রাতের বেলা বাঁশবাগানে বিস্তর জোনাকি দেখা যায়।
'আমি কোনো আগন্তুক নই'- কবি এ কথা বলেছেন জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও নিবিড় বন্ধনের বিষয়টি বোঝানোর জন্য।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই কবি সমগ্র দেশকে আপন করে পেয়েছেন। কবির কাছে দেশ মানে শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়, তাকে আপন সত্তায় গভীরভাবে অনুভব করা। কবি গ্রামীণ জীবনেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের মাঠ- ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানখেত, নদীর কিনার, জনপদের মানুষজন- এ সবকিছুই কবির অতি পরিচিত। কবি নিজেও তাদের কাছে চিরচেনা স্বজন একজন। এ কারণে তিনি নিজেকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' বলে পরিচয় দিয়েছেন।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি হলো এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলানিকেতন। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এ দেশকে। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ছবির মতো সারি সারি গ্রাম, সর্পিল নদী, দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, বনবনানী, পাখির ডাক সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দেশ।
উদ্দীপকে বাংলার সবুজ প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলায় সন্ধ্যার বাতাসে গুবরে পোকার উড়ে যাওয়া, রাতে শিমুলের ডালে পেঁচার ডেকে ওঠা, উঠানে শিশুর খইয়ের ধান ছড়িয়ে দেওয়া, রূপসার ঘোলা জলে ছেঁড়া পালে কিশোরের নৌকা বাওয়া, সাদা বকের মেঘের কোল ঘেঁষে নীড়ে ফেরা ইত্যাদি বাংলার রূপময় প্রকৃতিকে নির্দেশ করেছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতাও অনুরূপ প্রকৃতির বর্ণনা আছে। জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা পাখি, কার্তিকের ধান, নদীর কিনার, গ্রামীণ জনপদ, গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রভৃতি কবির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। এভাবে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
"উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্যে আমাদেরকে তার কাছে টানে। আমরা জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ। এই মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে আমরা এক এবং অভিন্ন। কারণ প্রকৃতি তার দান আমাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকেন। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।
উদ্দীপকে মৃত্যুর পর আবার স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। আর সেই সময় কবিকে কোথায় কীভাবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কবির চিরচেনা শ্যামল প্রকৃতির নানা বস্তুর মধ্যে নিজ অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির বাস্তব অবস্থান এবং তাঁর পরিচিত পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে আপন অস্তিত্বের শাশ্বত চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবি স্বদেশে ফিরে আসার কথা কল্পনা করেছেন। আর কবিতায় কবি বাস্তবে ফিরে এসে নিজ অবস্থানের দৃঢ়তাকে আরও মজবুত করতে বলছেন- 'আমি কোনো আগন্তুক নই'। এভাবে উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে চেতনাগত বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় স্বদেশের প্রেমে মুগ্ধ কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের কবির অনুভূতিও মাত্রা পেয়েছে স্বদেশকে ঘিরেই। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবের নয়, কল্পনার। উদ্দীপকের কবি কল্পনা করেছেন যে, মৃত্যুর পরও তাঁর চিরচেনা পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রতিদিনের কাজকর্মের নানা অনুষঙ্গের মাঝেই তাঁকে পাওয়া যাবে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি নিজেকে বাস্তব পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। কারণ তাঁর চিরচেনা পরিবেশের জনপদ, মানুষ, নানা অনুষঙ্গ তাঁর কাছে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ঐসব অনুষঙ্গও তাঁকে ভালোভাবে চেনে। এসব দিক বিচারে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি দেখা যায়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!