আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে 

জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়; 

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে; 

হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে; 

হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে; 

রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে 

ডিঙা বায়; রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে 

দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

রাতের বেলা বাঁশবাগানে বিস্তর জোনাকি দেখা যায়।

উত্তরঃ

'আমি কোনো আগন্তুক নই'- কবি এ কথা বলেছেন জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও নিবিড় বন্ধনের বিষয়টি বোঝানোর জন্য। 

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই কবি সমগ্র দেশকে আপন করে পেয়েছেন। কবির কাছে দেশ মানে শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়, তাকে আপন সত্তায় গভীরভাবে অনুভব করা। কবি গ্রামীণ জীবনেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের মাঠ- ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানখেত, নদীর কিনার, জনপদের মানুষজন- এ সবকিছুই কবির অতি পরিচিত। কবি নিজেও তাদের কাছে চিরচেনা স্বজন একজন। এ কারণে তিনি নিজেকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' বলে পরিচয় দিয়েছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি হলো এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। 

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলানিকেতন। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এ দেশকে। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ছবির মতো সারি সারি গ্রাম, সর্পিল নদী, দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, বনবনানী, পাখির ডাক সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দেশ।

উদ্দীপকে বাংলার সবুজ প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলায় সন্ধ্যার বাতাসে গুবরে পোকার উড়ে যাওয়া, রাতে শিমুলের ডালে পেঁচার ডেকে ওঠা, উঠানে শিশুর খইয়ের ধান ছড়িয়ে দেওয়া, রূপসার ঘোলা জলে ছেঁড়া পালে কিশোরের নৌকা বাওয়া, সাদা বকের মেঘের কোল ঘেঁষে নীড়ে ফেরা ইত্যাদি বাংলার রূপময় প্রকৃতিকে নির্দেশ করেছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতাও অনুরূপ প্রকৃতির বর্ণনা আছে। জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা পাখি, কার্তিকের ধান, নদীর কিনার, গ্রামীণ জনপদ, গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রভৃতি কবির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। এভাবে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্যে আমাদেরকে তার কাছে টানে। আমরা জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ। এই মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে আমরা এক এবং অভিন্ন। কারণ প্রকৃতি তার দান আমাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকেন। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।

উদ্দীপকে মৃত্যুর পর আবার স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। আর সেই সময় কবিকে কোথায় কীভাবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কবির চিরচেনা শ্যামল প্রকৃতির নানা বস্তুর মধ্যে নিজ অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির বাস্তব অবস্থান এবং তাঁর পরিচিত পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে আপন অস্তিত্বের শাশ্বত চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবি স্বদেশে ফিরে আসার কথা কল্পনা করেছেন। আর কবিতায় কবি বাস্তবে ফিরে এসে নিজ অবস্থানের দৃঢ়তাকে আরও মজবুত করতে বলছেন- 'আমি কোনো আগন্তুক নই'। এভাবে উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে চেতনাগত বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় স্বদেশের প্রেমে মুগ্ধ কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের কবির অনুভূতিও মাত্রা পেয়েছে স্বদেশকে ঘিরেই। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবের নয়, কল্পনার। উদ্দীপকের কবি কল্পনা করেছেন যে, মৃত্যুর পরও তাঁর চিরচেনা পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রতিদিনের কাজকর্মের নানা অনুষঙ্গের মাঝেই তাঁকে পাওয়া যাবে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি নিজেকে বাস্তব পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। কারণ তাঁর চিরচেনা পরিবেশের জনপদ, মানুষ, নানা অনুষঙ্গ তাঁর কাছে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ঐসব অনুষঙ্গও তাঁকে ভালোভাবে চেনে। এসব দিক বিচারে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি দেখা যায়।

359

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews