"উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্যে আমাদেরকে তার কাছে টানে। আমরা জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ। এই মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে আমরা এক এবং অভিন্ন। কারণ প্রকৃতি তার দান আমাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকেন। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।
উদ্দীপকে মৃত্যুর পর আবার স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। আর সেই সময় কবিকে কোথায় কীভাবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কবির চিরচেনা শ্যামল প্রকৃতির নানা বস্তুর মধ্যে নিজ অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির বাস্তব অবস্থান এবং তাঁর পরিচিত পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে আপন অস্তিত্বের শাশ্বত চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবি স্বদেশে ফিরে আসার কথা কল্পনা করেছেন। আর কবিতায় কবি বাস্তবে ফিরে এসে নিজ অবস্থানের দৃঢ়তাকে আরও মজবুত করতে বলছেন- 'আমি কোনো আগন্তুক নই'। এভাবে উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে চেতনাগত বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় স্বদেশের প্রেমে মুগ্ধ কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের কবির অনুভূতিও মাত্রা পেয়েছে স্বদেশকে ঘিরেই। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবের নয়, কল্পনার। উদ্দীপকের কবি কল্পনা করেছেন যে, মৃত্যুর পরও তাঁর চিরচেনা পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রতিদিনের কাজকর্মের নানা অনুষঙ্গের মাঝেই তাঁকে পাওয়া যাবে। আর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি নিজেকে বাস্তব পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। কারণ তাঁর চিরচেনা পরিবেশের জনপদ, মানুষ, নানা অনুষঙ্গ তাঁর কাছে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ঐসব অনুষঙ্গও তাঁকে ভালোভাবে চেনে। এসব দিক বিচারে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি দেখা যায়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!