'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?

Updated: 2 months ago
  • ক
    স্বরবৃত্ত
  • খ
    মাত্রাবৃত্ত
  • গ
    অমিত্রাক্ষর
  • ঘ
    স্বরমাত্রিক
1k
ব্যাখ্যাঃ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতাটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা। মাইকেল মধুসূদন দত্তই বাংলা সাহিত্যে এই ছন্দের প্রবর্তন করেন।

অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

        
  • এতে পংক্তির শেষে মিল থাকে না (অ-মিত্রাক্ষর = মিত্রাক্ষর বিহীন)।
  •     
  • প্রতিটি চরণে নির্দিষ্ট সংখ্যক মাত্রা থাকে (সাধারণত ১৪ মাত্রা)।
  •     
  • এটি যতি বা ছেদের স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ছন্দ। অর্থাৎ, এক পংক্তির ভাব অন্য পংক্তিতে গিয়ে শেষ হতে পারে (Run-on line বা Enjambment)।
  •     
  • এর ফলে কবিতার গতিময়তা ও নাটকীয়তা বৃদ্ধি পায়।

অন্যান্য ছন্দ সম্পর্কে সংক্ষেপে:

        
  • স্বরবৃত্ত ছন্দ: এটি দলবৃত্ত বা শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ নামেও পরিচিত। এতে অক্ষরের সংখ্যার পরিবর্তে দল বা সিলেবলের উচ্চারণের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং শ্বাসাঘাতের (stress) মাধ্যমে এর গতি নির্ধারিত হয়। দ্রুতলয় এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
  •     
  • মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: এটি কলাবৃত্ত বা ধ্বনিপ্রধান ছন্দ নামে পরিচিত। এতে প্রতিটি অক্ষরের মাত্রাগণনা করা হয়। সাধারণত যুগ্ম অক্ষর (বদ্ধ দল) ২ মাত্রা এবং অযুগ্ম অক্ষর (মুক্ত দল) ১ মাত্রা হিসাবে গণ্য হয়। এর গতি মধ্যম।
  •     
  • স্বরমাত্রিক: বাংলা ছন্দের প্রধান বিভাজনের মধ্যে এটি প্রচলিত একটি পরিভাষা নয়। এটি মূলত স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্ত ছন্দের কোনো মিশ্র রূপ বা একটি অপ্রচলিত নামকরণ হতে পারে। বাংলা ছন্দে প্রধানত স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত (যেটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের মূল ভিত্তি) এই তিনটি ধারা বিদ্যমান।
Satt AI
Satt AI
3 months ago


“বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কাব্যাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ-কাব্যে’-র ‘বধো' (বধ) নামক ষষ্ঠ সর্গ থেকে সংকলিত হয়েছে। সর্বমোট নয়টি সর্গে বিন্যস্ত ‘মেঘনাদবধ-কাব্যে'র ষষ্ঠ সর্গে লক্ষ্মণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে অসমসাহসী বীর মেঘনাদের। রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আক্রান্ত হলে রাজা রাবণ শত্রুর উপর্যুপরি দৈব-কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর মেঘনাদকে পিতা রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে বরণ করে নেন। যুদ্ধজয় নিশ্চিত করার জন্য মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার পূর্বেই নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে মনস্থির করে। মায়া দেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণের অনুজ বিভীষণের সহায়তায়, লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশে সমর্থ হয়। কপট লক্ষ্মণ নিরস্ত্র মেঘনাদের কাছে যুদ্ধ প্রার্থনা করলে মেঘনাদ বিস্ময় প্রকাশ করে। শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে লক্ষ্মণের অনুপ্রবেশ যে মায়াবলে সম্পন্ন হয়েছে, বুঝতে বিলম্ব ঘটে না তার। ইতোমধ্যে লক্ষ্মণ তলোয়ার কোষমুক্ত করলে মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণের জন্য সময় প্রার্থনা করে লক্ষ্মণের কাছে। কিন্তু লক্ষ্মণ তাকে সময় না দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময়ই অকস্মাৎ যজ্ঞাগারের প্রবেশদ্বারের দিকে চোখ পড়ে মেঘনাদের; দেখতে পায় বীরযোদ্ধা পিতৃব্য বিভীষণকে মুহূর্তে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায় তার কাছে। খুল্লতাত বিভীষণকে প্রত্যক্ষ করে দেশপ্রেমিক নিরস্ত্র মেঘনাদ যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, সেই নাটকীয় ভাষ্যই “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” অংশে সংকলিত হয়েছে। এ অংশে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে ঘৃণা। জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও জাতিসত্তার সংহতির গুরুত্বের কথা যেমন এখানে ব্যক্ত হয়েছে তেমনি এর বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে নীচতা ও বর্বরতা বলে ।
উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাল্মীকি-রামায়ণকে নবমূল্য দান করেছেন এ কাব্যে। মানবকেন্দ্রিকতাই রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সারকথা। ওই নবজাগরণের প্রেরণাতেই রামায়ণের রাম-লক্ষ্মণ মধুসূদনের লেখনীতে হীনরূপে এবং রাক্ষসরাজ রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদ যাবতীয় মানবীয় গুণের ধারকরূপে উপস্থাপিত। দেবতাদের আনুকূল্যপ্রাপ্ত রাম-লক্ষ্মণ নয়, পুরাণের রাক্ষসরাজ রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদের প্রতিই মধুসূদনের মমতা ও শ্রদ্ধা ।
“বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কাব্যাংশটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রথম পঙ্ক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পক্তির চরণান্তের মিলহীনতার কারণে এ ছন্দ ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ' নামে সমধিক পরিচিত। এ কাব্যাংশের প্রতিটি পক্তি ১৪ মাত্রায় এবং ৮ + ৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত। লক্ষ করার বিষয় যে, এখানে দুই পঙ্ক্তির চরণান্তিক মিলই কেবল পরিহার করা হয়নি, যতিপাত বা বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহারও হয়েছে বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে। এ কারণে ভাবপ্রকাশের প্রবহমানতাও কাব্যাংশটির ছন্দের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য।

Related Question

View All
  • ক
    লক্ষ্মণের প্রতি দুর্বলতা
  • খ
    যুদ্ধের অনৈতিকতা
  • গ
    নিজের অসীম ক্ষমতার ওপর আস্থা
  • ঘ
    বিভীষণের প্রতি বিশ্বাস
32
  • ক
    বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি
  • খ
    ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে
  • গ
    রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
  • ঘ
    অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে
46
  • ক
    হীনমানসিকতার হওয়ায়
  • খ
    শত্রুর সাথে আঁতাঁত করায়
  • গ
    শারীরকিভাবে দুর্বল হওয়ায়
  • ঘ
    নিরস্ত্র ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে আসায়
28
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই