‘বন্ধন’ শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?

Updated: 7 months ago
  • ব + ন + ধ + ন
  • বন্+ধন্
  • ব + ন্ধ + ন
  • বান + ধন
472
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে 'অক্ষর বিন্যাস' বলতে কোনো শব্দকে তার উচ্চারণের ক্ষুদ্রতম অংশ, অর্থাৎ অক্ষরে বিভক্ত করা বোঝায়। অক্ষর হলো শব্দের সেই অংশ যা একবারে উচ্চারণ করা যায় এবং যার মধ্যে একটি স্বরধ্বনি অবশ্যই থাকে।

সাধারণত, বাংলা অক্ষরের গঠন দু'রকমের হয়:

        
  1. মুক্তাক্ষর (Open Syllable): যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে। যেমন: মা (মা-্), যা (জা-্)।
  2.     
  3. রুদ্ধাক্ষর (Closed Syllable): যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে। যেমন: জল (জল্), আম (আম্)।

'বন্ধন' শব্দের অক্ষর বিন্যাস:

'বন্ধন' শব্দটিতে একটি যুক্তবর্ণ 'ন্ধ' রয়েছে। যুক্তবর্ণের ক্ষেত্রে অক্ষর বিন্যাসের একটি বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। যদি কোনো যুক্তবর্ণের প্রথম ধ্বনিটি অনুনাসিক ব্যঞ্জনধ্বনি (যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) হয়, তবে সাধারণত সেই অনুনাসিক ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি রুদ্ধাক্ষর (Closed Syllable) গঠন করে এবং যুক্তবর্ণের পরবর্তী ধ্বনিটি নতুন অক্ষরের সূচনা করে।

'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি 'ন্' এবং 'ধ' এর সমন্বয়ে গঠিত। এখানে 'ন্' একটি অনুনাসিক ব্যঞ্জনধ্বনি।

        
  • প্রথম অংশে 'ব' এর সাথে 'ন্' যুক্ত হয়ে 'বন্' (bon) একটি রুদ্ধাক্ষর গঠন করে।
  •     
  • দ্বিতীয় অংশে 'ধ' এর সাথে পরবর্তী 'ন' (এবং তার সাথে লুপ্ত 'অ' স্বর) যুক্ত হয়ে 'ধন' (dhon) একটি রুদ্ধাক্ষর গঠন করে।

সুতরাং, 'বন্ধন' শব্দটির সঠিক অক্ষর বিন্যাস হলো 'বন্ + ধন্'।

অন্যান্য অপশনগুলো ভুল হওয়ার কারণ:

        
  • ১. ব + ন + ধ + ন: এটি অক্ষরের বিন্যাস নয়, বরং বর্ণ (letter) বিন্যাস। অক্ষর বা সিলেবল গঠনের জন্য স্বরধ্বনি অপরিহার্য।
  •     
  • ৩. ব + ন্ধ + ন: 'ন্ধ' একটি যুক্তবর্ণ, এটি নিজে কোনো স্বরধ্বনি বহন করে না, তাই এটি এককভাবে অক্ষর হতে পারে না। একটি অক্ষর গঠনের জন্য অন্তত একটি স্বরধ্বনি থাকা আবশ্যক।
  •     
  • ৪. বান + ধন: এটি শব্দটির উচ্চারণ ও অর্থ পরিবর্তন করে ফেলে। 'বন্ধন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ 'বন্-ধন্', 'বান-ধন' নয়।
Satt AI
Satt AI
6 days ago

বর্ণের উচ্চারণ : বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ। কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন। ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। এখানে বাংলা বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে।

স্বরবর্ণ

অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনাে কখনাে [ও]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক অনে, কথা কথা], অনাথ [অনাহ্]। অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি), অণু ওনু], পক্ষ [পােকখাে], অদ্য [ওদো ], মন মােন্]।

আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: আকাশ (আকাশী, রাত রাতৃ, আলাে আলাে]। [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে (অ্যা]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। যেমন – জ্ঞান [গ্যাঁন], জ্ঞাত [গ্যাঁতাে], জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন]

