’সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

Updated: 1 year ago
  • মাত্রাবৃত্ত
  • স্বরবৃত্ত
  • অক্ষরবৃত্ত
  • গদ্যছন্দ
899
ব্যাখ্যাঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলা কাব্যের তিনটি প্রধান ছন্দের মধ্যে এটি অন্যতম।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

        
  • মাত্রাগণনা পদ্ধতি: এই ছন্দে অক্ষরের উচ্চারণের সময়কাল বা মাত্রা দিয়ে পঙ্‌ক্তির ছন্দ হিসাব করা হয়, অক্ষরের সংখ্যা দিয়ে নয়।
  •     
  • অক্ষরের মূল্য: মাত্রাবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর (যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে, যেমন: ‘মা’, ‘যা’, ‘কো’) সর্বদা ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, বদ্ধাক্ষর (যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে, যেমন: ‘বন’, ‘ঘর’, ‘কান্ত’) সর্বদা ২ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়, সেটি শব্দের যেখানেই থাকুক না কেন।
  •     
  • লয় ও গতি: মাত্রাবৃত্ত ছন্দের লয় বা গতি স্বরবৃত্তের মতো দ্রুত নয় এবং অক্ষরবৃত্তের মতো অতিরিক্ত ধীর ও গম্ভীর নয়, বরং মধ্যম প্রকৃতির। এটি কাব্যিক গাম্ভীর্য ও গীতিময়তার এক চমৎকার সমন্বয় সাধন করে।
  •     
  • ‘সোনার তরী’তে প্রয়োগ: ‘সোনার তরী’ কবিতায় বদ্ধাক্ষরগুলি ২ মাত্রা হিসেবে এবং মুক্তাক্ষরগুলি ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ছন্দোবদ্ধ রূপ ধারণ করেছে, যা মাত্রাবৃত্তের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই ছন্দের মধ্যম লয় ও ধ্বনিমাধুর্য কবিতার গভীর ভাবকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।

অন্যান্য ছন্দগুলো হলো:

        
  • স্বরবৃত্ত ছন্দ (দলবৃত্ত বা শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ): এই ছন্দে প্রতিটি অক্ষর (মুক্তাক্ষর বা বদ্ধাক্ষর উভয়ই) ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয় এবং শ্বাসাঘাত বা জোর প্রধান ভূমিকা পালন করে। এটি সাধারণত দ্রুত লয়ের হয় এবং ছড়া বা লোকগীতিতে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
  •     
  • অক্ষরবৃত্ত ছন্দ (মিশ্রবৃত্ত বা তানপ্রধান ছন্দ): এই ছন্দে অক্ষরের লিখিত রূপের ওপর ভিত্তি করে মাত্রা গণনা করা হয়। মুক্তাক্ষর সবসময় ১ মাত্রা। কিন্তু বদ্ধাক্ষরের মাত্রা গণনা তার অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল; পদের আদিতে বা মধ্যে থাকলে ১ মাত্রা এবং পদের শেষে থাকলে ২ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়। এটি সাধারণত ধীর ও গম্ভীর লয়ের হয়।
  •     
  • গদ্যছন্দ: এই ছন্দে কবিতার কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা বা পঙ্‌ক্তি বিন্যাসের নিয়ম মানা হয় না। এটি গদ্যের মতো স্বাধীনভাবে লেখা হয়, তবে এতে কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব, সৌন্দর্য ও রস বিদ্যমান থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই তাঁর শেষ জীবনে গদ্যছন্দে অনেক কবিতা রচনা করেছেন।
Sumaiya Mim
Sumaiya Mim
1 week ago


