমযোজী ও হাইড্রোজেন
-
ঘ
হাইড্রোজেন ও সন্নিবেশ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন