বাংলা অভিধানের রচয়িতা কে?
বাংলা অভিধানের রচয়িতা কে?
-
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
খ
ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-
গ
কাজী নজরুল ইসলাম
-
ঘ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
'বাংলা অভিধান' বা বাংলার আঞ্চলিক ভাষার অভিধান প্রণয়নে ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অবদান অবিস্মরণীয়। তার সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি ‘Bangala, The Meaning and Origin of’ নামক একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেন। ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ, গবেষক ও খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ।
- ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
- বাংলা সনের তারিখ বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রবর্তিত সংস্কার (শহীদুল্লাহ বর্ষপঞ্জিকা) বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
• ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
(গবেষণা ও ভাষাতত্ত্ব)
- বাংলা সাহিত্যের কথা (১ম ও ২য় খণ্ড),
- ভাষার ইতিবৃত্ত,
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- পদ্মাবতী (সম্পাদনা)।
(শিশুতোষ গ্রন্থ)
- শেষ নবীর সন্ধানে,
- ছোটদের রসূলুল্লাহ,
- সেকালের কথা।
(অনুবাদ)
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- দীওয়ান-ই- হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ।
• জেনে রাখা ভালো:
- আধুনিক বাংলা অভিধানের ক্ষেত্রে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' এবং রাজশেখর বসু রচিত 'চলন্তিকা' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নাম।
অভিধান:
ইংরেজি Dictionary এর বাংলা অর্থ অভিধান। অভিধান এর শাব্দিক অর্থ শব্দকোষ। যে গ্রন্থে কোনো ভাষার শব্দের বর্ণানুক্রমিক অবস্থান, বানান, উচ্চারণ, অর্থ, ব্যুৎপত্তি ও ব্যবহার নির্দেশ করা হয় তাকে অভিধান বলে।
- শব্দ সংকলন বা সংকলিত শব্দের গ্রন্থকে গ্রিক ভাষায় বলা হয় 'লেক্সিকন' (Lexicon)। ল্যাটিন ভাষায় রোমানরা বলতো 'ডিকশনারি' (Dictionary)। ল্যাটিন ভাষার ডিকশনারি থেকে ইংরেজি ভাষায় Dictionary শব্দটি গৃহীত হয়েছে এবং বাংলা ভাষায় এর পরিভাষা হিসেবে 'অভিধান' শব্দটির প্রচলন ঘটেছে।
- বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান পর্তুগিজ ভাষায় রচনার প্রচেষ্টা চালান খ্রিষ্টান মিশনারি মনোএল দ্য আসুম্পসাঁউ। তার রচিত 'Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez. Dividido Em Duas Partes' গ্রন্থটি রোমান হরফে পর্তুগিজ ভাষায় ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। ১৮১৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় (বাংলা থেকে বাংলা) 'বঙ্গভাষাভিধান' নামে প্রথম অভিধান সংকলন করেন রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি এটি অখণ্ড পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে 'বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান' নামে প্রকাশ করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের 'যথাশব্দ' নামে ১৯৭৪ সালে প্রথম অভিধান সংকলন করেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
বর্ণানুক্রম:
অভিধানে একটির পর আরেকটি শব্দ সাজানো থাকে সংশ্লিষ্ট ভাষার বর্ণানুক্রমে। বাংলা ভাষায় 'অ' দিয়ে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে অপর বর্ণগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো থাকে।
নিচে বর্ণানুক্রমের আলোচনা করা হলো-
সাধারণ বর্ণানুক্রম:
অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন
প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ
স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ
অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রম:
অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ , ং, ঃ, ঁ
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন
প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ স, হ
যুক্তাক্ষরের বর্ণানুক্রম:
ক, ক্ট, ক্ত, ক্ষ, ক্স, গ্ণ, গ্ধ, ঙ্ক, ঙ্ক্ষ,ঙ্খ, ঙ্গ ,ঙ্ঘ, ঙ্ম,
চ্চ, চ্ছ, চঞ, জ্জ, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্চ, ঞ্জ, ঞ্ঝ, ট্ট, ড্ড, ড্গ,
ন্ট, ণ্ট, ণ্ড, ণ্ঢ, ণ্ণ, ণ্ম, ত্ত, ত্থ, দ্গ, দ্ঘ, দ্দ, দ্ধ, দ্ব,
দ্ভ, ধ্ব, ন্ট, ণ্ঠ, ন্ড, ন্ঢ, ন্ত, ন্থ, ন্দ, ন্ধ, ন্ন, ন্ম, প্ট,
প্ত, প্প, প্স, ব্জ, ব্দ, ব্ধ, ব্ব, ব্ভ, ম্প, ম্ব, ম্ভ, ম্ম,
ল্ক, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ম, ল্ল, শ্চ, শ্ছ, ষ্ক, ষ্ট, ষ্ঠ, ষ্ণ, ষ্প,
ষ্ম, স্ক, স্ট, স্ত, স্থ, স্প, স্ফ, হ্ণ, হ্ন , হ্ম
কার চিহ্ন:
া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ
ং, ঃ, ঁ স্বরবর্ণের পরে এবং ব্যঞ্জনবর্ণের আগে ব্যবহৃত হয়।
শীর্ষ শব্দ:
অভিধানে যে শব্দের অর্থ দেয়া হয়, সেটি বোল্ড টাইপে বা মোটা হরফে মুদ্রিত থাকে। এটিকে বলে শীর্ষ শব্দ। যেমন:
অঋণী [অরিনি] বিণ ঋণমুক্ত; ঋণশূন্য। {স. অ+ঋণ+ইন (ইনি); স. অন্ণী}
-এখানে 'অঋণী' শব্দটি হচ্ছে শীর্ষ পদ।
ভুক্তি:
অভিধানে শীর্ষ শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা ও ব্যবহার যেভাবে বিধৃত থাকে, তাকে বলা হয় ভুক্তি। যেমন:

অভিধান
অভিধান | সম্পাদক |
| Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez (১৭৪৩) | মনোএল দ্য আসসুম্পসাওঁ |
| বাংলা ভাষার অভিধান (১৮১৫) | উইলিয়াম কেরী |
| বাংলা ভাষার অভিধান (১৮১৫) | উইলিয়াম কেরী |
| বঙ্গভাষাভিধান (১৮১৭) | রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ |
| শব্দমঞ্জরী (বাংলা অভিধান) | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |
| বঙ্গীয় শব্দকোষ | হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় |
| নূতন বাঙ্গালা অভিধান (১৯১১) | হরিচরণ দে |
| চলন্তিকা (১৯৩০) | রাজশেখর বসু |
| যথাশব্দ (১৯৭৪) | মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান |
| লালন শব্দকোষ | রবিশঙ্কর মৈত্রী |
| শব্দদীধিতি অভিধান | শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় |
| সংসদ সমার্থশব্দকোষ (১৯৮৭) | অশোক মুখোপাধ্যায় |
| সংসদ বাঙ্গালা অভিধান | শৈলেন্দ্র বিশ্বাস |
| লৌকিক শব্দকোষ | কামিনীকুমার রায় |
| ব্যবহারিক শব্দকোষ | কাজী আবদুল ওদুদ |
| বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান | ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ |
| বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান | আহমদ শরীফ |
| বাংলা একাডেমী ইংরেজি-বাংলা অভিধান | জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী |
| বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান | জামিল চৌধুরী |
| প্রমিত বাংলা বানান অভিধান | জামিল চৌধুরী |
| সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান | আবু ইসহাক |
| বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান | ড. এনামুল হক |
Related Question
View Allঅভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
-
ক
চাঁদ
-
খ
খেলা
-
গ
গ্রহ
-
ঘ
ক্ষমা
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধানে 'য়' এর পরের বর্ণ কোনটি?
-
ক
য
-
খ
ল
-
গ
র
-
ঘ
ম
আভিধানিক ক্রম অনুযায়ী সাজানো শব্দগুচ্ছ কোনটি?
-
ক
বোতাম, ব্রত, ব্যথা
-
খ
ধ্বনি, স্বাদিত, ষষ্ঠ
-
গ
কানন, কালান্তর, কাঁকন
-
ঘ
জ্ঞান, জোষ্ঠ, জ্যোতি
আভিধানিক ক্রম অনুযায়ী সাজানো শব্দগুচ্ছ -
-
ক
বোতাম, ব্রত, ব্যথা
-
খ
জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি
-
গ
কানন, কালান্তর, কাঁকন
-
ঘ
ধ্বনি, স্বাদিত, ষষ্ঠ
বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন কে?
-
ক
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
-
খ
রাজশেখর বসু
-
গ
হরিচরণ দে
-
ঘ
অশোক মুখোপাধ্যায়
অভিধানে ং,ঃ,ঁ, -এই বর্ণগুলোর অবস্থান কোথায়?
-
ক
স্বরবর্ণের আগে
-
খ
স্বরবর্ণের শেষে
-
গ
ব্যঞ্জনবর্ণের শেষে
-
ঘ
এদের নির্দিষ্ট অবস্থান নেই
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন