সোনার তরী' কবিতায় বর্ষা ঋতুর কথা বলা হয়েছে।
ধান কেটে অপেক্ষমাণ কৃষকের সামনে এক মাঝির আগমন হলে প্রথম দেখায় মাঝিকে তার পরিচিত বলে মনে হয়।
আলোচ্য কবিতায় বর্ষার বৈরী পরিবেশে বিপদাপন্ন এক কৃষককে কেন্দ্র করে কবিতাটির ভাবসত্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। সেখানে সোনার ধানরূপী কর্মফল নিয়ে কৃষক অপেক্ষমাণ। চারদিকে বর্ষার ক্ষুরধারা পানি ঘুরে ঘুরে খেলা করছে, যেন মুহূর্তেই ভাসিয়ে নেবে তাঁর ছোটো খেতটিকে। এমনই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে হঠাৎ সেখানে এক মাঝির আগমন হয়। মহাকালের প্রতীক এই মাঝিকে ব্যক্তিকৃষকের পরিচিত বলে মনে হতে থাকে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের প্রথমাংশের ভাববস্তুতে 'সোনার তরী' কবিতায় প্রকাশিত সৃষ্টিকর্মের মূল্যায়নের বিপরীতে শিল্পস্রষ্টা ব্যক্তির বিস্মৃত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় বর্ণিত সোনার ধান মূলত মানুষের সৃষ্টিকর্মের প্রতীক। কৃষক তাঁর জমি থেকে সোনার ধান কেটে অপেক্ষায় আছেন কখন তরী এসে ফসলসহ তাঁকে নিয়ে যাবে। অবশেষে কৃষকের কষ্টের ফসল সোনার ধান মহাকালের তরীতে স্থান পেলেও কৃষকের স্থান সেখানে হয়নি। বস্তুত, মানুষ শিল্পকর্মের কদর করলেও শিল্পদ্রষ্টার কথা কেউ মনে রাখে না।
উদ্দীপকের গীতিকবি নিজের সৃষ্ট গানের মাঝেই বেঁচে থাকতে চান। কেননা, বনে পাতার আড়ালে বসে গান করলেও আমরা গায়ক পাখির খোঁজ করি না বরং তার মিষ্টি গানই আমাদের কানে বাজে। আবার যে বীণার সুরেলা ঝংকার-সহযোগে গান পরিবেশিত হয়, আসরের শেষে সে-ই বীণাই আবার ধূলিতে গড়াগড়ি খায়। মুগ্ধ শ্রোতারা কেবল মিষ্টি সুরকেই হৃদয়ে ধারণ করে, পাখি বা বীণার কদর তারা করে না। অনুরূপভাবে 'সোনার তরী' কবিতাতেও এই অমোঘ সত্যটিই উন্মোচিত হয়েছে, মহাকালের দারুণ স্রোতে মহৎ সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকলেও শিল্পস্রষ্টাকে অবধারিতভাবেই কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে হয়, তাকে কেউ মনে রাখে না। আলোচ্য কবিতার এই ভাবনাই উদ্দীপকের কবিতাংশে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব আংশিক ধারণ করে।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি অত্যন্ত সাধারণ গ্রামীণ চিত্রপটের মাঝে এক গভীর জীবনদর্শনের অবতারণা করেছেন। কালের করালগ্রাসে মানুষ তার শারীরিক অস্তিত্ব হারায় কিন্তু তার সৃষ্টিকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না। 'সোনার তরী' কবিতায় চিত্রধর্মী রূপকের আড়ালে জীবনের এই অমোঘ সত্যটিই উপস্থাপিত হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নিজের সৃষ্টিকর্মকে ঘিরে কবির প্রত্যাশার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। মহাকালের স্রোতে কবি হারিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্ট গান যেন সবার মনে জেগে থাকে, এটাই কবির চাওয়া। তিনি লক্ষ করেছেন, জোছনার সৌন্দর্য সবাই উপভোগ করতে চাইলেও জোছনা বিকিরণকারী চাঁদকে তারা কামনা করে না। আবার গানের সুরে সবাই মোহিত হয়; কিন্তু বাদ্যযন্ত্রের দিকে তাদের নজর পড়ে না। তাই কবি নিজের পরিবর্তে তাঁর সৃষ্ট শিল্পকর্মের অমরতা প্রার্থনা করেছেন।
'সোনার তরী' কবিতায় এক গভীর জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়েছে, তা হলো- মানুষের কর্মই পৃথিবীতে টিকে থাকে, ব্যক্তিমানুষ নয়। অর্থাৎ মহৎ সৃষ্টিকর্ম কালের খেয়াতে স্থান পেলেও স্রষ্টাকে অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় অনিবার্যভাবে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য। অন্যদিকে, উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁকে ভালো না বাসলেও তাঁর গান তথা সৃষ্টিকর্মকে ভালোবাসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচ্য কবিতাটিতে প্রকাশিত মহাকালের কালস্রোতে সৃষ্টিকর্মের টিকে থাকার প্রসঙ্গটি ফুটে উঠেছে। তবে কবিতাটিতে ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরিণতি সম্পর্কে যে গভীর দর্শন প্রকাশিত হয়েছে, উদ্দীপকে তা প্রতিফলিত হয়নি। সে বিবেচনায় উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার অন্তর্ভাবনার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!