আর্থিক অনটনের কারণে নার্গিসকে নিজের সংসারে বেশ হিমশিম খেতে হয়। সংসারে সচ্ছলতা আনার আশায় অনেক চিন্তা- ভাবনা করে সে একমাত্র ভাই হাসমতকে বাবার রেখে যাওয়া বাড়িটা ভাগ করে তার নিজের অংশটা তাকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলে। স্বার্থপর হাসমত তাকে বাড়ির কোনো অংশ দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে নার্গিস প্রতিবেশীদের ডাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসমত প্রতিবেশীদের তোয়াক্কা না করেই নার্গিসকে মারধর শুরু করে।
জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আদল প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আদলের বিকল্প নেই। কেননা আদলই মানুষের প্রাপ্য অধিকার যথাযথভাবে আদায়ের কথা বলে। পক্ষপাতহীন যথার্থ বিচারই আদলের বাস্তব প্রতিকৃতি। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন- 'যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে তখন আদলের সাথে বিচার করবে।'
নার্গিসের প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করতে বা তার অধিকার হরণ করতে হাসমত যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে প্রত্যক্ষভাবে সে বোনের তীব্র রোষ ও ঘৃণার শিকার হয়েছে। বোনের ওপর ভাইয়ের যেমন অধিকার রয়েছে, ভাইয়ের ওপর বোনেরও অধিকার রয়েছে। ভাইবোনের এসব অধিকার আল্লাহ তায়ালা কর্তৃব্য নির্ধারিত। অন্যের অধিকার হরণ করা হারাম যা হাসমত তার বোনের ক্ষেত্রে করেন।
হাসমত প্রতিবেশীদের তোয়াক্কা বা সম্মান প্রদর্শন না করার কারণে তাদের ভালোবাসা ও সহানুভূতি হারিয়েছে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। নার্গিসের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ফলে নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নার্গিস তার প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য আইনের দ্বারস্থ হয়ে সফল হলে হাসমত তার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে এমনকি তাতে হত্যা করতেও পিছপা হবে না। অপরদিকে হাসমত বোনের অধিকার হরণের জন্য মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেবে, ঘুষ প্রদানের চেষ্টা করবে বা আবারও সন্ত্রাসের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করবে। আর নার্গিস বিফল হলে নার্গিস আইনের প্রতি আস্থা হারাবে এবং অভাব-অনটনে অসহায় জীবন কাটাবে। আর এ সবকিছুর জন্য হাসমত অনিবার্যভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।
না, আমি মনে করি যে, হাসমতের এমন জঘন্য অত্যাচার কোনোভাবেই ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়। কাউকে অন্যায়ভাবে অত্যাচার করা হারাম। অত্যাচারকারীর অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে আবির্ভূত হবে। অন্যের অধিকার হরণের জন্য অত্যাচারকারীর শাস্তি পেতে হবে। উদ্দীপকের হাসমত কর্তৃক তার বোনের ওপর অত্যাচারকে ইসলাম সমর্থন করে না। অধিকার হরণের জন্য হাসমত অসহায় নার্গিসের ওপর যে জঘন্য অত্যাচার করেছে তা সভ্য সমাজে সভ্য মানুষদের দ্বারা সংঘটিত হওয়া কোনোমতেই কাম্য নয়। কেননা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ ধরনের অমানবিক আচরণ প্রতিরোধ করতে কঠিন শাস্তির অঙ্গীকারপূর্বক নির্দেশ দিয়েছেন- 'মুমিনগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ ভোগ কর না। তবে পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে সম্পদ ভোগ করতে পায়। আর তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না (সুরা আন-নিসা: ২৯)। এ আয়াতদৃষ্টে পরিস্কার বোঝা যায় অধিকার হরণ প্রতিরোধের জন্য ইসলাম অন্যায়ভাবে সম্পদের ভোগ দখল হারাম করেছে। অধিকার হরণের
প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম পার্থিব ও পরকালীন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। হকদারদের কাছে তাদের হক সুচারুভাবে বুঝিয়ে দেয়াকে মুমিনদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। সবারই মনে রাখা উচিত অসদুপায়ে পার্থিব শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব হলেও পরকালীন শাস্তি থেকে বাঁচার কোনোই উপায় নেই। আর এ কথা সবাই মনে রাখতে পারলে সমাজে অধিকার হরণের মতো কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনাই থাকবে না।
মাকতাব )مكتب( শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ লেখার স্থান, শিক্ষা কেন্দ্র, বিদ্যালয় ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে মাকতাব বা মকতব হচ্ছে- ইসলামের মৌলিক শিক্ষালয়। মুসলিম শিশুদের ইসলামি শিক্ষার প্রাথমিক কেন্দ্র। একজন মুসলিম শিশু মায়ের কোল ছেড়ে ইসলামি শিক্ষার হাতেখড়ি এখানেই হয়। এ প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুরা ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করে। আরবি বর্ণমালার পরিচয়, যুক্ত বর্ণগঠন, শব্দ গঠনসহ বাক্য গঠন এখানেই শিখে। অতঃপর কুরআন শরীফ শিক্ষা গ্রহণ এই মকতব থেকেই হয়ে থাকে। মকতবের মাধ্যমেই কোমলমতি শিশুকে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এখানে পবিত্র কুরআন পাঠ শিক্ষার সাথে সাথে ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়।