ই, ঈ

[ই] ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বােঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: ই এবং ঈ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম: দিন [দিন], দীন (দিনো], বিনা [বিনা], বীণা (বিনা), হীন [হিনাে]।

উ, ঊ

[উ] ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বােঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: উ এবং উ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম: উচিত [উচিত্] উষা [উশা], উনিশ [উনিশ], ঊনবিংশ [উনােবিংঙশাে]।

ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে: ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্], কৃষক [ক্রিশক], দৃশ্য [দ্ৰিশশাে]।

এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়। এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]। এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা ], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

ঐ বর্ণের উচ্চারণ ওই: ঐকিক [ওইকি, তৈল তােইলাে]।

ও বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল], বােধ [বােধ]।

ঔ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ): ঔষধ [ওউশধ], মৌমাছি [মােমাছি]।

ব্যঞ্জনবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণগুলাে সাধারণত নিজ নিজ ধ্বনি অনুযায়ী উচ্চারিত হয়। যেমন – কলা, খর, বল, নাচ শব্দের ক, খ, ব, ন ইত্যাদি বর্ণের উচ্চারণ যথাক্রমে [ক], [খ], [ব], [ন] ইত্যাদি। তবে কয়েকটি ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ নিজ নিজ ধ্বনি থেকে আলাদা। এ ধরনের কয়েকটি বর্ণের উচ্চারণ নিয়ে আলােচনা করা হলাে।

ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনাে ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে আঁ-এর মতাে আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন]-এর মতাে উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়া], চঞ্চল [চনচল], গঞ্জ [গনজো]।

ণ বর্ণের উচ্চারণ : কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হােরিন]

ব বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে। শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন – ত্বক [ত], শ্বশুর [শাে] , স্বাধীন [শাধিন]। শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়: অশ্ব (অশশাে], বিশ্বাস [বিশশাশ], পক্ব [পককো]।

ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ আঁ-এর মতাে হয়, যেমন – শ্মশান [শঁশান], স্মরণ [শঁরােন্‌]। শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন – আত্মীয় [আততিও], পদ্ম (পদদোঁ] । কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় – এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন – যুগ্ম [জুগমাে], জন্ম [জনমো], গুল্ম [গুলমাে]।

য বর্ণের উচ্চারণ [জ্]: যদি [জোদি], যিনি [জিনি], সূর্য [শুরূজো]। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে এ পরিবর্তন হয়, যেমন – যেমন – ব্যতীত বেতিতাে], ব্যথা ব্যাথা]। শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের ও সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়, যেমন – উদ্যম [উদ্দ, গদ্য গােদো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা -এর কোনাে উচ্চারণ হয় না, যেমন – সন্ধ্যা [শােধা], স্বাস্থ্য শািসূথাে], অর্ঘ্য [অরুঘাে] ।

র বর্ণের উচ্চারণ [র]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে। শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়, যেমন – মাত্র মিত্রো ], বিদ্রোহ [বিদ্রোহাে], যাত্রী জোত্রি]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না, যেমন – কেন্দ্র [কেনৃদ্রো], শাস্ত্র শািসত্রো], বস্ত্র বিসূত্রো]।

শ, ষ, স

শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

  • শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
  • শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
  • ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
  • স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
  • স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

Related Question

View All
Updated: 2 months ago
  • ধ্বনি
  • বর্ণ
  • অক্ষর
  • শব্দ
102
Updated: 4 months ago
  • আহভায়োক্

  • আহব্‌ বায়ক

  • আহোব্‌ বায়োক

  • আওভায়ক্

96
Updated: 5 months ago
  • শব্দ
  • বর্ণ
  • ধ্বনি
  • অক্ষর
144
Updated: 6 months ago
  • নুনোতমো
  • নুন্‌নোতমো
  • নুনোতম্
  • নুন্‌নোতম্
215
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই