উদ্দীপকের প্রথমাংশের ভাববস্তুতে 'সোনার তরী' কবিতায় প্রকাশিত সৃষ্টিকর্মের মূল্যায়নের বিপরীতে শিল্পস্রষ্টা ব্যক্তির বিস্মৃত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় বর্ণিত সোনার ধান মূলত মানুষের সৃষ্টিকর্মের প্রতীক। কৃষক তাঁর জমি থেকে সোনার ধান কেটে অপেক্ষায় আছেন কখন তরী এসে ফসলসহ তাঁকে নিয়ে যাবে। অবশেষে কৃষকের কষ্টের ফসল সোনার ধান মহাকালের তরীতে স্থান পেলেও কৃষকের স্থান সেখানে হয়নি। বস্তুত, মানুষ শিল্পকর্মের কদর করলেও শিল্পদ্রষ্টার কথা কেউ মনে রাখে না।
উদ্দীপকের গীতিকবি নিজের সৃষ্ট গানের মাঝেই বেঁচে থাকতে চান। কেননা, বনে পাতার আড়ালে বসে গান করলেও আমরা গায়ক পাখির খোঁজ করি না বরং তার মিষ্টি গানই আমাদের কানে বাজে। আবার যে বীণার সুরেলা ঝংকার-সহযোগে গান পরিবেশিত হয়, আসরের শেষে সে-ই বীণাই আবার ধূলিতে গড়াগড়ি খায়। মুগ্ধ শ্রোতারা কেবল মিষ্টি সুরকেই হৃদয়ে ধারণ করে, পাখি বা বীণার কদর তারা করে না। অনুরূপভাবে 'সোনার তরী' কবিতাতেও এই অমোঘ সত্যটিই উন্মোচিত হয়েছে, মহাকালের দারুণ স্রোতে মহৎ সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকলেও শিল্পস্রষ্টাকে অবধারিতভাবেই কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে হয়, তাকে কেউ মনে রাখে না। আলোচ্য কবিতার এই ভাবনাই উদ্দীপকের কবিতাংশে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!