ইমান, ইসলাম, সালাত, সাওম, হজ্জ ও অন্যান্য ইবাদত বিষয়ক শিক্ষা শিশুরা এখান থেকেই গ্রহণ করে থাকে। এখান থেকেই সালাত আদায় করার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনীয় আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, সত্য কথা বলার গুরুত্ব, নম্রতা, ভদ্রতা, সৌজন্য, বড়দের শ্রদ্ধা করা ও ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা এখান থেকেই লাভ হয়। শরীর মন পবিত্র করার শিক্ষা এখানেই গ্রহণ করে থাকে। শিশু বয়সে মকতবে অর্জিত শিক্ষা মানুষকে পরিণত বয়সেও ইসলামি তরিকায় জীবন যাপন করতে সহায়তা করে। এ প্রয়োজনবোধ থেকে প্রতিটি মহল্লায়, প্রতিটি গ্রামে ও জনপদে মসজিদের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র মকতব গড়ে উঠেছে। মকতব গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মকতব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে মুসলিম জন-সাধারণের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত হয়।
২. মকতবের ঐতিহাসিক পটভূমি
ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য ইসলামের প্রথম যুগেই পবিত্র মক্কা নগরীতে দারুল আরকাম নামক মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ইসলামি শিক্ষার সূতীকাগার হিসেবে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় রাসূল (স.) ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে মসজিদে দ্বীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা হতো। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় হিজরত করার পর মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে এর মধ্যে গড়ে তোলেন ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র। শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকল বয়সের জ্ঞান পিপাসুরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে আসতো। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হতে থাকে। আব্বাসী আমলের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক ও উচ্চ পর্যায়ের দুই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো মকতব। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানগণ স্পেন বিজয় করেন। সেখানে মুসলমানগণ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শুধু কর্ডোভাতেই ছিল দুইশত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭০টি কলেজ এবং ৭০টি পাবলিক লাইব্রেরি। ভারত বর্ষে মুসলিম শাসকগণ কয়েক শতক পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে এবং ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর থেকে এদেশে অসংখ্য দ্বিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে ও আলিম-উলামাগণের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে যেমন মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হতো, তেমনি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানও শিক্ষা দেওয়া হতো। মুঘল আমলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হতো মকতবে। শিশুর শৈশবের প্রথম পাঠ হিসেবে পবিত্র কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে শুরু হতো পাঠ্য জীবন। আর সে সময়ের বেশির ভাগ মকতব ছিল মসজিদ চত্বরে। অষ্টাদশ শতাব্দিতে ভারত বর্ষে প্রায় ৮০ হাজার মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত ছিল। ভারতে মুসলিম শাসনামলে শিক্ষার স্তর তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তর। ইসলামের মৌলিক ও নৈতিক শিক্ষা ছিল প্রাথমিক স্তরের অন্তর্ভুক্ত। মকতবেই মূলত এই প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হতো। এ থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ধারায় মকতবের গুরুত্ব অনেক বেশি।
৩. মকতবের কার্যাবলী
মকতবে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়। এই মকতবে কালিমা, সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি মৌলিক ইবাদত আদায় করার পদ্ধতি শিশুদেরকে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। মকতবেই শিশুদেরকে সালাতের নিয়ম কানুন, আহকাম-আরকান, ওয়াজিব, সুন্নাত, ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হয়।শৈশব থেকেই শিশুদেরকে মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস ও ইমান সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইমান আকিদা বিশ্বাস সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে এই মকতবই দিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রাথমিক মাসআলা-মাসায়িল সংক্রান্ত বিষয়াদি এই মকতব থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়। সুতরাং মকতবের কার্যাবলী মুসলিম জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৪. মকতবের প্রয়োজনীয়তা
