নবাব আব্দুল লতিফ ছিলেন আধুনিক শিক্ষার আলোকে মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অন্যতম পুরোধা।
মুসলমানদেরকে পিছিয়ে পড়া অস্থান থেকে এগিয়ে নিয়ে তাদের রজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রেই প্রগতিমূলক ভাবধারা প্রসারের জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ যে আন্দোলনের সূত্রপাত করেন তা আলীগড় আন্দোলন নামে খ্যাত।
ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের কার্যক্রম হাতে নিয়ে স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলন পরিচালনা করেন। ইংরেজি শিক্ষার প্রতি বিমুখতা ও প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রতি অবহেলার ফলে ভারতবর্ষে মুসলমানরা ব্যাপক পিছিয়ে পড়েছিল। মুসলমানদের এ অবস্থা থেকে এগিয়ে নিয়ে তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রেই প্রগতিমূলক ভাবধারা প্রসারের জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ যে আন্দোলনের সূত্রপাত, করেন তা আলীগড় আন্দোলন নামে খ্যাত। আলীগড় আন্দোলন মুসলমানদের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।
১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তি স্বাক্ষরকালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ১৯৪০ সালের দ্বি-জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা জিন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়।
১৯১৩ সালে জিন্নাহর মুসলিম লীগে যোগদান এবং কংগ্রেসের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব ছিল এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। এই প্রেক্ষিতে ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌতে কংগ্রেসের নবম সভায় উত্থাপিত যুক্ত শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনার প্রস্তাবকে জিন্নাহ সমর্থন করেন। তিনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের কথাও সময় পেশ করেন। এছাড়া এ চুক্তির স্বাক্ষরকালে জিন্নাহ কংগ্রেস নেতাদের ও মুসলিম লীগের নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ওপর ইঙ্গিত প্রদান করেছিলেন।
অন্যদিকে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার প্রেক্ষিতে ১৯৪০ সালে লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে জিন্নাহ দ্বি-জাতিতত্ত্ব উত্থাপন করেন। তার মতে হিন্দু-মুসলিম দুটি পৃথক জাতি, জাতির যেকোনো সংজ্ঞা অনুযায়ী মুসলমান একটি জাতি। সুতরাং মুসলমানদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এবং সুন্দর জীবনযাপনের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র থাকা প্রয়োজন।
তাই বলা যায় যে, লক্ষ্ণৌচুক্তি স্বাক্ষরের সময়কার জিন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ঘোষণার সময়কার জিন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
উদ্দীপকে বর্ণিত অধ্যাপক পার্থের উপলব্ধি বিষয়ে আমি একমত পোষণ করছি।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্ন থেকেই তারা Divide and Rule Policy-এর প্রতি গুরুত্বারোপ করে। তাদের এ নীতির লক্ষ্য ছিল ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ধ্বংস করা। এ লক্ষ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করেছিলেন। এতে মুসলমানরা প্রথমে তাদের স্বাগত জানায় এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে হিন্দু সমাজ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
তবে ১৯১১ সালে এটি রদ করলে কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ সন্তুষ্ট হয়ে এবং মুসলমানরা ব্রিটিশদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া ১৯০৬ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী হিন্দু সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য ভারত সচিব লর্ড আর্লর বক্তৃতায় ভারতের আইন পরিষদের গঠনকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক করার জন্য ইঙ্গিত প্রদান করা হয়। এর ফলে ভারতের মুসলমানরা বিচলিত হয়।
কারণ ১৮৯২ সালের কাউন্সিল অ্যাক্টেও মুসলমানরা সন্তষ্ট হয়নি। বরং হিন্দুরা বেশি সুবিধা পেয়েছিল। এছাড়া ১৯১৮ সালের রাওলাট আইন, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন, গোলটেবিল বৈঠক হলেও এগুলো ছিল একপেশে নীতির দ্বারা প্রভাবিত। ফলে কিছু আইন দ্বারা মুসলমানরা সন্তষ্ট হয় এবং কিছু আইন দ্বারা হিন্দুরা সন্তুষ্ট হয়। যার ফলে অনেক সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাও শুরু হয়েছিল। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুসারে ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। এ আইনে হিন্দুরা ব্যাপক প্রাধান্য বিস্তার করে। এই প্রেক্ষিতে ১৯৪০ সালে মুসলিমরা দ্বি-জাতিতত্ত্ব পেশ করে। তাছাড়া ১৯৪২ সালের ক্লিপস প্রস্তাব ও ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাও ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। ফলে মুসলমানরা মন্ত্রিমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে, ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ভারতবর্ষে তাদের শাসন কর্তৃত্ব বজায় রাখা।
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!