আঠারো বছর বয়সে বিরাট দুঃসাহসেরা উকি দেয়।
আঠারো বছর বয়সে দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ তরুণদের মন আন্দোলিত করে যার ফলে আঠারো বছর বয়স ভীরু ও কাপুরুষ হওয়ার বয়স নয়।
আঠারো বছর বয়সে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে তরুণরা আত্মনির্ভরশীল হতে শেখে। মানবজীবনের এই পর্যায়ে ভালো ও মন্দের - পার্থক্য অনেক সময় তারা করতে পারে না। তবুও তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নতুন উদ্যোগের। বিরাট দুঃসাহসে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে এগিয়ে আসে এই তরুণরা। তারুণ্যের সাহসের প্রশংসা করতেই কবি উক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
উদ্দীপকের প্রথম তিনটি চরণের সাথে ১৮ বছর বয়স কবিতার আংশিক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
'আঠারো বছর বয়স' কৈশোর থেকে যৌবনে উপনীত হওয়ার এক ক্রান্তিকালীন সময়। অন্যের উপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার তাড়না অনুভব করে তরুণরা। এ সময় তারা সমস্ত বন্ধন ভেঙে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে। দেহ মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা ও জরাজীর্ণতা অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে তারুণ্য এগিয়ে চলে।
উদ্দীপকের প্রথম লাইনে তারুণ্যকে নতুন যৌবনের দূত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তরুণদের যৌবনে প্রাপ্ত কর্ম উদ্দীপনার মাধ্যমেই সমাজে পরিবর্তন আসে। এই তারুণ্য চঞ্চল এবং অদ্ভুত, চিরাচরিত সামাজিক রূপের সাথে যাদের মিল নেই। সব শৃঙ্খল ভেঙে এগিয়ে যাওয়াই তারুণ্যের ধর্ম। এদিক থেকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাথে উদ্দীপকের আংশিক মিল পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের 'আমরা বিদ্যুৎ' এবং 'আঠারো বছর বয়স' এর 'পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান' একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যগুলোর অবতারণা করেছেন। এ বয়সেই মানুষ দুঃসাহসী হয়ে ওঠে এবং নতুন শপথে বলিয়ান হয়। তাদের প্রাণের তীব্র যন্ত্রণা ও তারুণ্যের শক্তি এক হয়ে মানবতা এবং দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে। তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের।
উদ্দীপকে তরুণদের নবযৌবনের দূত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তারুণ্য নতুন যৌবন পেয়ে সব বাধা-বন্ধন ছিন্ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এই তরুণরা ভুল করে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে অগ্রসর হয়।
যৌবনেই মানুষ দৃপ্ত পায়ে অসম্ভবের অভিযানে বের হয়। তারুণ্যে এ সকল গুণাবলি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বিধৃত তারুণ্যের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলোরই ইঙ্গিত করে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। তরুণরা মুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে নিশ্চল, প্রথাবদ্ধ জীবন পিছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন দেখে। যা উদ্দীপকের কবিতাংশেও পরিলক্ষিত হয়। সবদিক বিবেচনা করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!