মুসলিম জীবনে মকতবের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি। মকতব মুসলিম জীবনে ইমানের যে বীজ বপন করে। তা-ই একদিন মহীরূহ ধারণ করে। কাজেই মুসলিম সমাজ সকল যুগেই মকতব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছে। শিশুদের কোমলমতি মন হলো কাদা মাটির মতো। ইসলামের পথে চলার জন্য শিশুদের মকতবের শিক্ষাই বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক গুণাবলীর উন্নয়নই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। একজন শিশু মকতবের শিক্ষার মাধ্যমে এ সকল মানবীয় গুণাবলী অর্জন করতে পারে।
মকতবে পড়ালেখার মাধ্যমে শিশুর মনে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়। কাজেই মকতবের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বলা যায় যে, মকতবই শিশুদের ইমান ও নৈতিক ভীত গঠনের উপযুক্ত স্থান।
ইসলাম শিক্ষা-১ম পত্র-ড. মোঃ আমির হোসেন সরকার স্যারে লেখা বই
আল্লাহর একত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয় বলে ইসলামি সমাজব্যবস্থাকে তাওহিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বলা হয়। তাওহিদ ইসলামি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, আইনপ্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে অন্তরে বিশ্বাস ও মুখে স্বীকার করাকে তাওহিদ বলে। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। তাই ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড এ মৌলিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারে মুসলমানদের অবদান অপরিসীম। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা বিস্তারের মহৎ কাজটি রাসুল (স) তাঁর নিজ গৃহ থেকে সর্বপ্রথম শুরু করেন। তিনি হযরত আরকাম (রা) এর বাড়িতে 'দারুল আরকাম' নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রাসুল (স) মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববিকে উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে রূপ দেন। সাহাবিরাও শিক্ষা বিস্তারে বিরাট ভূমিকা রাখেন। আবু বকর (রা) কুরআন শরিফকে গ্রন্থাবদ্ধ করেন। উসমান (রা) কুরআন সংকলন করেন। উমর (রা) শিক্ষকদের সম্মানী নির্ধারণ করেন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সাহাবিদের বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেছেন। উমর বিন আব্দুল আজিজ (রা)-এর সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংকলন, বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, ফিকহ সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে 'বায়তুল হিকমাহ' নামে একটি বিজ্ঞানাগার তৈরি করেন।
ইবনে সিনা, আল রাযি, ইবনে রুশদ, ইবনে আব্বাস, ইমাম গাযযালি (র) অসামান্য অবদান রাখেন। গণিতশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান অবিস্মরণীয়। বীজগণিতের জনক মুসা আল খারিযমি। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা-বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানগণ অবদান রেখে গেছেন। তাদের দেখানো পথে বর্তমান বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়ন করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন করছেন।
বর্তমানে ইমামগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন। মক্তবে পাঠদান, জুমার উদ্দীপকে শিক্ষক পাঠদানকালে শিক্ষার্জনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) শিক্ষা অর্জনের যে তাগিদ দিয়েছেন তা উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সময়ে এরই ধারবাহিকতায় মসজিদের ইমামগণও আল্লাহ ও রাসুল (স) এর মিশন বিভিন্নভাবে সমাজে পরিচালিত করতে পারে তার দিকেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইমামগণ শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যা মসজিদে অথবা মসজিদের বাইরেও পরিচালিত হতে পারে। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা কুরআন, হাদিস, আদব-আখলাক, হালাল-হারাম ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তাছাড়া বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র বা গণবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যার দ্বারা সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ হোক ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই শিক্ষা অর্জন করবে এবং নিরক্ষরতা দূর করবে। ইমাম সাহেব প্রতি শুক্রবার সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খুতবায় আলোচনা করতে পারেন এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। ইমামগণ সেমিনার সিম্পোজিয়াম, পত্র-পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেও এই মহান কাজটি করতে পারেন। এভাবে তারা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে যেমন বিরত রাখতে পারেন তেমনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহ প্রদান করে শিক্ষা বিস্তারে মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারেন।
মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় একে ইসলামি সমাজের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। মসজিদকে কেন্দ্র করেই ইসলামি সমাজ গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয়। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষকে ইমান-আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম।