ইনস্যুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন, এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনস্যুলিন প্রথম জার্মানিতে ১৯২২ সালে ফ্রেডরিক গ্র্যাড বেন্টিং আবিষ্কার করেন এবং ১৯২৩ সালে তিনি এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান। ইনস্যুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো (আইলেটস অব ল্যাঙ্গাহেন্স-এর বিটা কোষ) থেকে নিঃসৃত হয় । মূলত ডায়বেটিস মেলাইটাস ও ইনস্যুলিন ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
ডায়াবেটিসের রোগীরা ইনস্যুলিন গ্রহণ করতে বেশ অস্বস্তি ও অনীহা বোধ করেন। অবশ্য সব সময় ডায়াবেটিসে ইনস্যুলিন নিতেই হবে, তা নয়। ইনস্যুলিন গ্রহণের নির্দিষ্ট কারণ ও নির্দেশনা আছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবনাচরণ পরিবর্তন ও নানা ধরনের ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিছু বিশেষ রোগীর বেলায় ইনস্যুলিন দরকার হয়। যেসব অবস্থায় ইনস্যুলিন নিতে হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. গর্ভাবস্থায় ও শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে ইনস্যুলিন। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে এবং আগে থেকে জানা ডায়াবেটিসের রোগী যদি মা হতে চান তবে সব ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে ইনস্যুলিন দিতে হবে।
২. ডায়াবেটিসের রোগীদের যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল মা শুকানোকে ত্বরান্বিত করাই নয়, নানা ধরনের জটিলতা এড়াতে এ পরিস্থিতিতে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি ইনস্যুলিন লাগতে পারে।
৩. বিভিন্ন গুরুতর রোগ যেমন: হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মারাত্মক কোনো সংক্রমণে (যেমন: যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফোড়া, গ্যাংগ্রিন ইত্যাদি) দ্রুত সেরে উঠতে ইনস্যুলিনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ। ৪. উচ্চ মাত্রায় কয়েকটি বা তিন ধরনের ওষুধ প্রায় সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করার পর কারও ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত
থাকলে একে ওরাল হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট ফেইলিওর বলে। এটা প্রমাণ করে তার ওষুধে আর কাজ হবে না,
কেননা তার অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনস্যুলিন উৎপাদন হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে তাকে ইনস্যুলিননির্ভর হয়ে যেতে হবে।
৫, কিডনি ও যকৃতের জটিলতা থাকলে ইনস্যুলিন ব্যবহার করতে হবে। জন্ডিস হলে সাময়িকভাবে ওষুধ বন্ধ রেখে ইনস্যুলিন দিতে হতে পারে।
৬. অনেকের প্রথমেই রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি ধরা পড়ে। রক্তে শর্করা ১৬৭ মিলিমোল বা ৩০০ গ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি বা গড় শর্করা এইচবিএওয়ান সি ১০ শতাংশের বেশি হলে ইনস্যুলিন দিয়ে আগে কমিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থায় ওষুধ কার্যকর নয়। বরং নানা জটিলতা ডেকে আনবে ।
৭. রক্তে শর্করা আকস্মিকভাবে অনেক বেড়ে গেলে ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস ও হাইপারঅসমলার কমা নামের জীবননাশী জটিলতা হতে পারে। এ রকম আশঙ্কা বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইনের মাধ্যমে ইনস্যুলিন দিতে হয় ৷
৮. টাইপ১ ডায়াবেটিসে ওষুধ কাজ করে না। এদের ইনস্যুলিননির্ভর হয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
Related Question
View All১. ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
২. ডায়াবেটিস হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরণের চোখের অসুখ হতে পারে। যেমনঃ চোখে ছানি পরা ।
৩. স্নায়ু পেশীর অসুস্থতা, প্যারালাইসিস, স্নায়ুবিক দুর্বলতা সহ বিভিন্ন রোগ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে দেখা যায় ৪. ডায়াবেটিস এর প্রভাবে মুখের বিভিন্ন রোগ দেখা যায়। যেমনঃ মাড়ির ক্ষয়, মুখে ঘা, দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁতের ক্ষয় ইত্যাদি।
ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
ডায়াবেটিস (বহুমূত্ররোগ) একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে শরীর রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এর প্রধান কারণ হলো ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা ইনসুলিনের কার্যকারিতার ঘাটতি।
ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলো হলো:
টাইপ-১ ডায়াবেটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ধ্বংস করে। ফলে ইনসুলিন উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এটি সাধারণত শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা যায়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: এই ধরনের ডায়াবেটিসে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তৈরি হওয়া ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা হ্রাস করে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নামে পরিচিত।
অন্যান্য কারণ:
হরমোনজনিত সমস্যা: কিছু হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ, যেমন স্টেরয়েড, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
চাপ ও মানসিক স্ট্রেস: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!