গরজে - গর্জন করে ৷
ভারা ভারা - ‘ভারা' অর্থ ধান রাখার পাত্র। এরকম পাত্রের সমষ্টি বোঝাতে এখানে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্ষুরধারা - ক্ষুরের মতো ধারালো যে প্রবাহ বা স্রোত ।
খরপরশা - ধারালো বর্শা। এখানে ধারালো বর্শার মতো ।
আমি - সাধারণ অর্থে কৃষক । প্রতীকী অর্থে শিল্পস্রষ্টা কবি । 
আমি একেলা - কৃষক কিংবা শিল্পস্রষ্টা কবির নিঃসঙ্গ অবস্থা।
চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা - ধানক্ষেতটি ছোট দ্বীপের আঙ্গিকে চিত্রিত। তার পাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। নদীর ‘বাঁকা' জলস্রোতে বেষ্টিত ছোট ক্ষেতটুকুর আশু বিলীয়মান হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এ অংশে। ‘বাঁকা জল’ এখানে অনন্ত কালস্রোতের প্রতীক ।
তরুছায়ামসী-মাখা  - ওপারের মেঘে ঢাকা গ্রামটি যেন গাছের ছায়ার কালো রঙে মাখানো।
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে -  ক্ষুরের মতো ধারালো জলস্রোতে গান গাইতে গাইতে যে মাঝি পারের দিকে এগিয়ে আসছে, রবীন্দ্র-ভাবনায় সে নির্মোহ মহাকালের প্রতীক । 
কোনো দিকে নাহি চায় - মহাকালের প্রতীক এই মাঝি নিরাসক্ত বলেই তার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিপাত নেই ।
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে - এই আগন্তুক মাঝি কৃষক বা শিল্পস্রষ্টা কবির হয়ত চেনা। কেননা, চেনা মনে হলেও কৃষক বা শিল্পস্রষ্টা কবির সংশয় থেকেই যায় ।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে ? - নির্বিকার মাঝির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কৃষক বা কবির চেষ্টা। ‘বিদেশ’ এখানে চিরায়ত শিল্পলোকের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে - চিরায়ত শিল্পলোকে ঠাঁই পাওয়ার জন্যই কৃষকরূপী কবির ব্যাকুল অনুনয় এখানে প্রকাশিত ।
আমার সোনার ধান - কৃষকের শ্রেষ্ঠ ফসল। ব্যঞ্জনার্থে শিল্পস্রষ্টা কবির সৃষ্টিসম্ভার।
আর আছে, আর নাই, দিয়েছি ভরে - ছোট জমিতে উৎপন্ন ফসলের সবটাই অর্থাৎ কবির সমগ্র সৃষ্টি তুলে দেওয়া হয়েছে মহাকালের স্রোতে ভেসে আসা সোনার তরী-রূপী চিরায়ত শিল্পলোকে ৷
থরে বিথরে - স্তরে স্তরে, সুবিন্যস্ত করে ।
এখন আমারে লহো করুণা করে - ফসল বা সৃষ্টিসম্ভার তুলে দেওয়া হয়েছে নৌকায়। এখন ফসল বা সৃষ্টির স্রষ্টা স্থান পেতে চায় ওই মহাকালের নৌকায় ।
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই ছোট সে তরী - সোনার তরীতে মহৎ সৃষ্টিরই স্থান সংকুলান হয় কেবল । ব্যক্তিসত্তা ও তার শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার ।
শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি - নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে আসন্ন ও অনিবার্য মৃত্যুর প্রতীক্ষার ইঙ্গিত। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন : “মহাকাল আমার সর্বস্ব লইয়া যায় বটে, কিন্তু আমাকে ফেলিয়া যায় বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে। ... সোনার তরীর নেয়ে আমার সোনার ধান লইয়া যায় খেয়াপারে, কিন্তু আমাকে লয় না ।”
 

Related Question

View All
  • মাত্রাবৃত্ত
  • অক্ষরবৃত্ত
  • স্বরবৃত্ত
  • মুক্তকছন্দ
1.5k
  • ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত
  • ধারালো ক্ষুর বিশেষ
  • ক্ষুরের মতো দেখতে
  • প্রবল স্রোত
3.6k
  • মাত্রাবৃত


  • অক্ষরবৃত

  • মন্দাক্রাস্তা


  • স্বরবৃত্ত

859
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই